default-image

আফ্রিকার সেই প্রবাদ 
‘যদি যেতে চাও গন্তব্যে দ্রুত, তবে যাও একা, আর যদি অনেক দূরে চাও যেতে, তাহলে যাও সবাইকে সঙ্গে নিয়ে’—আফ্রিকার এই প্রবাদটা প্রথম শুনেছিলাম রেডিওতে। কোনো কারণে এটা আমার মাথায় ঢুকে গেল। সময়টা ২০১১-১২ সাল। আমি তখন কম্পিউটার বিজ্ঞানে পিএইচডি এবং পোস্ট ডক্টোরাল ফেলোশিপ শেষে শুরু করেছি অধ্যাপনা। দুনিয়ার অপর প্রান্তে বসে থাকলেও বাংলাদেশ আর বাংলা ভাষা আছে মনেপ্রাণে সারাক্ষণ। বহুদিন ধরে বাংলা ব্লগিং বা বাংলা উইকিপিডিয়ার ওপরে কাজ করেছি। একাডেমিক পর্যায়ে বুয়েট আর যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও শিক্ষকতার সুযোগ পেয়েছি। আমার পেশা ও নেশা কম্পিউটার বিজ্ঞান, আর বাংলায় কম্পিউটার বিজ্ঞানে শিক্ষার সুযোগটা একেবারেই কম। সব পড়তে হয় ইংরেজিতে লেখা পাঠ্যবইতে। সে সময় পর্যন্ত আমি শিক্ষাদান করেছি কেবল শ্রেণিকক্ষেই, বুয়েটে স্বল্পকালীন শিক্ষকতা ছাড়াও দেশে বেড়াতে গেলে বুয়েটে সেমিনারে লেকচার দিয়েছি। ইচ্ছে করে আমার নিজের সামান্য জ্ঞানটুকু সবার কাছে বাংলা ভাষায় পৌঁছে দিই। কিন্তু এভাবে কতজনের কাছে জ্ঞানকে পৌঁছানো সম্ভব? খুব বেশি হলে জনা বিশেক, পঞ্চাশেক ছাত্রের কাছে, যাঁরা এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। দেশের হাজার হাজার, লাখ লাখ মানুষের কাছে কীভাবে পৌঁছাতে পারি জ্ঞানের আলো? এই ব্যাপারটা আসলে বেশ মাথা ঘামানোর মতোই। বাংলাদেশের মেধাবী প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীরা বিশ্বের সেরা সব জায়গায় আছেন, গুগল, আইবিএম, মাইক্রোসফট, নাসা থেকে শুরু করে অনেক সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা—সবকিছুতেই। কিন্তু আফ্রিকার সেই প্রবাদটা আমার মাথায় বারবার ঘুরে আসে, অনেক দূরে যেতে হলে এভাবে অল্প কয়েকজন মানুষের সুপারস্টার হয়ে ওঠায় কাজ হবে না, দেশকে অনেক দূরে নিতে হলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে যেতে হবে সেদিকে। সে জন্য চাই সবার কাছে এনে দেওয়া জ্ঞানের আলো। কিন্তু মানুষ হিসেবে আমার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ। চাইলেই বাংলাদেশের গ্রামেগঞ্জে বা মফস্বলে বিজ্ঞান শিক্ষা দিয়ে আসার সময় বা সামর্থ্য, কোনোটাই নেই। দেশের বহু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর কাছে আমার নিজের কম্পিউটার বিজ্ঞানের জ্ঞানটুকু পৌঁছে দিতে ইচ্ছা করে, কিন্তু কীভাবে?

যাত্রা হলো শুরু
আমি নিজে যেহেতু একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানী, তাই ভাবলাম পুরো সমস্যাটাকে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের মতো করে সমাধান করতে হবে। এবং এখানেই সমাধানটা পেলাম তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে—ইন্টারনেট এখন বাংলাদেশের অনেক জায়গাতেই পৌঁছে গেছে, তাই অনলাইনে একটা জ্ঞানের সম্ভার গড়ে তুলে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেব, এই লক্ষ্যে পড়লাম নেমে। অনলাইন শিক্ষা অবশ্য নতুন নয়, বেশ কয়েক বছর ধরেই edX, Coursera, uDacity, এসব মুক্ত শিক্ষার সাইটে অর্থাৎ Massive Online Open Courses (MOOC)-এ বিশ্বের বাঘা সব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকেরা পড়াচ্ছেন। তবে সমস্যা হলো—এসব জায়গায় শিক্ষার মাধ্যম হলো ইংরেজি ভাষা। বাংলাদেশে খুব বড়জোর ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজিতে লেখা পাঠ্যবই পড়ে ভালো করে বুঝতে পারে। অনেককেই হাতে অভিধান নিয়ে পড়তে বসতে দেখেছি। কাজেই এসব অনলাইন শিক্ষার সাইট বা MOOC থেকে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী খুব বেশি উপকৃত হচ্ছে না। তাই ঠিক করলাম, আমি পড়াব কেবল বাংলা ভাষাতেই, যাতে বাংলাদেশের সব শিক্ষার্থী পৃথিবীর সব জ্ঞানকে নিজের ভাষায় নিজের মতো করে বুঝে নিতে পারে। পরের সমস্যাটা অর্থায়ন ও কারিগরি বাধা। Coursera, edX, udacity—এদের সবার পেছনে কোটি কোটি ডলারের বিনিয়োগ আছে। এর ছিটেফোঁটাও আমার পক্ষে সম্ভব না। কী করা যায়? বহুদিনের ব্লগিং ও অন্যান্য কাজের অভিজ্ঞতাটা কাজে লাগল। ইন্টারনেট ঘেঁটে ঘেঁটে সব ফ্রি সার্ভিস খুঁজে বের করলাম, যেখানে ভিডিও, ছবি, লেকচার, নোট—এসব বিনা খরচে রাখা যায়। সব মিলিয়ে একটা সাইট গড়ে তুলতে খরচ পড়ল মাত্র ১৫ ডলার বা বাংলাদেশের হিসাবে এক হাজার ২০০ টাকার কম। ওয়েবসাইট ডিজাইনের কিছুই জানতাম না, কিন্তু দরকার হওয়াতে নিজেই খেটেখুটে কাজ সেরে নিলাম। প্রণবেশ দাস নামের একজন শিল্পীকে অনুরোধ করতেই তিনি সাইটের ব্যানারটা বানিয়ে দিলেন বিনা পারিশ্রমিকে

প্রথম কোর্স
প্রথম কোর্স শুরু করে দিলাম প্রথমে আমার নিজের গবেষণার বিষয় কম্পিউটার নিরাপত্তার ওপরে পড়াতে। লেকচারগুলোকে প্রকাশ করে ফেসবুকে কোর্সের কথা ঘোষণা করলাম। শুরুতে ভেবেছিলাম বড়জোর ৫০ জন ছাত্র পাব। কিন্তু অল্প কয় দিন পরে অবাক হয়ে গেলাম, আমার কোর্সে আড়াই হাজার শিক্ষার্থী যোগ দিলেন। কুইজের ব্যবস্থা করেছিলাম, এত বেশি মানুষ কুইজটা দিল যে আমার সাইট প্রায় ওভারলোডেড হয়ে বসে যাওয়ার দশা। আর তার চেয়েও অবাক কাণ্ড—বাংলাদেশের নানা জায়গা থেকে শিক্ষার্থীরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আমাকে বার্তা পাঠালেন। একজন লিখলেন, তাঁর কম্পিউটার বিজ্ঞান পড়ার ইচ্ছা ছিল ছোটবেলা থেকেই। কিন্তু এইচএসসি পাসের পর দারিদ্র্যের কারণে আর পড়তে পারেননি, এখন একটা কম্পিউটারের দোকানে অপারেটর হিসেবে কাজ করেন। আমার এই কোর্সটা তাঁর মনে নতুন আশা জাগিয়েছে। এ রকম বেশ কিছু বার্তা পাওয়ার পর বুঝলাম বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের কাছে ই-শিক্ষার খুব বড় একটা চাহিদা আছে।

বাংলাপাগল শিক্ষক তরুণের দল
কিন্তু সমস্যা হলো, আমি নাহয় কম্পিউটার বিজ্ঞানের কোর্স পড়াতে পারি, কিন্তু সবাই তো আর সেটাতে আগ্রহী না-ও হতে পারেন। ফেসবুকে সাহায্য চাওয়ামাত্রই আমাকে অবাক করে দিয়ে অনেকে এগিয়ে এলেন। দুই দিনের মধ্যেই তিনজনে তিনটা বিষয়ের ওপরে পড়ানোর কাজ শুরু করে দিলেন। আর এই সবার জন্য সব রকমের শিক্ষার সমাহার একসঙ্গে প্রকাশ করতে ২০১২ সালের আগস্টের ১ তারিখ থেকে শুরু হলো www.shikkhok.com এর যাত্রা। প্রথম মাসেই আমাদের ১০টা কোর্স শুরু হলো, আস্তে আস্তে এখন তা ৬০টিতে গিয়ে ঠেকেছে। শিক্ষক ডট কম-এ যাঁরা পড়ান, সবাই স্বেচ্ছাসেবী। নিজের আগ্রহে, বাংলা ভাষা আর শিক্ষার প্রতি ভালোবাসা নিয়ে এঁরা পড়িয়ে যান বিজ্ঞান, বাণিজ্য, প্রকৌশল, গণিত বা অন্য নানা সব বিষয়ের কোর্স। এঁদের মধ্যে আছেন শিক্ষক, বিজ্ঞানী, গবেষক, এমনকি একজন পেশাদার শেফও। আর আমাদের সব কোর্স সম্পূর্ণ বিনা মূল্যের—এখানে পড়তে পয়সা লাগে না, আর সবকিছুই পড়ানো ও বোঝানো হয় বাংলা ভাষায়।

৪২ লাখ লেকচার, বিনা মূল্যেই
স্বল্পখরচে ই-শিক্ষা গড়ে তোলার এই অভিনব প্রয়াসটি অল্পদিনের মধ্যেই বহু শিক্ষার্থীর নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রথম দুই বছরে শিক্ষকের লেকচারগুলো দেখা হয়েছে মোট ৪২ লাখ বার। আমাদের মোট ৬০০-এর মতো লেকচার আছে ৬০টি কোর্সের, সেগুলো দেখেছেন প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষার্থী। কোর্সগুলো নানা বিষয়ের এবং সব রকমের মানুষের জন্যই। যেমন আছে কম্পিউটার বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও তথ্যপ্রযুক্তির নানা কোর্স, তেমনি রয়েছে গণিতের কোর্স, বিদেশি ভাষা, দাবা খেলা ও ফটোগ্রাফি শেখার কোর্স। এমনকি রান্নার ফরাসি কৌশল শেখানোর একটা কোর্স পড়িয়েছেন আমেরিকার একটি বড় হোটেলের সিনিয়র শেফ। এমন অনেক কোর্স আছে, যেমন CCNA, শিক্ষা, মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, যা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পড়তে গেলে হাজার হাজার টাকা ফি দিতে হয়, শিক্ষক ডট কম-এ সেই কোর্সগুলো দেওয়া হচ্ছে সম্পূর্ণ বিনা খরচে। প্রতিদিন তাই হাজার হাজার শিক্ষার্থী আসেন এখানে। আসলে সব বয়সের সব পেশার মানুষের জন্যই কিছু না কিছু শেখার বিষয় আমরা রেখেছি, আর নিত্যনতুন জিনিস যোগ করে চলেছি।

এখন নজর স্কুলপর্যায়ে
আমরা এখন স্কুলপর্যায়ের কোর্স নিয়ে উদ্যোগ শুরু করেছি। স্কুল ও কলেজের গণিতের ওপরে আমাদের পাঁচটি কোর্স আছে। বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক এবং বিদ্যানন্দ নামে দুটি মুক্ত চেতনার সংগঠনের সঙ্গে সহযোগিতায় আমরা শুরু করেছি—লক্ষ্য আছে আগামী এক বছরের মধ্যে স্কুল ও কলেজপর্যায়ের সব কোর্স তৈরি করে ফেলা। এ জন্য অনেক মানুষের সাহায্য দরকার। শিক্ষক ডট কম-এ যে কেউ পড়াতে পারেন, কোনো বিষয়ে দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা থাকাই যথেষ্ট, সে জন্য পেশায় শিক্ষক হতে হবে না। আগ্রহীরা আমাকে ফেসবুকে বা ই-মেইলে কোর্সের তথ্য পাঠালেই কোর্স শুরু করে দিই, বিস্তারিত জানতে শিক্ষক ডট কম-এর ‘শিক্ষক হতে চান?’ পাতাটি দেখুন।

সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া
তবে একটা সমস্যা থেকেই যায়, গ্রামাঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থীর কাছেই ইন্টারনেট সহজলভ্য না, আবার ইন্টারনেটের উচ্চমূল্যটাও একটা সমস্যা। সেটা সমাধান করতে আমরা এখন আমাদের কোর্সের ভিডিওগুলো ডিভিডি আকারে বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছি, আর অল্প কয় দিনের মধ্যেই সেটা বাংলাদেশের সর্বত্র পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। আর যেখানে ইন্টারনেট নেই, সেখানে মোবাইল ফোনের দোকান এবং কেব্ল টিভি অপারেটরদের মাধ্যমেও আমাদের লেকচারগুলো দেখানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো যদি ফেসবুকের পাশাপাশি শিক্ষক ডট কম-এর লেকচারগুলো বিনা খরচে দেখার সুযোগ করে দিত, তাহলে অবশ্য আরও অনেক মানুষের কাছে আমাদের লেকচারগুলো পৌঁছে যেত।

মিলেছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
শিক্ষক ডট কম-এর কয়েকটি অভিনব দিক, তা হলো মাতৃভাষায় শিক্ষা এবং স্থানীয়ভাবে লেকচার বানানোর ওপর গুরুত্বারোপ। আমি জরিপ চালিয়ে দেখেছি, বাংলাদেশের প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী যেকোনো বিষয় বাংলাতেই শিখতে আগ্রহী, এমনকি যাঁরা ইংরেজি ভালো বোঝেন, তাঁরাও বাংলাতে লেকচার পেলে সেটাই দেখতে চান। আবার বাংলা কোর্সের ক্ষেত্রে ইংরেজি লেকচারকে বাংলায় ডাব করা নয়, বরং ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী চান বাংলাতেই বানানো লেকচার দেখতে। কাজেই অন্য অনেক আন্তর্জাতিক ই-শিক্ষার সাইট থাকলেও বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষক ডট কম পেয়েছে সাফল্য। আর আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও মিলেছে স্বীকৃতি—২০১৩ সালে গুগলের রাইজ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি, একই বছর ইনফরমেশন সোসাইটি ইনোভেশন ফান্ড অ্যাওয়ার্ড এবং ইন্টারনেট সোসাইটির কমিউনিটি পুরস্কার মিলেছে আমাদের। ২০১৪-এর আগস্টে এমআইটিতে অনুষ্ঠিত হয় ই-শিক্ষার সঙ্গে জড়িত শিক্ষক-গবেষক-উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক সম্মেলন। সেখানে শিক্ষক ডট কম-এর ওপরে গবেষণা নিবন্ধ উপস্থাপনের জন্য আমন্ত্রিত হয়েছিলাম। উন্নয়নশীল দেশে স্বল্প খরচে ই-শিক্ষা বিতরণের যে দৃষ্টান্ত আমরা স্থাপন করতে পেরেছি, সেটা সবার কাছে খুব সমাদৃত হয়েছে।

ভবিষ্যতের স্বপ্ন–একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ
শিক্ষক ডট কম এখন আমার স্বপ্ন, নেশা, ভালোবাসার একটা জায়গা। আমার নিজের পেশা, গবেষণা ও শিক্ষকতার ব্যস্ততার পাশাপাশি শিক্ষক ডট কম-এর পেছনে সময় দিয়েছি প্রচুর। আমার স্ত্রী জারিয়া এখানে অনেক সমর্থন দিয়েছে, অনেক সময় সাংসারিক কাজকর্ম বাদ দিয়ে হলেও শিক্ষক ডট কম-এর জন্য কাজ করেছি। কিন্তু এতে আক্ষেপ নেই, বরং আছে মানসিক প্রশান্তি। আমাদের সন্তান যায়ানের মতো হাজারো শিশু, কিশোর, তরুণ আছে বাংলাদেশের সর্বত্র—তাদের কাছে জ্ঞানের আলো পৌঁছে দিতে আমার সঙ্গে আছেন একদল বাংলাপ্রেমী শিক্ষক। এঁদের হাতেই গড়ে উঠেছে অনলাইনে বাংলায় মুক্ত জ্ঞানের আসর শিক্ষক ডট কম। তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে এখন ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালিতে থাকা একটি শিশুর সঙ্গে জামালপুরের আরেকটি শিশুর শিক্ষা লাভের সুযোগটা অনেকাংশেই কমে এসেছে। নাহ্, রাতারাতি দুনিয়া পাল্টে যায়নি, বাংলাদেশের নানা জায়গায় জাদুর চেরাগে সৌভাগ্য এসে দেয়নি ধরা। তাহলে কেন বলছি, শেখার সুযোগের এই সমতার কথা? এর কারণটা হলো, ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তি, যা দুনিয়ার সব জ্ঞান আর তাকে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগটা এনে দিয়েছে আমাদের হাতের মুঠোয়। শিক্ষক ডট কম-এর উদ্দেশ্য এটাই—সারা বিশ্বের সব জ্ঞানকে বাংলাদেশের সবার কাছে বাংলা ভাষাতেই পৌঁছে দেওয়া, সবার জন্য গড়ে তোলা বাংলা ভাষায় জ্ঞানের, শিক্ষার আনন্দমেলা।
ড. রাগিব হাসান: শিক্ষক ডট কম–এর প্রতিষ্ঠাতা ও সহকারী অধ্যাপক, কম্পিউটার বিজ্ঞান, ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা অ্যাট বার্মিংহাম, যুক্তরাষ্ট্র।

বিজ্ঞাপন
জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন