শৈশব বা তারুণ্যের কোনো সুখ বা দুঃখের স্মৃতি নিয়ে সময় কাটানোকে স্মৃতিকাতরতা বা নস্টালজিয়া বলা হয়। নস্টালজিয়া শব্দটি আবিষ্কারও করেছেন চিকিৎসকেরা। সুইজারল্যান্ডের একদল চিকিৎসক যুদ্ধফেরত সেনাদের পুরোনো স্মৃতি হাতড়ে সময় কাটানোর নাম দেন নস্টালজিয়া।
অনেকে বলবেন, স্মৃতি হাতড়ানোর এই অভ্যাস বা স্মৃতির অতলে হারিয়ে যাওয়ার কী-ই বা দরকার? অতীত আমাদের কী এমন দেয়? কিন্তু মনোবিদেরা বলছেন, নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত মানুষেরা পরবর্তী জীবনে উদ্বেগ, ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতা ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পারেন। একাকিত্ব বা মৃত্যুচিন্তা তাঁদের সহজে আক্রমণ করতে পারে না। পেছনে ফেলে আসা নানা রঙিন দিনের স্মৃতি—তা সে সুখেরই হোক বা বেদনার—তাদের রক্ষা করে একাকিত্ব থেকে। জীবনকে তাঁরা অন্যদের চেয়ে একটু বেশি ভালোবাসেন বা অর্থবহ মনে করেন।
মনোবিদেরা ‘স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট’ বা ‘টেরর ম্যানেজমেন্ট’ তত্ত্বে নস্টালজিয়ার এক আশ্চর্য উপকারিতা খুঁজে পেয়েছেন। ছেলেবেলায় ভাইবোনের খুনসুটি বা ঘুড়ি ওড়ানোর চমৎকার স্মৃতি চরম মন্দ অবস্থায়ও মানুষকে তলিয়ে যাওয়া থেকে উদ্ধার করতে পারে। তাই মনোবিদদের পরামর্শ, কোনো স্মৃতিই ফেলনা নয়। চেষ্টা করুন আপনার সন্তান বা শিশুদের নানা রকম পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠান এবং আনন্দময় ঘটনার মধ্য দিয়ে গড়ে তুলতে। এসব সুখস্মৃতি তাদের পরবর্তী জীবনে লড়াই করার সাহস জোগাবে। সূত্র: বিবিসি হেলথ|

বিজ্ঞাপন
জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন