স্যালুট তাঁদের

বিজ্ঞাপন
default-image

তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান স্যালুট দিয়েছেন ‘যুদ্ধের ময়দানের সম্মুখসারির বীরদের’। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে স্যালুট দেওয়া একটি ছবি পোস্ট করেছেন তিনি ‘স্যালিউটিং দ্য রিয়েল হিরোজ অ্যাট দ্য ফ্রন্টলাইন’ শিরোনামে।

সাকিবের এই সম্মুখসারির বীরেরা হলেন দেশজুড়ে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যাঁরা লড়ছেন—সেই স্বাস্থ্যকর্মীরা। তিনি লিখেছেন, ‘সকল দেশবাসীকে সুরক্ষিত রাখতে যাঁরা মারাত্মক এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছেন প্রতিনিয়ত, তাঁদেরকে জানাই আমার সালাম। ধন্যবাদ জানাই প্রত্যেক ডাক্তার, নার্স, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সদস্য এবং সরকারি কর্মকর্তাদের, যাঁরা নিঃস্বার্থ ও অক্লান্তভাবে লড়াই করে চলেছেন। আমরা তাঁদের সাহায্য করতে যা পারি, তা হলো—বাসায় অবস্থান করা, প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ মেনে চলে এই কঠিন সময়ে তাঁদের সহায়তা করা। তবেই আমরা একসঙ্গে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারব। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সাহায্য করুন।’

সাকিব আল হাসানের মতো জাতীয় দলের আরেক ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও এক ভিডিও বার্তায় করোনার বিরুদ্ধে লড়তে থাকা চিকিৎসক, নার্সসহ সব স্বাস্থ্যকর্মীর প্রতি তাঁর আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। আমাদের দেশের ক্রীড়া, সংস্কৃতি, সাহিত্য, শিল্পক্ষেত্রের তারকারা বরাবরই জাতির যেকোনো দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষের পাশে এসে দাঁড়ান। সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। সাকিব, মাহমুদউল্লাহরা সেই ঐহিত্যকেই অম্লান করে রাখলেন।

করোনার বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে সামনের সারিতে থাকা চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তাঁরা করোনার প্রাথমিক আতঙ্কের অভিঘাত সামলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বাত্মক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে তারকা ক্রিকেটাররা স্যালুট দিয়ে তাঁদের কাজের প্রতি যে সম্মান জানিয়েছেন, এ জন্য তাঁরা আনন্দিত।

এমন পরিস্থিতিতে সমাজের সব শ্রেণির মানুষের ঐক্য, পরস্পরকে সাহস জোগানো, সমালোচনা না করে প্রেরণা দেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক,  করোনাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি কমিটির উপদেষ্টা অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহ। তিনি বলেলেন, ‘এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি জনসচেতনতা সৃষ্টি করা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। সঙ্গনিরোধে থাকার গুরুত্ব অনুধান করে তা মেনে চলা। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, বিষয়টির গুরুত্ব না বুঝে ঘর থেকে পাড়া–মহল্লার সামনে জটলা করেন। এটা অনুচিত। চিকিৎসক এবং সব স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য এখন পর্যাপ্ত নিরাপত্তাসামগ্রীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। কাজেই প্রাথমিক পর্যায়ের আশঙ্কা কাটিয়ে সবাই তাঁদের সাধ্যমতো স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন। সবার ঘরে থাকা, স্বাস্থ্যবিধি কড়াকড়িভাবে মেনে চলাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর চাপ কমবে এবং দ্রুতই এই সংক্রমণ রোধ করা যাবে।’

মিরপুরের ডেলটা হাসপাতালে প্রথম করোনা রোগী মারা গিয়েছিলেন ২১ মার্চ। এই হাসপাতালে এখন প্রায় অর্ধশত নার্স রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। কথা হলো জ্যেষ্ঠ নার্স দীপ্তি রুরাম ও মেরিনা মল্লিকের সঙ্গে। তাঁরা জানালেন, হাসপাতালের চিকিৎসক ও পরিচালকেরা নার্সদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বন্দোবস্ত করেছেন। এটা একটা উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। কিন্তু তাঁরা ধৈর্যের সঙ্গে, শান্ত থেকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

করোনা নিয়ে কাজ করছেন ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাহিদুর রহমান। তিনি বললেন, ‘তারকারা স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিনন্দন জানানোর ফলে সবার মধ্যে কাজের উৎসাহ সৃষ্টি হবে। রাষ্ট্র যে উদ্যোগই নিক না কেন, সাধারণ মানুষের পাশে থাকা এবং তাদের সহযোগিতা এ ধরনের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

করোনা জীবাণু শনাক্ত করার জন্য রক্তের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার কাজ করেন মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আবদুর রশীদ বলেলন, ‘আমাদের কাজ সাধারণত নেপথ্যের। কিন্তু যথোপযুক্ত চিকিৎসার জন্য রোগনির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন ধরনের নমুনা পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সেই কাজটাই করে থাকি।’

বিশ্বব্যাপী করোনার এই ব্যাপক সংক্রমণ চিকিৎসকদের কাছে একদম অচেনা—বললেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সারওয়ার ইবনে সালাম। তিনি যোগ করেন, ‘শুধু চিকিৎসক নন, নার্স, আয়া, ওয়ার্ড বয় থেকে শুরু করে হাসপাতালের ফটকের নিরাপত্তাকর্মী পর্যন্ত ঝুঁকিতে রয়েছেন। এটা অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতি। যেটুকু নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে, তার মধ্যে থেকেই চিকিৎসাকর্মীরা সেবা দিচ্ছেন।’

মিরপুরের বড়বাগের ডা. এম আর খান শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথের উপপরিচালক ও বহির্বিভাগের প্রধান শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ সুমন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে এখন ঋতুবদলের সময়। এ সময় জ্বর-সর্দির প্রকোপ একটু বাড়ে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এ ধরনের রোগাক্রান্তদের সংখ্যা বেশি থাকে। এই সাধারণ সর্দি–জ্বরের মৌসুমে করোনার সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় শিশুদের অভিভাবকেরা খুবই দুশ্চিন্তায় আছেন।’

দুর্যোগ মানবেতিহাসে নতুন কিছু নয়। তবে মানুষের অদম্য চেষ্টা তা অতিক্রম করে যায়, সেটিই ইতিহাস, সেটাই আশার কথা। এ দুর্যোগও আমরা কাটাব সামনের সারির যোদ্ধাদের নিয়ে, সেই আশাবাদই থাকুক স্যালুটের সঙ্গে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন