বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২০১৮ সালে প্রকাশিত ন্যাশনাল হাইজিন বেজলাইনের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে এমন ৯০ শতাংশ মেয়ে মাসিক সম্পর্কে কোনো ধারণাই রাখে না। অথচ আমাদের দেশের মেয়েদের ১০ থেকে ১৩ বছরের মধ্যেই মাসিক হয়। এ ছাড়া ৪২ শতাংশ বিদ্যালয়ে শৌচাগারে পানির ব্যবস্থা থাকে না। আর বিদ্যালয়ে সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় মাসিকের সময়ে ৩০ শতাংশ কিশোরী বিদ্যালয়েই যায় না। এ সমীক্ষায় আরও বলা হয়, ২৮ শতাংশ মেয়েদের এ সময় তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। এতে পরীক্ষা থাকলেও তারা উপস্থিত থাকতে পারে না।

ডা. সামিনা চৌধুরি বলেন, মাসিক হওয়া মেয়েদের জীবনে একটি স্বাভাবিক বিষয়। আবার মাসিক হলে ব্যথা হওয়াও স্বাভাবিক কিন্তু যদি ব্যথা সহনীয় মাত্রায় থাকে। মাসিক নিয়ে বেশ কয়েকটি সমস্যা আছে। মাসিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা না থাকলে এ সমস্যা আরও বাড়ে। তাই শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে মাসিক সুরক্ষার বিষয়টি আসা একান্ত জরুরি। স্যানিটারি ন্যাপকিন কতবার বদলাতে হবে, শৌচাগার ব্যবহার করে পরিষ্কার থাকার বিষয়গুলো মেয়েদের জানতে হবে। কারণ, রক্তের মাধ্যমে জীবাণু তলপেট আক্রান্ত করে। বিশেষ করে ছয় ঘণ্টার বেশি সময় একই ন্যাপকিন ব্যবহার করলে। এতে তলপেটে ব্যথাসহ বন্ধ্যাত্বের মতো সমস্যা হতে পারে। তাই পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমেই মাসিকে সুরক্ষা ও করণীয় সম্পর্কে জানাতে হবে।  

ডা. রওশন আরা বেগম বলেন, মাসিক হলে তা পরিবারের মধ্যেও লুকিয়ে রাখার প্রবণতা থাকে। পরিবারের পুরুষ সদস্যদের এ বিষয়ে কিছুই জানানো হয় না। অথচ মাসিকের সময় একটি মেয়ের সব থেকে বেশি দরকার মানসিক ও শারীরিক সহযোগিতা। তাই পরিবার থেকে আগেই মাসিক সম্পর্কে প্রয়োজনীয় শিক্ষা দেওয়া জরুরি। এমনকি মাসিকের সময় ব্যবহার করা কাপড়টিও হয় একেবারে অপরিষ্কার। তা পরিষ্কার করা ও শুকানোর পদ্ধতিটিও একেবারে অস্বাস্থ্যকর। এখন পুনর্ব্যবহারযোগ্য স্যানিটারি ন্যাপকিনও পাওয়া যায়, যা স্বল্প মূল্যে গ্রাম ও শহরের বিদ্যালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রাখার ব্যবস্থা করা উচিত। এ ছাড়া পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে শিক্ষকেরা মাসিকের সমস্যা নিয়ে প্রাথমিক কিছু বিষয় আলোচনা করতে পারেন। এতে মেয়েদের মানসিক শক্তি অনেকটাই বাড়ে।

 ডা. এ কিউ এম শফিউল আজম বলেন, মাসিকের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটিকে সমাজগত ও পরিবারগত দিক দিয়ে সহজভাবে নেওয়ার বিকল্প নেই। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে কিশোর শিক্ষার্থীদেরও এ বিষয়ে জানা দরকার। মাসিককে কোনোভাবেই সামাজিক ট্যাবু বা লজ্জার বিষয় বানানো যাবে না। বিদ্যালয়ে যে বিষয়গুলো পড়াতে অনীহা দেখানো হয়, তা কার্টুনের মধ্যমে পড়ানোর একটি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

default-image

মেয়েদের মাসিকের নানা সমস্যা নিয়ে স্কুল হেলথ ক্লিনিক একটি ভালো সমাধান হতে পারে। ডা. রওশন আরা বেগম বলেন, বিদ্যালয়ে এই ব্যবস্থা থাকলে মেয়েরা লজ্জা ভেঙে তাদের মাসিক সম্পর্কিত সমস্যাগুলো বলতে পারবে।

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন