default-image

করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত পুরো ইউরোপ। করোনাভাইরাসের কারণে ইতালি ও স্পেনে দিনকে দিন বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতোই অস্ট্রিয়াতেও হানা দিয়েছে করোনাভাইরাস। এখন পর্যন্ত (সোমবার পর্যন্ত) মোট ২২০ জন প্রাণ হারিয়েছে এই ভাইরাসে। আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১২ হাজারের বেশি মানুষ।

গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে অস্ট্রিয়ার সকলেই নিজ বাসস্থানে অবস্থান করছেন। গ্রোসারী শপ, ফার্মেসি, সুপারমার্কেট এবং পেট্রল পাম্প ছাড়া সকল দোকানপাট সুপারমার্কেট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাইরে বের হওয়ার ওপর অস্ট্রিয়ার সরকার কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হতে সরকার থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

সব ধরনের অনুষ্ঠান সভা সমাবেশ আগামী জুন মাস পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। অস্ট্রিয়াতে প্রায় ৮ হাজার বাংলাদেশির বসবাস। অধিকাংশ প্রবাসী বাংলাদেশি পর্যটন শিল্পের কাজের সঙ্গে জড়িত। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পর্যটন শিল্প। আমরা অনেকেই জানি অস্ট্রিয়া পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান। তবে আশার কথা অস্ট্রিয়ার সরকার ইতিমধ্যে ৩৮ বিলিয়ন ইউরো প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণা দিয়েছেন। কিছু প্রবাসী বাংলাদেশি গ্রোসারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এই অবস্থায় তাদের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ না হলেও খুব বেশি ক্রেতার সমাগম হয় না বলে জানিয়েছেন তারা।

আমরা অধিকাংশ প্রবাসী বাংলাদেশিরা বর্তমানে ঘরে অবস্থান করছি। আস্তে আস্তে পুরো অস্ট্রিয়াতে আক্রান্তের সংখ্যা কমছে। গত তিন দিনে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা কম। আমরা সবাই সরকারের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, বিশেষ করে আমরা প্রবাসী বাংলাদেশিরা কেউই সরকারে আইন অমান্য করি না। সরকারে আইন অমান্য করায় ইতিমধ্যে ১৬ হাজার ব্যক্তিকে জরিমানা করেছে পুলিশ এবং এদের মধ্যে কোনো প্রবাসী বাংলাদেশিরা জরিমানার সম্মুখীন হয়নি। সবাই ঘরে অবস্থান করছি। অনেকেই ঘর থেকে অফিসের কাজ সম্পাদন করছেন। নতুন প্রজন্মের অনেক বাংলাদেশি এখানে স্কুল কলেজে লেখাপড়া করছেন। এই পরিস্থিতিতে স্কুল কলেজগুলোতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঘরে পাঠদান ব্যবস্থা করেছে সরকার। ধারণা করা যাচ্ছে খুব দ্রুত এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে এবং সবকিছুই আগের মতোই স্বাভাবিক হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0