default-image

অনলাইন সম্মেলনটির সমাপনী টানলেন ট্রাভেলেটস অব বাংলাদেশ ভ্রমণকন্যার প্রতিষ্ঠাতা মানসী সাহা। আয়োজনের শেষ বেলায় অনেকটা শুরুর কথাই যেন তিনি বললেন, ‘ট্রাভেলেটস অব বাংলাদেশ ভ্রমণকন্যার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী মানেই আলোকচিত্র প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক আয়োজন, সদস্যদের মিলনমেলা। আমাদের প্রতিবছরের এই আয়োজন এবার বদলে দিয়েছে করোনা মহামারি। তবে সব খারাপের একটা ভালো দিক হয়তো থাকে। এত দিন আয়োজনটা হতো ঢাকাকেন্দ্রিক। অনেকে আসতে পারতেন, বেশির ভাগ সদস্যই সেটা পারতেন না। এবার সারা দেশে উদ্‌যাপিত হচ্ছে দিনটি, সবাই আনন্দ করছে।’

বিজ্ঞাপন
default-image

ট্রাভেলেটস অব বাংলাদেশ ভ্রমণকন্যা নারীদের ভ্রমণে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি সংগঠনটি নারীদের ক্ষমতায়ন নিয়েও কাজ করে। সংগঠনটির চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল আজ ২৭ নভেম্বর শুক্রবার। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্লোগান ছিল ‘আমরা মিলেই বাংলাদেশ’। করোনাকালে ঘরে বসেই অনলাইনে সম্মেলনে যোগ দেন ৬৪ জেলার স্বেচ্ছাসেবকেরা।

শুক্রবার সকাল ১১টায় শুরু হয় অনুষ্ঠানটি। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ভ্রমণকন্যার উপদেষ্টারা। সংগঠনটির আরেক প্রতিষ্ঠাতা সাকিয়া হক সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমের হালহকিকত তুলে ধরেন। দেখানো হয় ধারণকৃত নৃত্যও। একপর্যায়ে পাঠ করানো হয় শপথ বাক্য। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ, ভ্রমণে গিয়ে পর্যটন এলাকার স্থানীয় লোকজনের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা, নিজের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাসহ ১০টি বিষয়ের ওপর শপথ পাঠ করেন অংশগ্রহণকারীরা।

default-image

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে যোগ দেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। ভ্রমণকন্যাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ভ্রমণকন্যাদের শপথ বাক্য পাঠ শুনে আমি তো দারুণ উজ্জীবিত। শপথ বাক্যে যা আছে, সেটা যদি আমরা পালন করতাম বা পালন করতে পারি, তবেই আমাদের জীবনটা অনেক সুন্দর হতে পারে। আমি মনে করি, ভ্রমণকন্যাদের ভ্রমণ সবে শুরু। ভ্রমণকন্যা অনেক দূর যাবে।’

২৭ নভেম্বর অনলাইন সম্মেলন হলেও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন শুরু হয়েছে আরও কয়েক দিন আগে। প্রতিটি জেলার স্বেচ্ছাসেবকেরা নিজেদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ, কেক কাটা, অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষদের মধ্যে খাবার বিতরণ, শীতবস্ত্র বিতরণসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপন করেন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

বিজ্ঞাপন

ট্রাভেলেটস অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সাকিয়া হক বলেন, ‘২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর ভ্রমণকন্যার যাত্রা শুরু। মেয়েদের স্বপ্ন দেখানোর কাজই করছে ট্রাভেলেটস অব বাংলাদেশ ভ্রমণকন্যা। ফেসবুক গ্রুপে আমরা প্রায় ৫৬ হাজার সদস্য। সারা দেশে কাজ করছে ৭০০ স্বেচ্ছাসেবক। ৯০টি ভ্রমণ আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের সঙ্গে ঘুরে বেড়িয়েছেন কয়েক হাজার নারী। তাঁদের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আরও অনেক নারী বেরিয়ে পড়েছেন ঘুরতে।’

মন্তব্য করুন