শহুরে জীবন

মিঁউ মিঁউ আদরে

বিজ্ঞাপন
default-image

আদুরে মিঁউ মিঁউ ডাক, বারবার গা ঘেঁষে আদর পেতে চাওয়ার অনুনয় কার না ভালো লাগে! বাড়িতে একটা বিড়াল থাকা মানে ঘরময় একটা আদর–আদর ব্যাপার চলে আসা। দিন শেষে ঘরে ফেরার পর আপনাকে স্বাগত জানায়। আদর পাওয়ার জন্য পায়ে-পায়ে ঘুরে বেড়াতে জুড়ি নেই এদের।
দীর্ঘদিন থেকে বিড়াল লালনপালন করছেন পীয়্যান মুগ্ধ নবী। আলাপের শুরুতেই তিনি বলে বসলেন, ‘বিড়াল এমন এক প্রাণী, যাকে পালন করতে গেলে কয়েক দিনের মাথায় কনফিউজড হতে হয়, ঠিক কে কাকে লালনপালন করছে, আপনি বিড়ালকে নাকি বিড়াল আপনাকে!’ তবে এই আদুরে প্রাণীকে বেশ যত্ন–আত্তি করতে হয়। বিড়ালকে পরিবারের সদস্য হিসেবেই যত্নে রাখতে হয়। সাধারণ মানুষ থেকে তারকা অনেকেরই প্রিয় সঙ্গীর তালিকায় আছে বিড়াল।

বিড়ালের যত্ন
বিড়াল স্বভাবগতভাবেই পরিচ্ছন্ন প্রাণী। তারপরও তার পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার দিকে রাখতে হবে বিশেষ খেয়াল। প্রতি মাসে নিয়মিত বিরতিতে বিড়ালকে অন্তত দুই থেকে তিনবার গোসল করাতে হবে। বিড়াল যেহেতু পানি সংস্পর্শ পছন্দ করে না, গোসলের সময় তাই বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হতে পারে। বিশেষ করে শীতকালে গোসল করার আগে রোদেলা দিন বেছে নিন। যাতে করে গোসল শেষে তাকে রোদে রাখা যায়। এতে বিড়ালের অসুখ হওয়ার আশঙ্কা বেশ কমে যায়। গোসলের সময় লোমের ময়লা দূর করার জন্য বিড়ালের জন্য বিশেষায়িত শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। গোসল শেষে বিড়ালের লোম ভালোভাবে মুছে দিন। তারপরও বিড়ালের শরীরে পানি লেগে থাকলে সে নিজেই চেটে নিজের শরীর পরিষ্কার করে ফেলবে।

বিড়ালের খাওয়াদাওয়া
বিড়ালকে প্রতিদিন সঠিক পরিমাণে খাবার ও পানি সরবরাহ করতে হবে। বাচ্চা বিড়ালের বেলায় এ ব্যাপারে বেশি সচেতন থাকতে হবে। বিড়াল বাচ্চার বয়স যদি দেড় মাসের কম হয় তাহলে তরল খাবার দেওয়ার চেষ্টা করুন। দেড় মাসের বেশি বয়সী বিড়ালকে মসলা ছাড়া সেদ্ধ মাছ ও মাংস দিতে পারেন। বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ক্যাট ফুড পাওয়া যায়। সেটিও আপনার বিড়ালকে খাওয়াতে পারেন।
সানজিদা সামিহা বিড়ালপ্রেমী। বিড়ালের সংখ্যা ৫টি। সামিহার ভাষ্যমতে, বিড়ালকে মাছ আর মাংস খাওয়াতে যা খরচ হয়, সেই টাকা দিয়ে ক্যাটফুড কিনে খাওয়ানো যেতে পারে। তবে বিড়ালকে দুধ খাওয়ানোর প্রচলন অনেক পুরোনো হলেও গবেষণায় দেখা গেছে, দুধের কিছু উপাদানের কারণে বিড়ালের ডায়রিয়া হতে পারে।

বিড়ালের অভ্যাস গড়ে তোলা
বিড়াল পোষার আগে অনেকেই ভেবে চিন্তিত হন যে বিড়ালের মলমূত্র ত্যাগ করা নিয়ে। কোথায় না কোথায় করে ঘরবাড়ি নোংরা করে ফেলে। একটু চেষ্টা করলেই বিড়ালকে নির্দিষ্ট স্থানে মলমূত্র ত্যাগ করানোর অভ্যাস করানো অর্থাৎ ‘পটি ট্রেইনড’ করা যায়। তবে এ অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে বিড়ালের জন্মের পর থেকে। বাজারে প্যাকেটজাত লিটার পাওয়া যায়। এই লিটার বক্সে বিড়াল মলমূত্র ত্যাগ করবে। তবে খেয়াল রাখবেন যেন নিয়মিত লিটার পরিষ্কার করা হয়। একটি গামলা বা যেকোনো পাত্র ব্যবহার করে এর ভেতরে বালু, কাগজের টুকরা দিয়ে সহজে বানিয়ে ফেলতে পারেন বিড়ালের লিটার বক্স। এরপর আপনার বাসার নির্দিষ্ট স্থানে রাখুন। অনেকে একদম শুরু থেকেই বিড়ালকে বাসার বাইরে বিড়ালকে মলমূত্র ত্যাগ করার অভ্যাস করান। ফলে বিড়ালের মলমূত্র ত্যাগের সময় হলেই সে বাসার বাইরে গিয়ে মলমূত্র ত্যাগ করে আসে।

ওদের চিকিৎসা
বিড়ালকে রোগমুক্ত রাখতে হলে প্রাণিচিকিৎসক বা ভেটকে দেখিয়ে বিড়ালের নিয়মিত চেকআপ করানো উচিত। বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের টিকা সময়মতো দিলে অসুখ–বিসুখের আশঙ্কা কমে যায়। বিড়ালের চিকিৎসার জন্য ঢাকার গুলিস্তানে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের বিপরীতে রয়েছে কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতাল। এ ছাড়া পোষা প্রাণীদের জন্য বেশ কিছু বেসরকারি ক্লিনিক এবং ভেটেরিনারি ডাক্তারের চেম্বার রয়েছে।
প্রাণিচিকিৎসক ডা. আজমত আলী বাসায় বিড়াল পালন নিয়ে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিড়ালকে নিয়মিত বিভিন্ন রোগের টিকা দিতে হবে। যাতে করে রোগবালাই কম হয়। এর মধ্যে খুব জরুরি হচ্ছে র​্যাবিসিন ভ্যাকসিন দেওয়া। এটি জলাতঙ্ক রোগ থেকে রক্ষা করে।

ফেসবুকেও আছেন বিড়ালপ্রেমীরা
ফেসবুকে বিড়ালপ্রেমীদের বেশ কিছু পেজ আছে। এমনই একটি পেজ ‘ক্যাট সোসাইটি অব বাংলাদেশ’— প্রায় দেড় লাখ বিড়ালপ্রেমীর এক মিলনমেলা। ঘরে যাঁরা বিড়াল পোষেন, তাঁরা নিয়মিত ঘরের বিড়ালের ছবি পোস্ট করেন, মজার সব অভিজ্ঞতা বলেন। একই সঙ্গে পোষা বিড়ালের অসুখবিসুখ থেকে শুরু করে সবকিছু নিয়েই পরামর্শ আদান-প্রদান করা হয়। আছে কেয়ার ফর প’স নামের আরেকটি চমৎকার উদ্যোগ। এই সংগঠন মূলত কুকুর-বিড়ালের সুরক্ষা নিয়ে কাজ করে। এ ছাড়া আরও আছে অভয়ারণ্য— বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন এবং নারায়ণগঞ্জের এ এল বি
শেল্টার। পারসিয়ান বিড়ালপ্রেমীদের রয়েছে ফেসবুক গ্রুপ। পার্সিয়ান ক্যাট সোসাইটি অব বাংলাদেশ নামে এ গ্রুপের সদস্য ৬৫ হাজারের বেশি।

আরও কিছু তথ্য
বাসায় বিড়াল আনার পর খেয়াল করুন আপনার বাসার জানালা দিয়ে বিড়াল বের হতে পারে কি না। কারণ, অনেক সময় জানালা দিয়ে বিড়াল নিচে পড়ে গিয়ে আহত হতে পারে। বাসায় ঘুরতে আসা অতিথিরা যদি বিড়াল পছন্দ না করেন, তাহলে আপনার বিড়ালকে অন্য ঘরে রেখে দরজা আটকিয়ে রাখতে পারেন। অনেকেই ভাবেন বিড়ালের লোম বাসা অপরিষ্কারের কারণ হতে পারে। তবে এটা নিয়ে এত চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই, কারণ নিয়মিত গোসল এবং চিরুনি দিয়ে আঁচড়িয়ে দিলে লোম কম ঝরে।

ঢাকায় পোষা প্রাণিচিকিৎসার কয়েকটি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও প্রাণিচিকিৎসকের নাম ও ঠিকানা
● কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতাল, ৪৮ কাজী আলাউদ্দিন রোড, গুলিস্তান।
● কেয়ার ফর প’স ধানমন্ডি।
● ড. সিয়ামাক’স পেট ক্লিনিক উত্তরা।
● প লাইফ কেয়ার লালমাটিয়া, ঢাকা।
● অভয়ারণ্য, মহাখালী।
● ডা. মো. আজমত আলী গুলশান ২।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন