রোকেয়া দিবসে মেধাবীদের স্বীকৃতি

বিজ্ঞাপন
default-image

টিপটিপ বৃষ্টি, অগ্রহায়ণের এই শেষবেলায় একটু শীতের আমেজ। সন্ধ্যা নেমে আসছে। তারিখ ৯ ডিসেম্বর, দিনটি রোকেয়া দিবস। এই দিবসকে উপলক্ষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের প্রবেশপথের এক পাশে প্রদীপ জ্বালানো, অন্য পাশে বেগম রোকেয়ার উদ্ধৃতিসহ ব্যানার টানানো। পথজুড়ে রঙিন আলপনা আঁকা। অভিভাবকদের নিয়ে এ পথেই হলে ঢুকছেন জান্নাতুল রাফিয়া, শাহনাজ পারভীন, শারমিন সুলতানা, বিয়াস বিনতে কামাল, আফরিন সুলতানা এবং বাবাকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলাম আমিও। সবার চোখে-মুখে আনন্দের দীপ্তি আর উচ্ছ্বাস। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো ফলাফল ও অন্যান্য সাফল্যের জন্য রোকেয়া পদক ও বৃত্তি পেয়েছেন এই শিক্ষার্থীরা। 

জন্মদিনে নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের অবদান স্মরণ করে তাঁর আদর্শকে এগিয়ে নিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল প্রতিবছর নানা আয়োজন করে। এর অংশ হিসেবে হলের ভালো ফলাফল করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজনকে রোকেয়া স্বর্ণপদক এবং আরও কয়েকজনকে বৃত্তি ও সম্মাননা দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন এই উদ্যোগ নেয়।
এ বছর রোকেয়া স্বর্ণপদক পেয়েছেন অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী জান্নাতুল রাফিয়া। স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষায় ভালো ফলাফল ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সাফল্যের জন্য এই পদক পান তিনি। মেধা বৃত্তি পেয়েছেন দর্শন বিভাগের শাহনাজ পারভীন, ফিন্যান্স বিভাগের শারমিন সুলতানা, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের বিয়াস বিনতে কামাল এবং আমি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রিয়াংকা কুন্ডু। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষে ভালো ফলাফলের জন্য কল্যাণ বৃত্তি পেয়েছেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের আফরিন সুলতানা।
স্বর্ণপদক পাওয়া জান্নাতুল রাফিয়া চাঁদপুরের মেয়ে। স্নাতকে তাঁর সিজিপিএ ৩.৯৭। অর্জন করেছেন দ্বিতীয় স্থান। গবেষক হতে চান তিনি। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর দিন থেকেই ভালো ফলাফল করার স্বপ্ন দেখেছি এবং চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছি। শুধু পড়ার মধ্যেই ছিলাম না, বিভিন্ন সংগঠন আর নানা কাজে যুক্ত থেকেছি।’ রাফিয়া বিতার্কিক ও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেও পরিচিত। পদক গ্রহণের পর রাফিয়া বললেন, ‘রোকেয়া স্বর্ণপদক আমাকে মূল কাজের পাশাপাশি সৃজনশীল ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে থাকার উৎসাহ দেবে।’

default-image

মেধা বৃত্তি পাওয়া চার শিক্ষার্থীর একজন শাহনাজ পারভীন। দর্শন বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন তিনি, সিজিপিএ ৩.৮২। পড়ালেখার পাশাপশি যুক্ত ছিলেন রোকেয়া হল ও বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক নানা সংগঠনে। তিনি বলেন, ‘এসএসসি থেকেই ফলাফলের জন্য নানা বৃত্তি পেয়েছি। তবে এবারের অনুভূতি একদম স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো।’
মেধা বৃত্তি পেয়েছেন ফিন্যান্স বিভাগের শারমিন সুলতানাও। তিনিও বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অধিকারী, সিজিপিএ ৩.৮৫। শারমিন বলেন, ‘বেগম রোকেয়া আমার জীবনের আদর্শ। আমি ছোট থেকে তাঁর লেখা পড়ে অনুপ্রাণিত হয়েছি। আজ রোকেয়া মেধা বৃত্তি পেলাম। এই অনুভূতি যেমন অনাবদ্য, অনুপ্রেরণা আরও বেশি।’ তার এই সাফল্যের পেছনে নিজের মা-বাবার অবদানের কথাও বললেন শারমিন।
মেধা বৃত্তির তালিকায় আছেন ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী বিয়াস বিনতে কামাল। বিয়াস বলেন, ‘এই সম্মাননা আমার কাছে রোকেয়ার আদর্শের প্রদীপের মতো। আমি এই প্রদীপের আলো ছড়িয়ে দেব আমার কাজের মাধ্যমেই।’ (নারীমঞ্চের জন্য ছবি তোলার সময় ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে বিয়াস উপস্থিত থাকতে পারেননি।)
প্রথম বর্ষে সাফল্যের জন্য রোকেয়া মেমোরিয়াল কল্যাণ বৃত্তি পেয়েছেন আফরিন সুলতানা। ব্যবস্থাপনা বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছেন। তিনি বলেন, ‘এই স্বীকৃতি আমাকে আরও উৎসাহী করেছে। আগামীতে রোকেয়া স্বর্ণপদক পাওয়ার চেষ্টা করব।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন