আজকের উন্নত বিশ্বের অনেক অঞ্চলের মানুষ যখন গুহাবাসী, বাঙালি তখন অনেক সৃজনকর্মেই স্বচ্ছন্দ। এর একটা বস্ত্রবয়ন। তুলা উৎপাদন থেকে সুতা কাটা, কাপড় বোনায় বাঙালি ছিল অতুলনীয়। তা–ও কেবল যেনতেন কাপড় নয়, উচ্চমানসম্পন্ন কাপড়ও বাঙালি সেই সময় থেকে বুনে আসছে। এমনকি তা বিভিন্ন দেশে রপ্তানিও যে হয়েছে, তার প্রমাণ মিসরের মমিতে পাওয়া মসলিন। সেই মসলিনের অসংখ্য শ্রেণিভেদেরই একটা জামদানি।

এই জামদানির অস্তিত্ব আজও রক্ষা করে চলেছেন আমাদের বয়নশিল্পীরা। বিশ্বের আদি বয়নশিল্পের হাতে গোনা যে কয়টি ধারা আজও টিকে রয়েছে, জামদানি তার একটি। এই বয়নের বৈশিষ্ট্য রীতিমতো মনোগ্রাহী। কারণ, আজ এই কাপড় বোনা হয়ে থাকে একেবারেই আদি তাঁতযন্ত্র—গর্ত তাঁতে, যা একেবারেই সরল। অথচ এই যন্ত্রেই বোনা হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ হাতে বোনা কাপড়। পরম্পরাগতভাবে বয়নশিল্পীরা এই নকশা বুনে থাকেন স্মৃতি থেকে। শুনে মুখস্থ করে নেন নকশা বোনার হিসাব। এভাবেই চলে আসছে এই বয়নরীতি। সত্যি বলতে কি, এই প্রকাশনার আগে এ নিয়ে কেউ মাথা ঘামায়নি। প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেই এ পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদ। ফলে কয়েক বছর আগে আমেরিকান অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশনের আর্থিক আনুকূল্যে কাজটি করা এই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে নকশাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর নমুনা বোনানোর পাশাপাশি নামগুলোর সঠিক অবয়ব আর নাম নিশ্চিত করা হয়। এভাবে সংগৃহীত অন্তত ২০০ নকশা থেকে মাত্র ৬৭টি এই বইয়ে রাখা সম্ভব হয়েছে।

default-image

তিহ্যবাহী জামদানি নকশা বইয়ের প্রকাশনায় আর্থিক সহায়তা করেছে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর। মুদ্রণে সহায়তা করেছে নিমফিয়া পাবলিকেশন। জামদানি নকশার মুদ্রিত সংকলন এর আগে আর কখনোই হয়নি। ফলে এই বইকে অনায়াসে সেদিক থেকে জামদানি নকশার প্রথম সংকলন বলা যেতে পারে। তবে এ বই কেবল নকশার সংকলন নয়, বরং রুবি গজনবী, হামিদা হোসেন ও চন্দ্রশেখর সাহার রচনা আমাদের বিশদে অবগত করে জামদানির ইতিহাস, এর বাণিজ্যিক দিক এবং জামদানি বয়নের কৌশলগত খুঁটিনাটি। কোনো সন্দেহ নেই, বইয়ের প্রতিটি নিবন্ধের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভান্ডার গবেষকদের জন্য বিশেষ সহায়ক হবে। বইটির মুখবন্ধ লিখেছেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সাবেক মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী। সম্পাদনায় অবদান রেখেছেন অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। মূল প্রকল্পের সমন্বয়ক ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদের সাবেক সভাপতি শাহিদ হোসেন শামীম। নকশা বই আকারে প্রকাশিত হওয়ায় তা বয়নশিল্পীদের জন্য বিশেষ সহায়কও হবে। এমনকি জামদানি নকশাকে মোটিফ হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও সুপ্রশস্ত হবে।

ঐতিহ্যবাহী জামদানি নকশা

সম্পাদনা পরিষদ: চন্দ্রশেখর সাহা, ফয়জুল লতিফ চৌধুরী, মুনিরা এমদাদ, রুবি গজনভী, শাহিদ হোসেন শামীম, শেখ সাইফুর রহমান,

হামিদা হোসেন।

প্রকাশক: বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদ ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর।

প্রকাশকাল:

দাম: ৩০০০ টাকা

বিজ্ঞাপন
জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন