default-image

 আমি স্নাতক চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী। পাঁচ বছর ধরে একজনের সঙ্গে সম্পর্ক চলছে। মাঝে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হলেও আমরা সম্পর্কটা টিকিয়ে রেখেছি। ছেলেটি এখন চাকরি করছে। কিন্তু ভবিষ্যতের প্রশ্নে তার সঙ্গে খুব মতবিরোধ হচ্ছে। সে বলেছে বিয়ের পর আমাকে চাকরি করতে দেবে না। গ্রামে তার মা-বাবার সঙ্গে গিয়ে থাকতে হবে। এ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে, কিন্তু সে তার সিদ্ধান্তে অটল। এদিকে সে শিক্ষাগত বা পারিবারিক কোনো দিক দিয়েই আমার যোগ্য নয়। এই অবস্থায় বুঝতে পারছি না এই সম্পর্কের ইতি টানব কি না।
আশা, ময়মনসিংহ

 এখন তোমার বুঝে নিতে হবে তুমি তোমার কোন কথাতে ‘অটল’ থাকবে। ছেলেটি তো তার সিদ্ধান্তে অটল যে তুমি গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে থাকবে আর চাকরি করতে পারবে না।

তুমি এখন পড়াশোনা করছ। কয়দিন পর হয়তো স্নাতকোত্তর করবে। চাকরি করার ব্যাপারে কি তুমি অটল? যদি তা-ই হয়, তাহলে ছেলেটিকে তোমার সেই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দাও।

তোমার ভবিষ্যৎ যদি খুব অন্ধকার মনে হয়, তাহলে তুমি এই সম্পর্কের ইতি টানতেই পারো। এই সিদ্ধান্ত তোমাকেই নিতে হবে।

 স্নাতক প্রথম বর্ষে পড়ার সময় সহপাঠী একটি মেয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক হয়। তখন আমি তাকে জানিয়েছিলাম বিয়ের জন্য আমার স্নাতক শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। বছর দুয়েক পর মেয়েটির পরিবার আমাদের সম্পর্কের কথা জানতে পেরে তাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লাগে। মেয়েটিও পরিবারের চাপে বিয়ে করতে বাধ্য হয়। এ ঘটনার পর আমি খুব ভেঙে পড়ি। অনেক কষ্টে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসি। মেয়েটিকে দেখতাম ক্লাসে আসত, মনে হতো খুব সুখেই আছে। কিন্তু বিয়ের মাস ছয়েকের মধ্যেই তার ডিভোর্স হয়ে যায়। এরপর সে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। সে জানায়, স্বামীকে সে কোনো দিনই ভালোবাসতে পারেনি, আমাকেই সে ভালোবাসে এবং সম্পর্কটা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করে। কিন্তু এই সম্পর্ক আমার পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব হলেও আমার পরিবার এতে কোনো দিনই রাজি হবে না। এ নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় ভুগছি।
রিমন, যশোর
 মেয়েটির বিয়ে হয়েছিল, ডিভোর্সও হয়ে গেছে। তোমার মেয়েটির ব্যাপারে এটাই আপত্তি যে তার ‘বিবাহিত’ বা ‘ডিভোর্সড’ স্ট্যাটাস তোমার পরিবার মেনে নিতে পারবে না। তোমার ভালোবাসা অটুট আছে, তুমি কি সেই শক্তির বলে সামাজিক এই বাধা জয় করতে পারবে না? অবশ্যই পারবে।
একজন মানুষ যখন বিশ্বাস করে কোনো কিছু মেনে নয়, তখন তার আশপাশের মানুষও তা মেনে নেয়।

 এমন অনেক সমস্যা আছে, যা কাউকে বলা যায় না। এ রকম প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবেন সারা যাকের। সুবন্ধু সমীপেষু কলামে তারই সমাধান পাওয়া যাবে। এ বিভাগে চিঠি লিখুন সাদা কাগজের এক পিঠে সংক্ষেপে, ঠিকানাসহ।
চিঠি পাঠানোর ঠিকানা:
সুবন্ধু সমীপেষু, নকশা, প্রথম আলো, সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫। 
এ ছাড়া [email protected] এই ঠিকানায় ই-মেইল করেও সমস্যার কথা জানাতে পারেন।

বিজ্ঞাপন
জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন