default-image

একে বইমেলা, তার ওপর শুক্রবারের বিকেল। তাই তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পর থেকে পা রাখার জায়গা পাওয়া ভার। কিন্তু গন্তব্য যখন বইমেলা, ভিড় ঠেলেই মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে হাজির হলাম।
এবারও অমর একুশে গ্রন্থমেলা চলছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান আর বাংলা একাডেমি মিলিয়ে। মেলায় ঢোকার মুখেই দেখা মিলল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র রাশেদুলের সঙ্গে। দুহাত ভর্তি বইয়ের ব্যাগ। এত্ত বই? অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করতেই রাশেদুল জানালেন, তিনি রীতিমতো আইন জারি করেছেন ফেব্রুয়ারি মাসে নাকি কাউকে বই ছাড়া অন্য কিছু উপহার দেবেন না! তাঁর মতে পয়লা ফাল্গুন, ভালোবাসা দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি—এই দিবসগুলো হবে কেবলই বইময়।

একটু ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখা গেল এক তরুণ এক স্টল থেকে অন্য স্টলে গিয়ে ঢুকছেন। কাছে গিয়ে জানা গেল তাঁর নাম রিয়াজুর। তিনি তাঁর ছোট ভাইয়ের জন্য বই খুঁজছেন। ছোট ভাই এবার জেএসসিতে ভালো ফল করেছে। ভাইটি নাকি ভীষণ ক্রিকেট-পাগল! শেষে সফল যারা খেলায় সেরা আর মুক্তিযুদ্ধের একটি উপন্যাস কিনে বাড়ি ফিরলেন।

সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে মেলায় লোকসমাগমও বাড়ছে। কেউ প্রিয়জনকে দেওয়ার জন্য বই কিনছেন, কেউ নিজের জন্য, আবার কেউ ব্যক্তিগত পাঠাগারের জন্য। যাত্রাবাড়ী থেকে তারেক-নাজিয়া দম্পতি এসেছেন বই কিনতে। তাঁরা বইমেলা থেকে বই কেনেন এবং সারা বছর সেসব বই উপহার দেন। প্রতি মাসে কারও না কারও জন্মদিন বা কোনো না কোনো অনুষ্ঠান থাকেই। তাই মেলা থেকে বই কিনে রাখেন। ‘কারণ, বই হলো সবচেয়ে প্রত্যাশিত উপহারের মধ্যে একটি।’ বলেন নাজিয়া।

কথা হয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা রাশেদুল হাসানের সঙ্গে। তিনি খোঁজ করছিলেন নবীন লেখকদের বই। তাঁর সঙ্গে এসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া মেয়ে নুসরাত। নুসরাত কিনেছেন বিজ্ঞানবিষয়ক প্রবন্ধ।
খানিক বাদে দেখা মিলল ঢাকা কলেজের সৌরভ, মাহিন, অমিত, রনি, সজল আর ওঁদের বন্ধুদের। ওঁরা দল বেঁধে এসেছেন নতুন নতুন বই কিনতে। সৌরভ বলেন, ‘আমরা প্রতিজ্ঞা করেছি, সবাই সবাইকে একটি করে বই উপহার দেব। তাই দল বেঁধে এসেছি।’

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে বেরিয়ে বাংলা একাডেমির দিকে পা বাড়াতেই দেখা মিলল এক তরুণের, এক ব্যাগ বই নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ফুটপাতে। সৌমেন দাস জানালেন, সারা বছরের টিউশনের বেতন জমিয়ে রাখেন বই কিনবেন বলে। মেলার শেষ দিকে আবার আসবেন পছন্দের বই কেনার জন্য। মৃদু হেসে বলেন, ‘বই কেনা এবং বই উপহার দেওয়া আমার প্রিয় শখ।’
হালকা শীতের সন্ধ্যারাতে প্রিয়জনের হাত ধরে শহরের মানুষজন আসছে বই কিনতে, পছন্দের বইটি হাতে নিয়ে খুশিতে ভেঙে পড়ছে,
রাজনৈতিক অস্থিরতার এই সময়ে এর থেকে সুন্দর দৃশ্য আর কি হতে পারে!

বিজ্ঞাপন
জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন