default-image

‘আমরা যাঁরা ব্যবসা বা প্রকৌশল নিয়ে পড়াশোনা করছি না, ইংরেজি বিভাগ থেকে পড়ে কীভাবে বিএসআরএমের মতো একটি বড় প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারব?’ প্রশ্ন ছিল আন্তর্জাতিকইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র একরামুল হকের। উত্তর দিলেন স্বয়ং বিএসআরএমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমীর আলিহোসাইন। তিনি বলেন, ‘ইংরেজি বিভাগে পড়ছি মানেই এই নয় যে আমাকে শিক্ষক বা লেখক হতে হবে। যেকোনো বিষয় থেকে পড়েই পছন্দের পেশায় কাজ করা যায়। চাকরিদাতারা এমন একজন মানুষের খোঁজে থাকেন, যাঁর যোগাযোগের দক্ষতা ভালো এবং যিনি সব ধরনের কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহ রাখেন এবং ভারসাম্য বজায় রেখে সবকিছুর ব্যবস্থা করতে পারেন।’

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বড় কর্মকর্তা বা সফল উদ্যোক্তার কাছ থেকে তরুণেরা যেন সরাসরি পরামর্শ বা দিকনির্দেশনা পেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই প্রথম আলোর বিশেষ আয়োজন—বিএসআরএম মিট দ্য এক্সপার্ট। ৩ মাস ধরে চলছে এই আয়োজন। প্রতি মাসেই মিট দ্য এক্সপার্টে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নাম নিবন্ধন করেন তরুণেরা। বাছাইকৃত কয়েকজন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

এবার মিট দ্য এক্সপার্টের তৃতীয় পর্বে তরুণদের সঙ্গে নাশতার টেবিলে আড্ডায় বসেছিলেন আমীর আলিহোসাইন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ১২ জন তরুণ শুনেছেন আমীর আলি হোসাইনের পরামর্শ, জীবনদর্শন, সাফল্যের পেছনের গল্প। সঞ্চালনায় ছিলেন প্রথম আলোর যুব কার্যক্রমের প্রধান মুনির হাসান।

মিট দ্য এক্সপার্টের এবারের পর্বটি অন্য পর্বগুলোর থেকে আলাদা। এর আগের আসরগুলো বসেছিল ঢাকায়। আর এবার চট্টগ্রামে বিএসআরএমের কারখানায় বসে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে আলাপের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছেন তরুণেরা।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে আসা রিনি সরকার করেছিলেন একটি মজার প্রশ্ন। তিনি জানতে চেয়েছিলেন আমীর আলি হোসাইন কেন তাঁর পারিবারিক ব্যবসাকেই পেশা হিসেবে নিয়েছিলেন? এর উত্তরে আমীর আলিহোসাইন বলেন, ‘আমি জন্মের পর থেকেই স্টিল বা ইস্পাত সম্পর্কে জেনে বা শুনে আসছি আমার পরিবার ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ থেকে। তাই আমার শিক্ষা, জ্ঞান, ব্যবসায়িক বুদ্ধি সবকিছুই ছোটবেলা থেকেই ইস্পাত শিল্পকে কেন্দ্র করেই হয়েছে এবং আমি এই কাজেই আগ্রহ বোধ করেছি।’ চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ থেকে আসা সাজেদা আক্তার জানতে চেয়েছিলেন, আমীর আলিহোসাইনের সফলতার মূল গল্প কী এবং সফলতার পেছনে কার অবদান তাঁর জীবনে সবচেয়ে বেশি? আমীর আলি হোসাইন বলেন, ‘আসলে আমি ভাগ্যবান যে আমি আমার দাদার সঙ্গে অনেকটা সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছি। আমার চোখে দেখা একজন ভীষণ রকম প্রেরণাদায়ক মানুষ ছিলেন তিনি। এরপরেই আছেন আমার বাবা, তিনি একজন দূরদর্শী মানুষ এবং তিনি আমাকে সব সময় প্রেরণা জুগিয়েছেন সামনে এগিয়ে যেতে। আমি এই দুজন মানুষকে কাছ থেকে দেখেছি কীভাবে তাঁরা সব বাধা পেরিয়ে কাজ করেছেন, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছেন, তাঁদের দেওয়া শিক্ষাই আমার আজকের সফলতার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে।’

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের ছাত্রী নিপা দাস প্রশ্ন করেন, ‘আমরা যাঁরা এই প্রজন্মের তরুণ, আমরা অনেক স্বপ্ন দেখি বা পরিকল্পনা করি, কিন্তু সেগুলো আমরা ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি না, কারণ অনেক রকম বাধা, হতাশা সামনে চলে আসে বা ধৈর্য হারিয়ে ফেলি। তো এই রকম পরিস্থিতে আমাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী এবং আপনার জীবনে আপনি এ ধরনের বাধা কীভাবে কাটিয়ে উঠেছেন?’ এই সময়োপযোগী প্রশ্নের উত্তরে বিএসআরএমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘আপনাদের এই বয়সে এ রকম ভাবনা হওয়াটাই স্বাভাবিক এবং এতে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। এটা আপনার শিক্ষা পদ্ধতিরই একটা অংশ। হতাশ না হয়ে আপনাকে ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করতে হবে যে কোন পেশা আপনি বেছে নিতে চান, চাকরি করবেন নাকি ব্যবসা করবেন, কোন ক্ষেত্রে কী ধরনের বাধা আসতে পারে। জীবনে ঝুঁকি নিতেই হবে, সম্ভাব্য সব সুযোগ এবং বাধা মাথায় রেখেই আপনাকে সাগরে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। বেশি চিন্তা করতে গেলে মূল্যবান সময় পেরিয়ে যাবে এবং সেটা আর ফিরে পাওয়া যাবে না।’

এমন সব আলোচনা, পরামর্শ, তরুণদের জিজ্ঞাসা ও সফল ব্যক্তিদের সাফল্য-ব্যর্থতার জানা-অজানা গল্প নিয়েই এগিয়ে চলেছে বিএসআরএম মিট দ্য এক্সপার্ট।প্রথম আলোর এই বিশেষ আয়োজন সম্পর্কে আরও জানতে চোখ রাখুন প্রথম আলোর ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন