default-image

‘আমি স্বপ্ন দেখি। ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন না। কাজের মধ্য দিয়ে স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে আনার চেষ্টা করি। সারা জীবনই তা করে যাব।’ এভাবেই নিজের কথা বলছিলেন সামিরা জুবেরি। কাছের মানুষদের কাছে যিনি হিমিকা নামেই পরিচিত। ১৪-১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড উইমেন লিডারশিপ কংগ্রেস অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ডস ২০১৫’-এ সামাজিক উন্নয়ন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন সামিরা জুবেরি। বললেন, ‘এ পুরস্কার আমার জন্য বড় স্বীকৃতি।’ আর তা হবে না-ই বা কেন। এবার বাংলাদেশের যে চার নারী বিভিন্ন বিভাগে এ পুরস্কার পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে আছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরী। আরও আছেন বাংলাদেশ উইমেন ইন আইটির প্রেসিডেন্ট লুনা শামসুদ্দোহা ও লিডস বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক রোমিনা দেওয়ান। পুরস্কার বিজয়ী চারজনের মধ্যে সামিরাই সর্বকনিষ্ঠ। কম বয়সী হিসেবে আরও অর্জন আছে তাঁর। দেশের সফটওয়্যার ব্যবসা খাতের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সর্বকনিষ্ঠ পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন গত বছর।
টিম ইঞ্জিনের প্রতিষ্ঠাতা এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামিরা জুবেরি। চট্টগ্রামের মেয়ে, বেড়ে উঠেছেন ঢাকায়। ছোটবেলা থেকেই নানা রকম কার্যক্রমে সক্রিয়। গান, ছবি আঁকা, বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ ছিল তাঁর পছন্দের তালিকায়। ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ থেকে মিডিয়া এবং কমিউনিকেশন বিভাগে স্নাতক এবং উন্নয়ন শিক্ষা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। স্নাতক হওয়ার পরই যোগ দেন ইউএনডিপিতে। এরপর বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস ট্রাস্ট বাংলাদেশের উপপ্রধান হিসেবেও কাজ করেন। ২০০৯ সালে চাকরি ছেড়ে দেন। সামিরা বলেন, ‘সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখছে এমন কাজ করতে আমি ভালোবাসি। তবে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান না, বরং সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাবে এমন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ কারণ হিসেবে জানালেন, দাতানির্ভর প্রতিষ্ঠান কখনো উন্নতি করতে পারে না। সেখান থেকেই টিম ইঞ্জিনের ভাবনা শুরু সামিরার। রাজধানীতে শিশু-কিশোরদের সুস্থ জীবনযাপনের জন্য প্রথম কাজ শুরু করে টিম ইঞ্জিন। পরে উদ্যোক্তা উন্নয়নে কাজ করে যায়। ২০১৩ সালে জাতীয় উদ্যোক্তা সম্মেলনের আয়োজন করে টিম ইঞ্জিন। সামিরা বলেন, ‘আমরা যখন উদ্যোক্তা সম্মেলন করি, তখন বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও একই রকম সম্মেলন হতে থাকে। এ দেশ, এ দেশের তরুণেরা কোনো দিক থেকেই পিছিয়ে নেই।’ দেশের উদ্যোক্তাদের যেকোনো ধরনের সেবা দেওয়ার একটি জায়গা তৈরি করবে টিম ইঞ্জিন—এমনটাই মনে করেন সামিরা। ৩০ জন উদ্যমী তরুণের দুই বছরের চেষ্টায় বাংলা লেখার সফটওয়্যার (অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিডার—ওসিআর) তৈরি করেছে এই প্রতিষ্ঠান।
ওয়ার্ল্ড উইমেন লিডারশিপ কংগ্রেসের অভিজ্ঞতা জানান সামিরা। ৮৩টি দেশ থেকে ১২০ জন নারী এককাট্টা হয়েছিলেন। কে কী নিয়ে কাজ করছেন, কেন করছেন; মোটকথা নিজের অভিজ্ঞতার কথা সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করেছেন এখানে। সামিরা বলেন, ‘আমি যে একা না, আমার মতো অনেকেই কাজ করছেন, তা বুঝেছি এই সম্মেলনে গিয়ে। তাঁদের প্রত্যেকের একটি করে অনুপ্রেরণামূলক গল্প আছে। এই ১২০টি গল্প আমি বাংলাদেশের নারীদের শোনাতে চাই।’

বিজ্ঞাপন
জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন