default-image

বারান্দা থেকে কাপড় তুলে ঘরে ঢুকতে যাচ্ছিলাম; দেখি, আমাদের স্কুলের গার্ড কবির মামা ছাতা মাথায় স্কুল থেকে বাসায় যাচ্ছেন। ওমনি আমার হাসিটা মিলিয়ে গেল। মনটাও খারাপ হয়ে গেল। আহা রে স্কুল খোলা থাকলে এ রকম বৃষ্টির মধ্যে কত মজা করে বাসায় ফিরতাম! গত বছরের কথা মনে পড়ল। 

লাস্ট পিরিয়ডে ক্লাসরুমটা কেমন যেন অন্ধকার লাগছিল। ম্যাডাম সবগুলো লাইট অন করে দিলেন। হঠাৎ বজ্রপাতের শব্দ। আমরা সবাই একসঙ্গে ভয়ে চিৎকার করে উঠলাম। সঙ্গে সঙ্গে ছুটির ঘণ্টা। বাইরে বেরিয়ে দেখি, বড় বড় ফোঁটায় বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে।

কিছুক্ষণ পর দেখি, আমার মা রেইনকোট নিয়ে করিডরের শেষ মাথায় দাঁড়িয়ে আছে। আমি কাছে যেতেই রেইনকোট পরাতে পরাতে বলতে লাগল, ‘তাড়াতাড়ি চলো, রাস্তায় পানি জমে যাবে।’ 

তারপর আমি জুতা-মোজা খুলে ব্যাগে নিয়ে তিন বন্ধুর সঙ্গে বাসার দিকে রওনা হলাম। এত জোরে বৃষ্টি হচ্ছিল যে রাস্তায় ততক্ষণে হাঁটুপানি জমে গেছে। আমরা তিন বন্ধু এর-ওর গায়ে পানি ছিটাতে ছিটাতে বাসায় ফিরলাম। মা রেইনকোট খুলে দিতে দিতে বলল, ‘পুরো স্কুলড্রেস তো ভেজালি, শুধু শুধু রেইনকোট পরালাম কেন? ঠান্ডা না লাগলেই হয়।’

জ্বর অবশ্য আসেনি, তবে কয়েকটা হাঁচি হয়েছিল, এটা মনে আছে। তা যা-ই হোক, বৃষ্টিতে ভেজা যে কত মজা, তা সেদিন বুঝতে পেরেছিলাম। এ-ও বুঝেছিলাম কেন সবাই বৃষ্টিতে ফুটবল খেলে। এরপর কোনো দিন সুযোগ হলে আমিও বন্ধুদের সঙ্গে বৃষ্টিতে ফুটবল খেলব।

রাকিকা শাহলা
চতুর্থ শ্রেণি, এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজ, ঢাকা 

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন