আবার জমল মেলা। বইমেলা। ফেব্রুয়ারি মাসটায় কেনা হয় অনেক বই। কেনা এবং পড়ার মাঝে যত্ন নেওয়া হয় কম। নিত্যকাজের ব্যস্ততায় সঠিকভাবে সংরক্ষণও করা হয়ে ওঠে না। তবে একটু সচেতনতায় কিন্তু সহজেই যত্ন নিতে পারি আমরা বইয়ের। বই পড়ার সময় কিংবা শেলফে সংরক্ষণের সময় কীভাবে যত্নআত্তি নিতে হবে এমন নানা পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রকল্প সমন্বয়কারী কামাল হোসাইন।

default-image

যখন বই পড়ব
. বই পড়ার সময় আমরা অনেক সময় নিজেদের সুবিধামতো কলম বা পেনসিলে দাগ দিয়ে থাকি। ব্যক্তিগত বই না হলে এই বই পড়তে অন্যের সমস্যা হয়। তাই খুব প্রয়োজন না হলে দাগ কাটা থেকে বিরত থাকতে হবে।
. বইয়ের পাতা ওল্টানোর সময় অনেকে থুতু ব্যবহার করেন। এটা অস্বাস্থ্যকর। এতে করে বইও নষ্ট হয়।
. পাতা ভাঁজ করা উচিত নয়। পাতায় চিহ্ন দেওয়ার জন্য বুক মার্কার অথবা টুকরো কাগজ ব্যবহার করুন।
. পড়ার সময় বইয়ের পাতা কখনোই তাড়াহুড়া করে ওল্টানো উচিত নয়। এতে বইয়ের পাতা ছিঁড়ে যেতে পারে।
. অনেকে আমরা নিজেদের দরকারের জন্য দু-একটি পাতা ছিঁড়ে নিই। এটা খুব অনুচিত কাজ। দরকার হলে ফটোকপি করে নিন।
. যখন ভারী বই পড়বেন তখন বুক-কুশনে রেখে বই পড়ুন। এতে বইয়ের স্পাইন ভেঙে বই নষ্ট হবে না।
. খেতে খেতে বই না পড়াই ভালো। এতে করে খাবারের দাগ বইয়ে লেগে বই নোংরা হয়ে যাওয়ার সঙ্গে বইয়ে পোকামাকড় আক্রমণ করার আশঙ্কা থাকে।
. পড়ার মাঝখানে বই উল্টে রাখবেন না, এতে বাইন্ডিং ছিঁড়ে যেতে পারে।
. কোনো বিষয়ে নোট নেওয়ার সময় বইয়ে আন্ডারলাইন করার প্রয়োজনে হালকাভাবে পেনসিল ব্যবহার করুন।

default-image

বই সংরক্ষণ
. সংরক্ষণের জন্য বই আলোবাতাসযুক্ত শুকনো স্থানে রাখতে হবে।
. বুক শেলফের মাপ অনুযায়ী বই রাখুন। গাদাগাদি করে রাখবেন না। বই রাখার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো খাড়া করে রাখা। একটার ওপর আরেকটা রাখলে বাঁধাইয়ের ক্ষতি হতে পারে।
. ব্যক্তিগত শেলফে যখন বই গুছিয়ে রাখবেন, তখন বিষয় অনুযায়ী গোছালে সহজে পেতে সুবিধা হয়।
. ইচ্ছে করলে লেবেল এবং ট্যাগ লাগিয়ে নিতে পারেন। বই ছেঁড়া বা পাতা আলগা থাকলে বাঁধিয়ে নিতে হবে।
. শেলফ থেকে বই নামানোর সময় পুরো বই ধরে নামান। শুধু ওপরের অংশ ধরে টানলে নষ্ট হয়ে যাবে।
. শেলফ থেকে বই নিলে পড়া শেষে শেলফের ঠিক জায়গায় রাখুন।

. অনেকের বইয়ের মধ্যে ফুল বা পাতা রাখার অভ্যাস, সংরক্ষিত বইয়ের মধ্যে ফুল চেপে রাখবেন না। এতে বইয়ের পাতার রং নষ্ট হয়ে যায়।
. বইয়ের প্রধান শত্রু হলো ধুলাবালি ও পোকামাকড়। এ জন্য কিছুদিন পর পর সুতি কাপড় দিয়ে বই মুছতে হবে। ভেজা বা নোংরা কাপড় দিয়ে মোছা উচিত নয়।
. স্যাঁতসেঁতে ভিজে ঘরে বই রাখবেন না। নিতান্তই যদি আবদ্ধ অবস্থায় রাখতে হয়, তাহলে বইয়ের পাশে ন্যাপথলিন গোটা কিংবা কচি নিমপাতা রাখতে হবে। এতে পোকামাকড় ধারেকাছে ঘেঁষবে না।
. বছরে দুবার বই রোদে দিন। সরাসরি রোদে নয়, এতে পাতা ভেঙে যেতে পারে।
. যতটা সম্ভব নিয়মিত পড়ার অভ্যাস করুন। এতে বই ভালো থাকবে।

কাউকে পড়তে দিলে
. ধার দেওয়ার সময় বইয়ের নাম, যাকে দিচ্ছেন তার নাম লিখে রাখুন। এতে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।
. যাকে ধার দিচ্ছেন, নিশ্চিত হোন তার কাছে বইটি যত্নে থাকবে কি না।
. আপনি যখন কারও কাছ থেকে ধার নেবেন, মলাট দিয়ে ফেরত দিতে পারেন, তাতে আপনার সুরুচির পরিচয় মিলবে।
. কারও কাছ থেকে বই পড়তে নিলে সময়মতো ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করুন।
গ্রন্থনা: জোহরা শিউলী

বিজ্ঞাপন
জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন