default-image

প্রতিবছর রেজা গার্ডেনের তত্ত্বাবধানে অ্যারিজোনায় বিনা মূল্যে দেশীয় চারা বিতরণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল (রোববার) বিশাল পরিসরে ৫৫টি পরিবারের মধ্যে লাউ, শিম, মিষ্টিকুমড়া, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, করলা, মরিচ, শজনে, জাম ও বরইয়ের চারা বিতরণ করা হয়। করোনার প্রকোপ কম হওয়ার কারণে দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশিদের মধ্যে মহামিলন মেলা পরিলক্ষিত হয়। উপস্থিত সবাই দীর্ঘ আড্ডায় মেতে ওঠেন।

অ্যারিজোনার প্রায় সবার বাড়িতেই বাগান তৈরির জন্য জায়গা আছে, কমবেশি সবাই দেশি শাকসবজি চাষ করে থাকেন। মার্চ থেকেই শুরু হয় বাগান তৈরির জন্য মাটি ও সারের মিশ্রণ এবং রেজার চারা ও বীজ বিতরণের পর সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ে—কে কতটা সুন্দর ও বেশি ফলনের বাগান তৈরি করতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

আমাদের এখানে ‘নর্থ আমেরিকান বাংলাদেশি গার্ডেনার ক্লাব’–এর সদস্য রয়েছেন ৫ হাজার ৬০০ জন। অনলাইনভিত্তিক এ ক্লাবের যাঁদের অবদান অসামান্য, তাঁরা হলেন নিজামুল, মতিন, মাইনউদ্দিন, কাজী রুশদী, রাগীব, ইয়াসমীন, পারভেজ, আরীফ, ইফাত, নওমী, কল্পনা দিদি, আহসানা, ওয়াসীম, চন্দ্রনাথ, মুনিরা আক্তার, কামাল, আলমগীর, বিথিকা রায়, মানসুরা লাবনী, তাসমিয়া ইভা, শারমীন, মুনা, মনি, মিলি দিদি, রুমা হক, সোমা বোস, নাজনীন নাসরীন, তানভীর, আশফাক, মেহের নিগার, নুপুর, সুমী, আরমান ও ফয়সাল চৌধুরী।

default-image

অনেকের ধারণা, আরে ধুর! এই বিদেশে গাছ লাগিয়ে কী হবে... দুদিন বাদে তো চলেই যাব অন্যত্র....। আর একটু ভাবুন, দুদিন বাদে কবরে যেতে হবে, ফলে লাভ কী বিরাট বাড়ি করে? এ মনোভাব দুর্বলের, সুন্দর মানুষের নয়। বৃক্ষের ছায়া কত সাধকের জীবন সার্থক করেছে, বৃক্ষের শোভা কত শিল্পী ও কবির জীবনে প্রেরণা জোগাচ্ছে। শিশুদের হাতে গাছের চারা লাগানো একটি আনন্দের কাজ। শিশুর কচি হাতের পবিত্র পরশে যে গাছের জন্ম হয়, সেই গাছই হয়তো ৫০ বছর পর বৃদ্ধ পিতা–মাতাকে স্মরণ করিয়ে দেয় অতীতের মধুর পরিবেশের কথা। বৃদ্ধ পিতা–মাতার হাত দিয়ে ফলের গাছ লাগিয়ে রাখা সন্তানের লাভ। ফটোগ্রাফ মলিন হয়, কিন্তু স্মৃতির ভার নিয়ে গাছ দাঁড়িয়ে থাকে বহুকাল। বস্তুতপক্ষে বাগানই হচ্ছে মানবিক আনন্দের সবচেয়ে পবিত্র উৎস।
*লেখক: মাসুদ রেজা, অ্যারিজোনা, যুক্তরাষ্ট্র

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন