default-image

বইমেলা শুরু হয়েছে। লেখক-প্রকাশকদের ব্যস্ত সময় কাটছে। আপনার মেধাপ্রসূত কোনো লেখা বা কর্ম আপনার সম্পদ। আইন অনুযায়ী এই সম্পদের ওপর আপনার অধিকার রয়েছে। বিশেষ করে মেধাস্বত্ব সম্পর্কে আপনাকে অবশ্যই সচেতন হতে হবে।

প্রকাশকের সঙ্গে লিখিত চুক্তি
যেকোনো বিষয়ের ওপর মৌলিক বই হলে পাণ্ডুলিপিটি প্রকাশকের হাতে তুলে দেওয়ার আগে লিখিত চুক্তি করে নিন। আর এ চুক্তি সম্পাদন করতে কপিরাইট আইন ২০০০-এর বিধিবিধান মেনে চলতে হবে। চুক্তিতে অবশ্যই স্বত্বের অধিকার, স্বত্বের মেয়াদ, স্বত্ব নিয়োগের ভৌগোলিক পরিধি, রয়্যালিটির পরিমাণ উল্লেখ থাকতে হবে। চুক্তিনামাটি কপিরাইট আইনের ৫৭ ধারা অনুযায়ী ৮০০ টাকা প্রদান করে কপিরাইট অফিস থেকে নিবন্ধন করে নেওয়া উচিত। এতে চুক্তিটির আইনি অবস্থান নিশ্চিত হবে। এ চুক্তির ফলে প্রকাশকের অর্থনৈতিক অধিকার যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি লেখকের নৈতিক ও আর্থিক অধিকারও সুরক্ষিত হবে। এ চুক্তির কোনো শর্ত কোনো পক্ষ পালন না করলে আইনের আশ্রয় নেওয়া যাবে।

কপিরাইট নিবন্ধন
কপিরাইট সুরক্ষার জন্য লেখকের উচিত তাঁর বইটির কপিরাইট নিবন্ধন করে নেওয়া। মনে রাখতে হবে কপিরাইট শুধু প্রকাশিত বইয়ের ক্ষেত্রেই করা যায়, তা নয়, পাণ্ডুলিপিরও কপিরাইট নিবন্ধন করা যায়। কপিরাইট নিবন্ধন করা থাকলে কেউ যদি কপিরাইট ভঙ্গ করে নকল করে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার পেতে সুবিধা হয়। লেখক যত দিন বেঁচে থাকবেন, তত দিন তিনি কপিরাইটের অধিকারী। তাঁর মৃত্যুর পর ৬০ বছর পর্যন্ত লেখকের উত্তরাধিকারীরা কপিরাইট ভোগ করবেন। ষাট বছর পর কপিরাইটের অধিকার সাধারণ জনগণ ভোগ করতে পারবে।

কপিরাইটের নিবন্ধনের জন্য ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত কপিরাইট কার্যালয় থেকে নির্ধারিত আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে হবে। এই আবেদনপত্রে যে বিষয়টি কপিরাইট করতে চান তার সব বিবরণ, স্বত্ব কার নামে হবে, শর্ত কী হবে প্রভৃতি বিষয় পূরণ করতে হবে। আবেদনপত্র তিন কপি জমা দিতে হবে। পাণ্ডুলিপি বা বই দুই কপি করে জমা দিতে হবে। যে বিষয়টি কপিরাইট নিবন্ধন করার জন্য আবেদন করা হয়েছে, তার ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত ফি দিতে হবে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে।

হস্তান্তরসূত্রে মালিকানার ক্ষেত্রে ৩০০ টাকার ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে হস্তান্তর দলিল দাখিল করতে হবে। পাণ্ডুলিপি বা বই নিয়ে কোনো মামলা-মোকদ্দমা বিচারাধীন নেই এবং এর তথ্য নির্ভুল এ মর্মে ৩০০ টাকার ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা জমা দিতে হবে। কেউ যদি আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদনপত্র দাখিল করতে চান, সে ক্ষেত্রে আবেদনপত্রের সঙ্গে ওকালতনামা দাখিল করতে হবে।

বই নকল হলে

কেউ যদি কোনো লেখক বা প্রণেতার বই বা পাণ্ডুলিপি নকল করে প্রকাশ করে তাহলে দেওয়ানি আদালতে সরাসরি প্রতিকার চাওয়া যাবে। জেলা জজ আদালতে চাওয়া যাবে ক্ষতিপূরণ এবং নিষেধাজ্ঞাসহ অন্যান্য প্রতিকার। ফৌজদারি মামলা হলে শাস্তি হিসেবে কপিরাইট ভঙ্গকারীর সর্বোচ্চ চার বছরের জেল এবং সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এ ছাড়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই নকল বই জব্দ করার ক্ষমতা পুলিশের রয়েছে।

বই জাতীয় গ্রন্থাগারে জমা দিন

আইনে প্রত্যেক প্রকাশককে তাঁর প্রকাশিত প্রতিটি বই এক কপি করে জাতীয় গ্রন্থাগারে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বই প্রকাশের তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে তা জমা দিতে হবে, অন্যথায় প্রতিটি বইয়ের জন্য দিতে হবে এক হাজার টাকা জরিমানা।

বিজ্ঞাপন
জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন