default-image

দুই একর জায়গায় বিশেষায়িত শেডের নিচে হাজার হাজার স্ট্রবেরিগাছে পাতার ফাঁক গলে উঁকি দিচ্ছে গাঢ় লাল বর্ণের স্ট্রবেরি। বাগানের পরিচর্যায় কর্মীদের সঙ্গে হাত লাগিয়েছেন বাগানের মালিক সেলিনা আক্তার। সেলিনা শিক্ষার উচ্চপর্যায়ের পাঠ চুকিয়ে, চাকরি না করে নেমেছেন কৃষিকাজে। আর তাঁর বাগানেই ২২ জন শ্রমিক কাজ করছেন। স্ট্রবেরি ফলনেও দেখিয়েছেন ভিন্নতর চমক।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া পূর্বখণ্ড গ্রামে সেলিনা আক্তার গড়ে তুলেছেন এ স্ট্রবেরি–বাগান। স্বামী দেলোয়ার হোসেনের সহায়তায় সেলিনা প্রথমবারের ফলনেই পেয়েছেন ঈর্ষণীয় সফলতা। পেয়েছেন কৃষিভিত্তিক পুরস্কার ‘বাংলাদেশ একাডেমি অব অ্যাগ্রিকালচার অ্যাওয়ার্ড ২০১৮’।

সম্প্রতি স্ট্রবেরি বাগানে দাঁড়িয়েই সেলিনা বললেন, ‘পড়াশোনা শেষে পরিবারের অনেকেই পরামর্শ দিয়েছিলেন চাকরি করার জন্য। কিছু শুরু করার আগেই আমার বিয়ে হলো। বিয়ের পর জানলাম স্বামীও আমার মতো কৃষিকাজ ভালোবাসেন। স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করে শুরু করলাম স্ট্রবেরি চাষ। স্বামীর ‘মৌমিতা ফ্লাওয়ারস’ নামের প্রতিষ্ঠানে ক্যাপসিকাম, গোলাপ, অর্কিড, জারবেরা ফুলসহ অন্যান্য সবজি চাষের শেড ছিল। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী আরও দুটি বিশেষায়িত শেড তৈরি করা হলো।’

২০১৪ সাল থেকেই সেলিনা ক্যাপসিকাম, ফুলসহ বিভিন্ন কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। ফুল উৎপাদনে সফলতায় তিনি ‘বাংলাদেশ একাডেমি অব অ্যাগ্রিকালচার অ্যাওয়ার্ড ২০১৮’ অর্জন করেন। অন্যদিকে পুরোদমে স্ট্রবেরি উৎপাদনে যান গত বছর। শুধু ফল উৎপাদনে নয়, চারা উৎপাদন করে কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন তিনি। জানান, চলতি বছর প্রতি কেজি স্ট্রবেরি এক হাজার টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। তাঁর মতে, স্ট্রবেরি চাষ খুবই লাভজনক।

সেলিনা জানান, প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে আট হাজার স্ট্রবেরির বিয়ার রুট (মূল চারা) আনা হয়। সেগুলোকে শেডে রেখে যত্ন করা হয়। সেই আট হাজার চারা থেকে পাওয়া যায় এক লাখের বেশি ডটার রুট বা চারা। পরে সেগুলো থেকে ১১ জন কৃষকের কাছে ৮০ হাজার চারা বিক্রি করা হয়। রেখে দেওয়া ২০ হাজার চারা থেকে এখন হচ্ছে সুস্বাদু স্ট্রবেরি।

সেলিনা জানান, তাঁর বাগানের বড়সড় একেকটি স্ট্রবেরির ওজন ৬০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। এক কেজিতে ৩০ থেকে ৪০টি স্ট্রবেরি ধরে। স্বাদের ভিন্নতার কারণে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে স্ট্রবেরি কিনতে আসেন অনেকেই।

সেলিনার স্ট্রবেরি–বাগান প্রসঙ্গে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুল আরেফিন বললেন, একজন শিক্ষিত নারী কৃষিতে যুক্ত হয়েছেন, এটা খুব আশাজাগানিয়া বিষয়।

 কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুল মুঈদ বললেন, ইংরেজিতে এম এ পাস একজন নারী কৃষি ও টেকনোলজির বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করে তা মাঠপর্যায়ে কাজে লাগাচ্ছেন যা কৃষির জন্য খুবই ইতিবাচক। 

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0