default-image

সংবাদপাঠক সাবিনা মেহেদী। তাঁর সাজ-পোশাকে আছে নিজস্বতা। চুলটাও বেশ কায়দা

default-image
default-image

করে কাটা। আজ অধুনায় থাকছে তাঁর স্টাইল।
সাবিনা মেহেদীর মা নাজমা খাতুন ছিলেন ভারতের বিহার প্রদেশের রাজধানী পাটনার মেয়ে। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে বাংলাদেশে চলে আসেন তিনি। সাবিনা মেহেদীর বাবা মালামুদ্দিন আহমেদ চাকরির সুবাদে পাটনায় গিয়েছিলেন। ছোটবেলায় মায়ের কাছ থেকে শোনা বিহারের বেশ কিছু শব্দ রপ্ত করেছিলেন। বাংলা ভাষাও তখন পুরোপুরি শুদ্ধভাবে বলতে পারতেন না। এটি সাবিনা মেহেদীকে ছোটবেলাতেই ভাবিয়েছিল। মুশকিল আসান হিসেবে মা এগিয়ে এলেন। মেয়েকে শুদ্ধ বাংলা বলা শেখাতে শুরু করলেন। সেই সাবিনা মেহেদী এখন বেসরকারি টিভি চ্যানেল এটিএন নিউজের সংবাদ উপস্থাপনা বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন।
‘আজকে যতটুকু যা, এর পুরো কৃতিত্ব আমার মায়ের। গত ১৫ জুন মা এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। এখন আরও বেশি বুঝতে পারছি, আমার জীবনে মায়ের ভূমিকা কতখানি।’ বলেন সাবিনা মেহেদী।
এই সংবাদপাঠকের দিন শুরু হয় দুপুর ১২টা থেকে। কারণটা তিনিই বলেন, ‘অফিস থেকে ফেরা হয় রাত ১০টার দিকে। এরপর পরিবারের সবার সঙ্গে বসে রাতের খাবার খাই। এবার সংবাদ দেখার পালা। যেহেতু সংবাদ উপস্থাপনা বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করছি, তাই রাত জেগে সংবাদপাঠকদের খবর পড়া দেখি। ভোরের দিকে ঘুমাতে যাই। মাঝেমধ্যে সময় পেলে বইও পড়ি।’
১২টার দিকে ঘুম থেকে উঠে আবার টেলিভিশনের খবর দেখতে বসে যান। এরপর তৈরি হন অফিস যাওয়ার জন্য।
ভালোভাবে সংবাদ পড়ার পাশাপাশি নিজের সাজ-পোশাকের দিকেও যত্নবান হওয়া উচিত সংবাদপাঠকদের, যেন পোশাক ও মেকআপ দর্শকের চোখে বিরক্তির উদ্রেক না ঘটায়। তাই ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মিলিয়ে পোশাক বাছাই করেন সাবিনা মেহেদী। সাজগোজে বাহুল্য পছন্দ করেন না। বিশেষ অনুষ্ঠান ও সংবাদ পাঠের সময় বেছে নেন শাড়ি। বেশির ভাগ সময় সুতির শাড়ি পরেন। তবে টাঙ্গাইল শাড়ি, জামদানি, কাতান ও লেইসের শাড়ি তাঁর প্রিয়। বাসায় পালাজ্জো বা জিনসের সঙ্গে টপ পরতে পছন্দ করেন।
তবে শাড়ি যেমনই হোক, অনেক নিরীক্ষা করে ব্লাউজ বানান। কাপড়ের সঙ্গে মিলিয়ে বিভিন্ন দোকান ঘুরে ব্যতিক্রম কাটছাঁট ও নান্দনিক নকশার ব্লাউজ তৈরি করতে দেন। ব্লাউজের সংগ্রহ দেখে তা বোঝাও গেল। কোনোটাতে গোল গলা, কোনোটা দুইরঙা কাপড় দিয়ে হাতকাটা, আবার কাতান কাপড় দিয়ে তৈরি ঠাকুরবাড়ির নকশার ব্লাউজ মিলল।

খুব একটা মেকআপ কখনোই করেন না। আর গয়না যতটুকু না পরলেই নয়, ততটুকুই ব্যবহার করেন।
ইদানীং নানা রকমের ক্লাচ ব্যাগ সংগ্রহ করছেন। মুম্বাই, ব্যাংকক, দিল্লি, এমনকি ঢাকার বিভিন্ন শপিং মল থেকে যখন যে ব্যাগটা ভালো লাগছে, সেটা কেনার চেষ্টা করেন।
সাবিনা মেহেদীর স্টাইলে যে দিকটি নিজস্বতার পরিচয় দেয়, তা হলো তাঁর চুলের ষ্টাইল। ‘একসময় বেশ লম্বা চুল ছিল আমার। চুলগুলো কেমন জানি নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। রূপবিশেষজ্ঞ কানিজ আলমাস খানের কাছে গেলে তিনি আমার চেহারার সঙ্গে মিলিয়ে এভাবে চুল কাটার পরামর্শ দেন। ব্যস, সেই থেকে এটা আমার স্টাইলের অংশ হয়ে গেল।’ বলেন সাবিনা।
এত ব্যস্ততার মধ্যেও নিজেকে ফিট রাখেন কীভাবে—এই প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমার শারীরিক গঠনটাই এমন। নিজেকে ফিট রাখার জন্য আলাদা করে কোনো ব্যায়ামের প্রয়োজন হয় না।’
২৪ ঘণ্টার সংবাদভিত্তিক চ্যানেলে কাজ করার কারণে তেমন একটা ছুটি পান না। তবে যেটুকু পান, সেই সময়টুকু পরিবারের জন্য। প্রিয়জনদের মধ্যে জীবনের সব আনন্দ খুঁজে পান।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন