default-image

ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে রক্তরাঙা কোমল হৃদয় আকৃতির কুশন, পুতুল, ফটোফ্রেম, রোমিও-জুলিয়েটের যুগল মূর্তি, হাতঘড়ি, টেবিলঘড়ি, চাবির রিং, ভালোবাসার পঙ্ক্তি বা বিখ্যাত উক্তি লেখা কাচের ফলক, মোমবাতি এমনকি সাবান পর্যন্ত বিস্তর উপহারসামগ্রীতে দোকান ভর্তি |
আশীষ-উর-রহমান
জ্বর তো মাপা যায়ই। রক্তে মিশে থাকা চিনি এবং তার চাপও মাপজোখ করে বের করা যায়। মানবহৃদয়ের সুকোমল অনুভূতি—ভালোবাসা যার নাম, তাকে কি আদৌ পরিমাপ করা যায়? কবি বলেছিলেন, ‘হৃদয় দিয়ে হৃদি অনুভব’। সে তো চলে আসছে বহুকাল থেকেই। কিন্তু হালের ডিজিটাল যুগে কি আর ওসব পুরোনো কথায় চিড়ে ভিজবে?
বিষয়টা মজার হলেও হৃদয়ানুভূতির প্রমাণ হাজির করতে পারবেন প্রেমিক-প্রেমিকারা। তেমন যন্ত্রও এসেছে বাজারে। এবারের ভালোবাসা দিবসে প্রেমের গভীরতা মাপার যন্ত্রটি উপহার হিসেবেও তুলে দিতে পারেন প্রেমিক-প্রেমিকারা পরস্পরের হাতে।
ভালোবাসা মাপার এই যন্ত্রটির খোঁজ পাওয়া গেল ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে বাজারে কেমন উপহারসমাগ্রী উঠেছে তার তালাশ করতে গিয়ে। এর নাম হলো ‘লাভ মিটার’। দেখতে সেই সাবেকি আমলের মতো বালুঘড়ির মতো। মাঝখানে সরু, দুই প্রান্ত চোঙের আকৃতির এক স্বচ্ছ কাচের পাত্র। নিচের অংশে রক্তলাল তরল। ওপরে নম্বর লেখা স্কেলের নকশা। পাত্রটির নিচের অংশ মুঠো করে ধরলে শরীরের তাপে রক্তিম তরল উষ্ণ হয়ে ভেতরের সরু পাইপ বেয়ে ওপরে উঠতে থাকে। আসলে পুরো জিনিসটিই মজার। কার্ডউপহারসামগ্রীর প্রতিষ্ঠান আর্চিস ভালোবাসা দিবসের মজার উপহার হিসেবে এনেছে এই ‘লাভ মিটার’।
উপহার দেওয়ার রীতি বহু পুরোনো। কবে থেকে, তা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। বলা হয়, ‘কারও কাছ থেকে বিনিময় ব্যতীত কিছু পাওয়াকে উপহার বলে।’ তবে সংজ্ঞা দিয়ে উপহারের সঙ্গে হৃদয়ের যে গভীর প্রীতি জড়িয়ে থাকে, তার তল খুঁজে পাওয়া মুশকিল। মানুষ নানা উপলক্ষে তার প্রিয়জনকে মৌখিক শুভেচ্ছা-সম্ভাষ জানানোর পাশাপাশি বস্তুগত কিছুও হাতে তুলে দিতে চায় প্রীতির প্রতীক হিসেবে। ফলে উপহারের বস্তুটির বস্তুগত মূল্য ছাপিয়ে দাতা ও গ্রহীতার কাছে তা ঢের মূল্যবান হয়ে ওঠে। সামান্য পরিণত হয় অসামান্যে।
পশ্চিমা রীতিতে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস উদ্যাপনের চল আমাদের এখানে সাম্প্রতিক। তরুণদের মধ্যে বাড়ছে এর জনপ্রিয়তা। ভালোবাসার মানুষকে এই দিনে উপহার দেওয়া, দিনের করণীয় এসব নিয়ে অনেক পরিকল্পনা থাকে অনেকের। আগে বিশেষ বিশেষ দিনে ‘কার্ড’ পাঠানোর চল ছিল। এখন নেই তা নয়, তবে প্রায় বিলুপ্তির পথে।
ঢাকার কার্ড প্রস্তুতকারীরা বিষাদমাখা কণ্ঠে জানালেন, মুঠোফোনের এসএমএস, অনলাইনের ই-মেইল তাঁদের দিবসভিত্তিক কার্ড ব্যবসায় লালবাতি জ্বালিয়ে দিয়েছে। পুরানা পল্টনের আজাদ প্রডাক্টসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোস্তফা কামাল ও আইডিয়াল প্রডাক্টসের ব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেন জানালেন, সাকল্যে হাজার খানেক ‘ভ্যালেন্টাইন কার্ড’ও বিক্রি হয় না। আগের এ সময় দোকানে লাইন পড়ে যেত। তা সত্ত্বেও ব্যবসার ধারা বজায় রাখতে কিছু কিছু কার্ড তাঁদের ছাপতে হয়। এবারও ছেপেছেন। দাম ২০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত।
হল-মার্ক, আর্চিস—এসব বিদেশি প্রতিষ্ঠানেরও কার্ডের বিক্রি তলানিতে। তবে তারা কার্ডের পাশাপাশি নানা রকমের উপহারসামগ্রী তৈরি করে। এগুলো বেশ চলে। নগরের বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে তাদের বিক্রয়কেন্দ্র। কর্ণফুলী গার্ডেন সিটির এ দুটি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কেন্দ্রে দেখা গেল ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে রক্তরাঙা কোমল হৃদয় আকৃতির কুশন, পুতুল, ফটোফ্রেম, রোমিও-জুলিয়েটের যুগল মূর্তি, হাতঘড়ি, টেবিলঘড়ি, চাবির রিং, ভালোবাসার পঙ্ক্তি বা বিখ্যাত উক্তি লেখা কাচের ফলক, মোমবাতি এমনকি সাবান পর্যন্ত বিস্তর উপহারসামগ্রীতে দোকান ভর্তি। এসবেরই অন্তর্ভুক্ত ‘লাভ মিটার’। উপহারসামগ্রীগুলোর দামও এমন আহামরি নয়, নাগালের ভেতরেই। ১০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। দাম যা-ই হোক, ভালোবাসা আর বিত্ত-বেসাতের ধার ধেরেছে কবে।

বিজ্ঞাপন
জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন