>
default-image
বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) গত ১৬ জুন পাটশাকের দুটি নতুন জাত অবমুক্ত করেছে। জাত দুটি আবিষ্কার করেছেন বিজেআরসি পাটবিষয়ক মৌলিক ও ফলিত গবেষণা প্রকল্পের বিজ্ঞানী জ্যাবলুল তারেক। জাতীয় বীজ বোর্ড স্বীকৃতি দিয়েছে ‘অঘোষিত ফসল’ হিসেবে। জ্যাবলুল তারেকের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাওয়াদুল আলম

পাট নিয়ে আপনার সাম্প্রতিক গবেষণা সম্পর্কে জানতে চাই?

জ্যাবলুল তারেক: সম্প্রতি আমি বুনো পাট থেকে বিজেআরআই দেশি পাটশাক-২ ও বিজেআরআই দেশি পাটশাক-৩ নামের পাটশাকের নতুন দুইটি জাত আবিষ্কার করেছি। ২০১৫ সালে রংপুরে প্রথম এই বুনো প্রজাতির শাকের খোঁজ পাই। স্থানীয়ভাবে এটি ম্যাড়া শাক নামে পরিচিত। সেখান থেকে আমি বীজ ও গাছ সংগ্রহ করি। এরপর টানা পাঁচ বছরের বেশি সময় এগুলো নিয়ে গবেষণা করেছি। যদিও শুরুতে উন্নতমানের পাটের আঁশ পাওয়ার উদ্দেশ্যে গবেষণা শুরু করেছিলাম।

নতুন জাতের পাটশাক কেমন?

জ্যাবলুল: নতুন জাতের গাছগুলো সাধারণ ঝোপালো আকৃতির। উচ্চতাও স্বাভাবিক পাটগাছের তুলনায় অনেকটা কম। ফলে এই দুই জাত থেকে তেমন কোনো আঁশ পাওয়া যায় না। তাই এ থেকে শুধু খাওয়ার শাকই পাওয়া যায়। বর্তমানে বাজারে যেসব পাটশাক পাওয়া যায়, সেগুলোর চেয়ে পুষ্টিগুণে এগিয়ে রয়েছে এ দুই জাতের শাক। এগুলো তিতা নয় বলে খেতেও সুস্বাদু।

default-image

এই পাটশাক আবাদ করে কৃষক কী সুবিধা পাবেন?

জ্যাবলুল: সাধারণত আমাদের কৃষকেরা যে পাট আবাদ করেন, সেগুলো মূলত বছরে একবারই ফলন দেয়। সেখান থেকেই শাক পাওয়া যায়। কিন্তু নতুন জাতের শাকগুলো শীতকাল ছাড়া বছরের যেকোনো মৌসুমে আবাদ করা যাবে। এ ছাড়া আগেই বলেছি, শাকগুলো রংপুরে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত ছিল। এই জাতগুলো আমাদের দেশের আবহাওয়া উপযোগী ও যেকোনো ধরনের মাটিতে চাষযোগ্য। ফলে সারা দেশে শাকগুলোর ফলন সম্ভব। অন্যদিকে ফলনও বেশ দ্রুত হয়। বীজ বপনের ২৫ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যেই শাক সংগ্রহের উপযোগী হয়। গাছগুলোর ঝোপালো আকৃতির কারণে একাধিবার পাতা সংগ্রহ করা যায়। ফলে এই শাক আবাদ চাষিদের জন্য বেশ লাভজনক হবে। 

নতুন জাতের কোনো স্বীকৃতি মিলেছে?

জ্যাবলুল: কৃষি মন্ত্রণালয়ের জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক ‘অঘোষিত ফসল’ হিসেবে বিজেআরআই দেশি পাটশাক-২ (ম্যাড়া লাল) ও বিজেআরআই দেশি পাটশাক-৩ (ম্যাড়া সবুজ)—এই দুটি নতুন জাত অনুমোদন পেয়েছে। এ ছাড়া গবেষণাপত্রটি ইতিমধ্যে গবেষণা সাময়িকী ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ভেজিটেবল সায়েন্স–এ প্রকাশিত হয়েছে। 

default-image

পাট নিয়ে এখন কোনো গবেষণা করছেন?

জ্যাবলুল: সম্প্রতি জাপানের একদল গবেষক দাবি করেছেন, পাটশাকে ক্যানসার–প্রতিরোধী কিছু উপাদান রয়েছে। আমার আবিষ্কৃত নতুন এ দুটি জাতেও ক্যানসার–প্রতিরোধী কোনো উপাদান পাওয়া যায় কি না, সেটি নিয়ে গবেষণা করছি।

বিজ্ঞাপন
জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন