>
default-image
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মেহতাব খানম। তিনি আপনার মানসিক বিভিন্ন সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান দেবেন। অল্প কথায় আপনার সমস্যা তুলে ধরুন।—বি. স.

সমস্যা

কোচিংয়ের এক ছেলে আমাকে নবম শ্রেণি থেকে পছন্দ করে। গত বছর থেকে আমার মনে হতে থাকে আমিও ওকে পছন্দ করি। এক বন্ধুর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আমরা পরস্পরের প্রতি অনুভূতি ব্যক্ত করি। কিন্তু এখন আমি বুঝতে পারছি, সেটা শুধুই আকর্ষণ ছিল। আমি আমার মায়ের সঙ্গে বিষয়টি কিছুটা শেয়ার করেছি। তিনি আমাকে সুন্দরভাবে ব্যাপারটি উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছেন। আমি তাঁদের বড় মেয়ে এবং আমার দায়িত্বগুলো সম্পর্কে সচেতন। আমার মা-বাবাকে কোনো কষ্ট দিতে চাই না। ছেলেটির সঙ্গে আমার এখন আর সম্পর্ক নেই। এই বয়সে কোনো সম্পর্কে জড়িয়ে যেতেও চাই না। সমস্যা হচ্ছে, ছেলেটিকে এই কথাটি বলতে পারছি না। সে খুব আবেগপ্রবণ। আমি জানি, সে খুব কষ্ট পাবে কিন্তু আমার কাছে মা-বাবাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা আমার কাছে অনেক প্রত্যাশা রাখেন। আমি তাঁদের স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। আমি এখন খুব মানসিক চাপে রয়েছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।

পরামর্শ

তোমাদের দুজনেরই এখন বয়স খুব কম। এই বয়সে কাউকে ভালো লাগা খুব স্বাভাবিক। উত্সাহব্যঞ্জক ব্যাপারটি হচ্ছে, তুমি বিষয়টি মাকে অসংকোচে বলতে পেরেছ। মায়ের সঙ্গে তোমার যে একটি বিশ্বাসের সম্পর্ক রয়েছে, তা বোঝা যাচ্ছে। তোমার মনও সংবেদনশীল বলে ছেলেটির জন্যও তোমার দুশ্চিন্তা কাজ করছে। তুমি আপাতত ভবিষ্যতের কথা না ভেবে বর্তমান সময়ের ওপর বেশি মনোযোগ দাও। ছেলেটি যদি খুব বেশি আবেগপ্রবণ হয়, তাহলে সে অবশ্যই কষ্ট পাবে। তবে আশা করছি সে নিজেকে সামলে নিতে পারবে।
তুমি যদি নিশ্চিত থাকো, এই বয়সে কোনো সিরিয়াস সম্পর্কে জড়াতে চাও না, তাহলে ছেলেটিকে খুব শ্রদ্ধার সঙ্গে বুঝিয়ে বলো, মা-বাবার কষ্ট হয় এমন কিছু তুমি করবে না। এতে করে তার প্রতি তোমার দায়িত্ব পালন করতে পারবে। ছেলেটিও যাতে পড়াশোনা করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে নেয়, সেই শুভকামনা সব সময় তুমি করবে। এই আশ্বাসটিও তাকে দেওয়া দরকার। তোমার বয়সের অন্যরা যারা এ ধরনের দ্বন্দ্বে ভোগে, তারা নিশ্চয়ই তোমার সমস্যাটি পড়ে এ থেকে কিছু শিক্ষা নেবে। এবং সেটা নিজেদের জীবনে প্রয়োগ করবে।

বিজ্ঞাপন
জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন