বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বেলা একটার দিকে বার্লিন, ব্রান্ডেনবুর্গসহ আশপাশের এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা পার্কে জড়ো হতে থাকেন। ধূমায়িত চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে সবার মুখে মুখে ক্যাম্পাসের সেই পুরোনো দিনের গল্প। একে একে চোখজুড়ানো সেই ছোট্ট টিলার ওপর সবুজের মধ্যে দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনার, হল, হ্যান্ডবল মাঠ, এক কিলো, লাইব্রেরি বিল্ডিং, গোলচত্বর, কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম, শিকড়, নোঙর, মাভৈ, রিম, সুপা, দিক থিয়েটারসহ ক্যাম্পাসের অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের গল্প যেন থামতেই চায় না। জম্পেশ আড্ডা, খানিক খুনসুটি যেন ক্যাম্পাসের সেই কবির কিংবা মাসুক মামার টঙের আবহ ফিরিয়ে নিয়ে আনে। এরই মধ্যে হঠাৎ নেমে আসে ঝুম বৃষ্টি, যেন মনে করিয়ে দেয় বৃষ্টিতে এক কিলোতে হাঁটার ফেলে আসা দিনগুলো। ঘুরেফিরে ক্যাম্পাসের বন্ধুবান্ধবের খোঁজখবর নেওয়া যেন মনে হয় এই তো সেই দিন, আবার যদি ফিরে যাওয়া যেত বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর সেই পুরোনো দিনগুলোয়। আড্ডা শেষে দুপুরে পরিবেশন হয় দেশি খাবার।
মধ্যাহ্নভোজের পর শুরু হয় বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পরিচয় পর্ব ও ফটোসেশন।

এর পরপরই শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্ব। এতে দরাজ কণ্ঠে গান গেয়ে শোনান ক্যাম্পাসের সবার প্রিয় মুখ পলাশ। সম্মিলিত কণ্ঠে সবাই গেয়ে ওঠে ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম!’ মুহূর্তের মধ্যে সবাই যেন হারিয়ে গিয়েছিল ক্যাম্পাসের পুরোনো স্মৃতির পাতায়। এদিকে শিক্ষার্থীর অধিকাংশই জার্মানিতে এসেছে মাস্টার্স করতে। পাশের কটবুস শহর থেকে এসেছিল কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী রিয়াসাত, বিবিএর আসিফ, ইউরোপা ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত অ্যানথ্রোপোলজির সৌমেন, সুদূর ব্রেমেন শহর থেকে কম্পিউটার সায়েন্সের মুকুল ছাড়াও ছিল তৌহিদ, নওশাদ, পার্থ, রাতুল, আনোয়ার, নোমান, কামালসহ গোটা পঞ্চাশেক সাস্টিয়ান। বার্লিনে শশী কিংবা হিমেলের মতো অনেকেই করছেন চাকরি-বাকরি। দেশ থেকে সাস্টের অনেক কম্পিউটার সায়েন্স গ্র্যাজুয়েট এসেছে সরাসরি চাকরি নিয়ে। আর শামীমের মতো পুরোদস্তুর সংসারী সাস্টিয়ানদের সঙ্গে গুটি গুটি পায়ে এসেছিল সেকেন্ড জেনারেশন।

default-image

অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক ও পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন যাবৎ জার্মানিতে অবস্থানরত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন সাস্টিয়ান জি, ইর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সবার প্রিয় মুখ রসায়ন বিভাগের পঞ্চম ব্যাচের ছাত্র ড. নিধু লাল বণিক, যিনি সবার কাছে নিধুদা নামে পরিচিত। বর্তমানে তিনি পরমাণুবিজ্ঞানী হিসেবে ইউরোপিয়ান কমিশনে কর্মরত। সমাপনী বক্তব্যে তিনি অনুষ্ঠান সফল করার জন্য উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। ভবিষ্যতে সাস্টিয়ান বন্ধনকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ে পরবর্তী কর্মসূচি এবং নতুন সাংগঠনিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের আয়োজনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গ্রাফিতির নগর বার্লিনে ধীরে সন্ধ্যা ঘনায়, একরাশ আনন্দ ও একবুক আশা নিয়ে সবাই পা বাড়ায় নীড়ের পানে। ফিরতে ফিরতে কানে বেজে ওঠে ‘পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কি রে হায়।/ ও সেই চোখের দেখা, প্রাণের কথা, সে কি ভোলা যায়।’

লেখক: রাজর্ষি রায়, পোস্ট–ডক্টরিয়াল ফেলো, বার্লিন পোস্টডেম ইউনিভার্সিটি, বার্লিন, জার্মানি

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন