default-image

ফেসবুকে দেখলাম, ৪২০ বছর পরে উঠবে আকাশে সবুজ চাঁদ। আমার আবার এ ব্যাপারগুলোতে খুব আগ্রহ। সুযোগটা হাতছাড়া করতে চাই না। পাঁচ দিনের ডায়রিয়ায় শরীর একদম চলে না। অন্যদের সঙ্গে চাঁদ দেখতে উঠানে যেতে পারিনি। আম্মাকে বললাম, ঘরের বড় জানালাটা খুলে দাও, আমিও সবুজ চাঁদ দেখব। অপেক্ষা করছি, জানালা দিয়ে চেয়ে আছি কিন্তু কোথায় সবুজ চাঁদ? অবশেষে চাঁদ উঠল। আমি দেখে খুব খুশি; কিন্তু চাঁদটা ক্রমেই আমার কাছে আসছে, কাছে, একদম কাছে। আমার আরও আনন্দ হচ্ছে। একি! চাঁদটা আমার বিছানার পাশে চলে এসেছে, আমাকে স্পর্শ করছে! ঘরটা সবুজে সবুজময় হয়ে গেছে! আমি বুঝতে পারছি চাঁদটা আমাকে গ্রাস করছে! আমি তাতেও ভয় করছি না; বরং ভালোই লাগছে। এবার চাঁদের সঙ্গে যাচ্ছি, কোথায় যাচ্ছি? কোনো উত্তর নেই! কোথায় নিয়ে যাচ্ছ আমাকে? কোনো উত্তর নেই! একটা আলাদা পৃথিবী, যেখানে কোনো মানুষ নেই, চারদিক সবুজ আর সবুজ, নিস্তব্ধ কিছু আঁধার কিছু আলো। এবার ভয় পাচ্ছি, খুব ভয়। আম্মাকে গলা ছেড়ে ডাকছি, কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না। সবার জন্য খারাপ লাগছে। আমি থাকব না এখানে, আমাকে ফিরিয়ে দিয়ে এসো। এরই মধ্যে পেছন থেকে ধাক্কা অনুভব করলাম। আম্মার গলা না? হ্যাঁ, তাই তো! আম্মার গলা। আম্মা কাকে ডাকছে, ‘এই শুনছ, এই একটু ওঠো?’ সাধারণত আম্মা এভাবেই আব্বাকে ডাকে। তার মানে আব্বাও আছে এখানে?
আম্মার গলা আবার শুনলাম, ‘দেখো না, মেয়েটা আবোলতাবোল বকছে!’ এবার আব্বার গলা খুব কাছে শুনতে পাচ্ছি।
-‘কী হয়েছে মা, তোর?’ আমি বলি, ‘সবুজ চাঁদের দেশে আছি, আব্বা?’
‘তুই ঢাকায় না, তুই তো এখন গ্রামের বাড়িতে। দেখ, বাইরে কত গাছ চাঁদের আলোতে আঁধারটা কেমন সবুজ সবুজ লাগছে।’
আমি খুব ক্লান্ত এবং নেতিয়ে পড়া শরীর নিয়ে তাকিয়ে দেখতে পাচ্ছি না। তবু চেষ্টা করি দেখার জন্য। কই?
আব্বা, আম্মা কেউ পাশে নেই! একটা রুমমেট লাইট জ্বালিয়ে পড়ছে! জালানা দিয়ে বাইরে তাকাই কোনো সবুজ দেখছি না—ইলেকট্রিসিটির লাইট আর বিল্ডিং ছাড়া কিছু দেখলাম না। বুঝতে পারলাম স্বপ্ন দেখেছি। তবে আব্বা-আম্মাকে খুব মনে পড়ছে। এই অসুকের সময় এভাবেই ব্যস্ত হয়ে যেত তারা। কত দূরে আজ তোমরা আর কত দূরে আমি, তাই না মা?
আফিফি ঈশিতা
শেরেবাংলা নগর, ঢাকা

বিজ্ঞাপন
জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন