default-image

ইন্দোনেশিয়ার বালির সমুদ্রসৈকত আর সবুজ বৃষ্টি-বনের খ্যাতি দুনিয়াজোড়া। যত দূর চোখ যায় সারি সারি পামগাছ। বনের মাথা ছাড়িয়ে আগুন-পাহাড়ের চূড়া। চোখজুড়ানো সবুজ প্রকৃতির এই দৃশ্য দেখা চাই প্রকৃতির মধ্য থেকেই, প্রকৃতিকে বিপর্যস্ত না করে। এই ভাবনা থেকে নকশাবিদ ইলোরা হার্ডি এবং তাঁর দল বালির বনানীতে গড়ে তুলেছেন বিস্ময়কর স্থাপত্যশৈলীর কিছু অনিন্দ্য সুন্দর বাঁশের বাড়ি।

default-image

নিউইয়র্কে ফ্যাশন ডিজাইনারের জমজমাট পেশা ছেড়ে ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপপুঞ্জে চলে এসেছিলেন ইলোরা। আর এসেই শুরু করলেন পরিবেশবান্ধব ঘরবাড়ি নির্মাণের কাজ। অবশ্য কেবল পরিবেশবান্ধব বাড়িঘরই নয়; ইলোরা এবং তাঁর নকশাবিদ শিল্পীদের দল ‘ইবুকু’র কাছে এটা পুরোপুরি জীবনশৈলীর ব্যাপার। যেখানে এসব ঘরবাড়ির নির্মাণসামগ্রী থেকে শুরু করে জ্বালানিসহ সবকিছুতেই বিবেচনা করা হয় উপকরণগুলোর নবায়ন যোগ্যতার প্রশ্নটি।

default-image

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে চলে আসাটা ইলোরার জন্য অনেকটাই যেন বাড়ি ফেরা। কেননা ছোটবেলা থেকে মা-বাবার সঙ্গে এই বালিতেই বেড়ে উঠেছেন তিনি। বালিতে ফিরে যুক্ত হলেন গ্রিন স্কুল নামের একটা বিশেষায়িত স্কুলের সঙ্গে। ইলোরার বাবা জন হার্ডি এবং মা সিনথিয়া হার্ডি ওই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা। পেশায় গয়না-নকশাবিদ হলেও জন বরাবরই প্রকৃতির বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল ছিলেন। ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় এবং বিভিন্ন দেশের শিশু-কিশোররা এই ব্যতিক্রমী স্কুলে পড়ালেখা করছে। স্কুলের বনের পাশে নদীর ধারে দারুণ প্রাকৃতিক পরিবেশে এই স্কুলের ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’। ছাত্রছাত্রীদের আগ্রহ আর সম্ভাবনার বিচার করে আলাদাভাবে সবাইকে পাঠদান করা হয় এই স্কুলে।

default-image

পরিবেশ প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জীবনযাপনের সব সময় প্রকৃতিবান্ধব থাকার বিশেষ পাঠ নিয়ে বেড়ে উঠছে এই স্কুলের শিক্ষার্থীরা। বালির এই গ্রিন স্কুল ইতিমধ্যেই দুনিয়াজোড়া খ্যাতি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের পক্ষ থেকে ‘২০১২ সালে দুনিয়ার সবচেয়ে সবুজ বিদ্যালয়’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এর মধ্যে অন্যতম। মা-বাবার প্রতিষ্ঠিত এই গ্রিন স্কুল এবং প্রকৃতিবান্ধব জীবনধারাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কাজ শুরু করেন ইলোরা হার্ডি। স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক একদল দক্ষ শিল্পী ও কারিগরকে নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন ‘ইবুকু’ নামের একটা নকশাবিদ প্রতিষ্ঠান। যারা এই প্রকৃতিবান্ধব সবুজ জীবনধারাকে মানুষের সামনে তুলে ধরবে।

default-image

নকশাবিদ প্রতিষ্ঠান ইবুকুর প্রথম প্রকল্প বালির গ্রিন ভিলেজ। বালির স্থানীয় সংস্কৃতিতে পবিত্র নদী হিসেবে খ্যাত আইউং নদীর দুই পাশে বনের মধ্যে বিশেষ পরিকল্পনায় বানানো ১৮টি বাড়ি নিয়ে এই গ্রিন ভিলেজ। এখানকার প্রতিটি বাড়িই আলাদা নকশায় বিশেষভাবে তৈরি। তবে, সব বাড়িরই মূল উপকরণ বাঁশ। দুই, তিন এমনকি ছয়তলা বাড়িতেও বাঁশই দিয়েই গড়া হয়েছে মূল কাঠামো, মেঝে, সিলিং, দরজা, জানালা সব। এমনকি বাড়ির ভেতরের নানান আসবাবও প্রধানত বাঁশেই বানানো। আর গ্রিন স্কুলের মতোই গ্রিন ভিলেজের পুরো প্রকল্পটিই সৌরবিদ্যুৎচালিত।

default-image

বালির গ্রিন ভিলেজের সর্বশেষ সংযোজন ছয়তলা বাড়ি শর্মা স্প্রিংস। অসাধারণ নির্মাণ সৌকর্যে বানানো এ বাড়িতে কয়েকটা দিন কাটাতে অনেক পর্যটকই ভিড় করছেন বালিতে। বাঁশের বাড়ি বলে এই বাড়িগুলোর স্থায়িত্ব নিয়ে ভাবনার কিছু নেই। বালি আর জাভা দ্বীপে জন্মানো পেতাং নামের শক্ত এক প্রকার বাঁশে বানানো এই বাড়িগুলো অনায়াসেই ২৫ বছর টিকে থাকে। বাঁশগুলোকে বিশেষভাবে প্রক্রিয়াজাত করে নেওয়ায় এবং রোদ-বৃষ্টি থেকে রক্ষায় বিশেষ রাসায়নিকের প্রলেপ দিয়ে নেওয়ায় এই বাড়িগুলোর স্থায়িত্ব আরও অনেক বেশি হবে বলেই দাবি এর স্থপতিদের।
প্রতিবেদনটি তৈরিতে হাফিংটন পোস্ট, গ্রিনভিলেজবালি ডটকম, গ্রিনস্কুল ডট ওআরজি ও ইকোজিপসি ডট নেটের সাহায্য নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
আমরা বাড়ি বানাই, বাড়ি আমাদের বানায়

বিজ্ঞাপন
জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন