মায়াদ্বীপে মিজ আয়ারল্যান্ড

বিজ্ঞাপন
default-image

ঋষিপাড়ায় ঢোকার শুরুতেই নাকে অচেনা গন্ধ এসে লাগে। প্রিয়তি বার কয়েক ইতিউতি তাকান। কেউ একজন পাশ থেকে বলে দেন ‘এই যে এখান থেকে ঋষিপাড়া শুরু।’ কথা শেষ হতেই দাঁড়িয়ে পড়ে গাড়ি। সুদূর আয়ারল্যান্ড থেকে মিজ আয়ারল্যান্ড-২০১৪ প্রিয়তি এসেছেন সুবর্ণগ্রাম ফাউন্ডেশন পরিচালিত স্কুল দেখতে। সেই স্কুলের একটি ঋষিপাড়ায়। তাঁর সঙ্গী হয়েছি আমরা। 

default-image

স্কুল অবধি পৌঁছাতে বেশ কয়েকটা গলি পেেরাতে হয়। ১৩ বছর ধরে আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে বাস করা মেয়েটি স্বচ্ছন্দেই হেঁটে চলেন ঋষিপাড়ার অলিগলি। এরই ফাঁকে গলির মুখের দরজা-জানালা থেকে উত্সাহী মুখগুলো উঁকি দিতে শুরু করেছে। আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যান সুবর্ণগ্রাম ফাউনেন্ডশনের প্রতিষ্ঠাতা শাহেদ কায়েস। গিয়ে থামেন বাঁশের তৈরি দোতলা বাড়ির সামনে। সেই বাড়ির জানালা গলে বেরিয়ে এসেছে শিশুদের মুখ।
বুঝতে একটুও অসুবিধা হয় না এটা আসলে বাড়ি নয়, স্কুল। প্রিয়তি সেই স্কুলের উঠোনটায় দাঁড়ালেন। এপাশ-ওপাশ নিচতলা-দোতলা থেকে একযোগে বলে ওঠেন ‘গুড মর্নিং ম্যাম’। প্রিয়তি চমকে ওঠেন। কতজনের কথার উত্তর দেবেন তিনি! হাত নাড়েন বার কয়েক। বলেন ‘থ্যাংক ইউ’।
যেতে যেতে সুবর্ণগ্রাম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শাহেদ কায়েস জানান, নারায়ণগঞ্জের সুবর্ণগ্রাম একটি অলাভজনক সংগঠন। সংগঠনটি ঋষি, বেদে, জেলে সম্প্রদায়ের শিশুদের পড়ালেখার জন্য নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় অবৈতনিক নয়টি স্কুল পরিচালনা করে। গত ২৩ অক্টোবর সেই স্কুলগুলো পরিদর্শনে যান মিজ আয়ারল্যান্ড খেতাবপ্রাপ্ত বাংলাদেশি মাকসুদা আকতার। যিনি বেশি পরিচিত প্রিয়তি নামে।
সুবর্ণগ্রাম ঋষিপাড়া মন্দির পাঠশালা। ঋষিপাড়ার সুবিধাবঞ্চিত শিশুরাই এখানকার শিক্ষার্থী। ঋষিপাড়ায় স্কুলের বাঁশের সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠে যান প্রিয়তি। আলাপের

default-image

শুরুতেই শাহেদ কায়েস জানিয়ে দেন নতুন অতিথির আগমনের কারণ। উত্সাহী শিশুরা নড়েচড়ে বসে। প্রিয়তি মুখ খোলেন, ‘তোমরা যারা বড় হতে চাও সবাইকে পড়াশোনা করতে হবে। যত বাধাই আসুক সবার আগে পড়াশোনা শেষ করতে হবে।’ সামিয়া ও মিনু, দুজনই পড়ে বেদেবহর ভাসমান পাঠশালায়। ওরাই ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাল প্রিয়তিকে। বেদেশিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এ স্কুল। অবশ্য ভাসমান সে স্কুলে পৌঁছাতে প্রিয়তিকেও নৌকায় ভাসতে হলো কিছুক্ষণ। এমন স্কুলে এমন সংবর্ধনা আনন্দের কি না, জানতে চাই প্রিয়তির কাছে। কানের পাশ দিয়ে নেমে আসা ঘাম মুছতে মুছতে প্রিয়তি উত্তর দেন, ‘আমি অভিভূত। শিশুদের নিয়ে এত সব আয়োজন এর আগে কখনো দেখিনি।’
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের বৈদ্যেরবাজার থেকে ৪০ মিনিটের পথ মায়াদ্বীপ। তবে এ ৪০ মিনিট যেতে হবে ইঞ্জিনচালিত নৌকায়। নৌকায় উঠে বসেন প্রিয়তি। এরই মধ্যে দুটি স্কুল ঘুরে এসেছেন।
ক্লান্ত হননি একটুও। মায়াদ্বীপে নেমেও ক্লান্তিহীনভাবে হেঁটে গেলেন স্কুল পর্যন্ত। প্রিয়তি বলছিলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য কিছু করা। মিজ আয়ারল্যান্ড হওয়ার পর দেশে আসার সুযোগ হয়নি। এবার এলাম, সুবর্ণগ্রাম ঘুরে যাওয়ার সুযোগ পেলাম। এটা সত্যিই আনন্দের।’

default-image
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন