default-image

বাসায় ফিরে ডাইনিং টেবিলের ওপর রঙিন কাগজে মোড়ানো প্যাকেটটি রেখে স্ত্রীকে ডাকলাম। সে সামনে আসতেই বললাম,

-হ্যাপি বার্থডে মাই লাভ। এই যে তোমার জন্মদিনের গিফট।

স্ত্রী আদুরে গলায় বলল,

- হাউ কিউট। এত বড় প্যাকেট! জান কী আছে এর মধ্যে?

আমি তার চোখের দিকে রোমান্টিকভাবে তাকিয়ে উত্তর দিলাম,

-খুলেই দেখো। খুবই দামি একটা গিফট।

স্ত্রী কৃত্রিম রাগের ভঙ্গিতে বলল,

-দামি গিফট আনার কী দরকার ছিল। তুমি যদি আমাকে ভালোবেসে গাছের পাতাও দাও, আমি তাতেও খুশি।

-তুমি আমার একমাত্র বউ। তোমাকে কি সস্তা গিফট দিতে পারি? 

-ওরে আমার সোনা। এই শোনো, তোমার প্যাকেটের ভেতর থেকে কেমন জানি একটা আওয়াজ আসছে!

-বললাম, না, আনকমন একটা গিফট। শোনো, তুমি বরং প্যাকেটটা খুলে গিফটটা দেখো। আমি এর মধ্যে ফ্রেশ হয়ে আসি। তারপর একসঙ্গে তোমার জন্মদিনের কেক কাটব।

আমি পোশাক পরিবর্তন করে তার সামনে আসতেই দেখলাম, সে চোখ-মুখ-ভুরু সবকিছু একসঙ্গে কুঁচকে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি তার এইভাবে তাকিয়ে থাকা দেখে ভড়কে গেলাম। সে খুবই ঠান্ডা গলায় বলল,

-এইটা তুমি কী আনছ?

-তোমার জন্মদিনের গিফট। কেন, কী হয়েছে?

-বিয়ের পর এটা আমার প্রথম জন্মদিন। এত দিন বললে, তুমি আমাকে এমন দামি এক গিফট দেবে, যা আমি জীবনেও পাইনি। আমি আকাশ-পাতাল কত কিছু ভেবে বসে আছি। আর তুমি কিনা আমার জন্য দুইটা ইন্দুরের বাচ্চা নিয়ে আসছ!

-জান, ওগুলো তো ইন্দুরের বাচ্চা না। ওগুলো ইঁদুরছানা।

এতক্ষণ নরম সুরে কথা বললেও এবার সে তার কন্ট্রোল হারাল। সরাসরি তুমি থেকে তুই এ নেমে চিৎকার করে বলল,

-তুই আমার সাথে শুদ্ধ ভাষা মারাস। ওই বদমাশ ব্যাটা আমি কি বিড়াল, যে তুই আমারে ইন্দুরের বাচ্চা গিফট দিছস।

-তুমি এভাবে কথা বলছ কেন? তুমি না একটু আগেই বললা, আমি গাছের পাতা গিফট দিলেও তোমার সমস্যা নাই।

-শয়তান ব্যাটা, গাছের পাতা যদি দিতি, তা–ও ভালো ছিল। দুনিয়ার কোনো স্বামী তার বউরে ইন্দুরের বাচ্চা গিফট দিতে পারে, এটা আমার ধারণায় ছিল না।

-আরে, রাগ করছ কেন? এটা তো একটা কিউট গিফট। তুমি মাথাটা ঠান্ডা করে বাচ্চা দুটোর চোখের দিকে একটু তাকাও। দেখো কী নিষ্পাপ দুটো চোখ।

-ইন্দুরের চোখ নিষ্পাপ? তুই কি আমার সাথে ফাজলামি করোস?

-ফাজলামি করব কেন? তুমি দেখো ওরা কেমন ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। দেখলে তোমারও মায়া লাগবে।

-ইন্দুরের চোখের দিকে তুই তাকায় থাক। বদমাস ব্যাটা।

-জান শোনো, এভাবে বলো না। ওরা কষ্ট পাচ্ছে। দেখো, ওরা কষ্ট পেয়ে চিক চিক করে ওদের ভাষায় তোমার উদ্দেশে একটা ছড়া বলছে।

বউ আবার ভুরু কুঁচকে চোখ দুটোকে ছোট করে বলল,

-কী বললে! ওরা আমাকে নিয়ে ছড়া বলছে! শুনি কী বলছে?

আমি যাত্রার ঢঙে উচ্চ স্বরে বললাম,

- ওরা বলছে, মা-মা-মা একটু তাকাও মা, ইন্দুর বলে, আমাদের তুমি অবহেলা কোরো না। চিক চিক চিক, চিক চিক চিক।

- মাই গড, তুই তাহলে আজকাল ইন্দুরের ভাষাও বুঝছ!

-বুঝব না কেন? শোনো, ওদের ভাষা কিন্তু ততটা জটিল না। একদম সহজ। দাঁড়াও তোমাকে শিখিয়ে দিচ্ছি। ওরা যখন দুবার চিক চিক বলে তার মানে...।

-চুপ কর বদমাশ।

-গালি দিয়ো না। শোনো, বাচ্চা দুটোও তোমাকে গালি দিতে মানা করছে। ওরা বলছে চিক চিক চিকা, চিক চিক চিকা। এর অর্থ মা, মা, মা গালি দিয়ো না।

- হে আল্লাহ, দুনিয়ায় এত পুরুষ থাকতে শেষ পর্যন্ত এই আপদটারে তুমি আমার কপালেই জুটাইলা? ওই ব্যাটার তো মাথা পুরাই খারাপ। এই ব্যাটা তো বদ্ধ উন্মাদ।

-জান, তুমি বারবার আমাকে পাগল বলছ কেন? মাত্র ছয় মাস হলো আমাদের বিয়ে হয়েছে। ছয় মাসেই কি আর পাগল চেনা যায়?

-শোন, তোর মতো পাগল চিনতে ছয় মাস লাগে না। আমি তো তোরে প্রথম দিন দেখেই বুঝেছিলাম, তোর মাথায় সমস্যা আছে।

-তাই? তাহলে বিয়ে করলে কেন?

-ওটাই তো ভুল করেছি। আমি ভেবেছিলাম, তোরে ভালো করতে পারব। কিন্তু তুই তো ভালো হওয়ার মতো পাগল না। তোরে আমি ভালো করব কি, তুই উল্টা এই ছয় মাসে আমার মাথা পুরা শেষ করে দিছিস। আর না। তোর মতো পাগলের সাথে আমি আর সংসার করব না।

-তুমি কি সিওর? সত্যি আর সংসার করবা না? 

-আমি একশত দশ ভাগ সিওর। সিদ্ধান্ত ফাইনাল। তুই আমার বাসা থেকে বাইর হ।

-আচ্ছা, যাচ্ছি। যাওয়ার আগে অন্তত কেকটা কাটো। এক পিস কেক খেয়ে যাই।

-না, কেক তো দূরের কথা, তোরে আমি কেকের প্যাকেটও খেতে দেব না। তুই এখনই যাবি। আর শোন, যাওয়ার সময় সাথে করে তোর ইন্দুরের বাচ্চা নিয়ে যাবি।

একথা বলেই নিতু আমার হাতে ইঁদুরের খাঁচাটি ধরিয়ে দিল।

-আচ্ছা, আমাকে কি অন্তত দশটা মিনিট সময় দেওয়া যায়? তাহলে হাফপ্যান্টটা চেঞ্জ করতাম। এভাবে হাফপ্যান্ট পরে বাইরে যাওয়াটা ঠিক হবে না।

 -না, তুই যে অবস্থায় আছিস, সে অবস্থাতেই যাবি। তোর তো ভাগ্য ভালো যে তোর পরনে হাফপ্যান্ট আছে। তোর লেবেলের পাগলরা সাধারণত লেংটা হয়েই রাস্তায় রাস্তায় ঘোরে।

-শোনো, তুমি আমাকে বাসা থেকে বের করে দিচ্ছ, সেটা কোনো সমস্যা না। তবে তুই–তুকারি না করে একটু সম্মানের সাথে বের করে দাও। যাব যখন, একটু সম্মান নিয়ে যাই। শত হলেও আমি তো এখনো তোমার স্বামী।

-তোর মতো স্বামীর গুষ্টি কিলাই। শোন, তুই যদি এখন বের না হোস, তাহলে কিন্তু আমি গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেব।

-ছি ছি ছি, এটা কী বললা! শেষ পর্যন্ত তুমি আত্মহত্যা করবা?

-শয়তান ব্যাটা, আমি আমার গায়ে না, আমি তোর গায়ে আগুন লাগানোর কথা বলেছি।

-নাউজুবিল্লাহ! তুমি বোধ হয় মজা করছ, তাই না জান? দেখো, বাচ্চা দুটোও বলছে তুমি মজা করছ। চিক চিক চিক।

-তুই ভাবছিস, আমি তোর সাথে মজা করছি? ঠিক আছে, তুই একটু দাঁড়া, আমি আসছি।

এবার বউ ইঁদুরের বাচ্চা দুটোর দিকে তাকিয়ে বলল,

-ঐ ইন্দুরের বাচ্চা ইন্দুর। তোর বাপরে দাঁড়াইতে বল। আমি এখনই কেরোসিন নিয়ে আসতেছি। চিক চিক চিক, চিক চিক চিক।

-আরে, তুমিও তো দেখি ওদের ভাষা শিখে ফেলেছ।

আমার কথা শুনে বউ আমার দিকে কটমট করে তাকাল। তারপর দ্রুত রান্নাঘরের দিকে চলে গেল। বুঝলাম অবস্থা সুবিধার না। কারণ, এই মহিলা খামাকা হুমকি দেবার মতো মানুষ না। অগত্যা বাসার পোশাকেই দৌড় দিয়ে বের হয়ে পড়লাম। শয়তান মহিলার জন্য ফোনটি পর্যন্ত নিতে পারলাম না।

বাসা থেকে বের হবার পর টের পেলাম প্রচণ্ড খিদে পেয়েছে। কিছু একটা খাওয়া দরকার। একটা ভালো রেস্টুরেন্টে ঢুকলাম। কাচ্চি বিরিয়ানি, লালশাক আর এক বাটি ডাল অর্ডার দিলাম। ওয়েটার আমার বিচিত্র অর্ডার শুনে অবাক হয়ে আমার দিকে বোকার মতো তাকিয়ে রইলেন।

-আচ্ছা, আপনাদের দোকানে কি কিডস মেনুর মতো ইঁদুরের জন্য কোনো মেনু আছে? থাকলে দেন। এই বাচ্চা দুটোর জন্য একটু খাবার অর্ডার দিতে হবে। ওরা খুবই ক্ষুধার্ত।

আমার কথা শুনে বেচারা এবার পুরাই ভড়কে গেলেন। তিনি বোকার মতো নিষ্পলক আমার দিকে মুখ হাঁ করে তাকিয়ে রইলেন। তাকে আরও ভড়কে দেওয়ার জন্য তার দিকে তাকিয়ে চোখ টিপ মারলাম। তারপর মেয়েদের মতো মাথা শরীর দুলিয়ে গলার স্বর চিকন করে বললাম,

-এই দুষ্টু, তুমি এভাবে তাকিয়ে আছ কেন? এভাবে তাকালে তো আমি তোমার প্রেমে পড়ে যাব।

আমার এভাবে কথা বলা দেখে বেচারা ভয় পেয়ে দ্রুত ওই স্থান ত্যাগ করলেন।

একটু পর ওয়েটার খাবার দিয়ে গেলেন। তাকিয়ে দেখলাম, বেচারার চেহারার মধ্যে এখনো আতঙ্ক ভর করে আছে। খাওয়া শুরু করতে যাব, ঠিক সে সময় সুন্দরী এক নারী আমার টেবিলের সামনে এসে দাঁড়ালেন।

-এই, তুমি ইমু না?

-জি না, আমি সালমান খান।

বলেই বসা থেকে উঠে দাঁড়ালাম। তারপর হাফপ্যান্টের দুই পকেটে দুহাত ঢুকিয়ে ধিনকা চিকা ধিনকা চিকা হেহ-হে-হে-এ-এ গানটি নেচে নেচে এক লাইন গাইলাম। গানটি এক লাইন গেয়েই আবার চেয়ারে বসে পড়লাম। ভদ্রমহিলা অপ্রস্তুত হয়ে আমার দিকে কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে রইলেন। তারপর বললেন,

-এটা কী ছিল!

-আমি যে সালমান খান, তার একটা ডেমো দিলাম।

-তুমি কি আমার সাথে ফান করছ? তুমি কি আমাকে চিনতে পারোনি?

-কেন চিনব না! অবশ্যই চিনতে পেরেছি। তা তুমি কেমন আছ?

-তুমি আমাকে তুমি করে বলছ কেন! তার মানে তুমি আমাকে চিনতে পারোনি।

-আরে না, তোরে চিনব না তা কি হয়! তা তুই কেমন আছিস?

নারী এবার হতাশ হয়ে আমার সামনের চেয়ারে বসে পড়লেন। তারপর হতাশ কণ্ঠে বললেন,

-এই ছেলে, তোমার সমস্যা কী? তুমি তো এখন আমাকে তুই করে বলছ। আমি সিওর, তুমি আসলেই আমাকে চিনতে পারোনি।

-কী যে বলেন, আপনাকে চিনতে পারব না তা কি হয়? তা তুই কেমন আছ?

-মাই গড, তুমি তো দেখছি এখন আমাকে তুই, তুমি, আপনি—সবই একসাথে বলছ।

-আন্টি, আপনার সমস্যা কী? আপনাকে আমি যা–ই বলছি, আপনি তো তাতেই অবাক হচ্ছেন।

-এই ছেলে, তুমি আমাকে আন্টি বলছ কেন? আমি লিপি, আমি লিপি।

-শোনেন, আপনি লিপি না জেনিফার লোপেজ, সেটা কোনো বিষয় না। আমি আসলে আপনাকে চিনতেই পারিনি। আর এ মুহূর্তে আপনাকে চিনতে ইচ্ছেও করছে না। কারণ, আমার খুব খিদে পেয়েছে। আমার খিদে পেলে আমি কোনো কিছু ভাবতে পারি না। আপনি এক কাজ করেন, আপনি আমার সামনে চুপ করে বসে থাকেন। আমি আগে খাওয়াটা শেষ করি, তারপর আপনাকে চেনার জন্য চেষ্টা করব। ঠিক আছে?

বলেই আমি বিরিয়ানির মধ্যে লালশাক আর ডাল ঢেলে দিলাম। তারপর লালশাক, ডাল দিয়ে কাচ্চি বিরিয়ানিকে ভালোমতো মাখালাম। এক লোকমা বিরিয়ানি দলা করে খাঁচার ভেতর দিয়ে বললাম,

-বাবারা, মজা করে খাও। এদের বিরিয়ানিটা কিন্তু ফার্স্ট ক্লাস। আর শোনো, খাবার সময় চিকচিক করে কথা বলবে না। খাওয়ার সময় কথা বলতে হয় না। ওকে? চিক চিক চিকু, চিক চিক চিকু।

আড়চোখে তাকিয়ে দেখলাম, লিপি নামের মহিলাটি বিস্ফোরিত চোখে আমার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।

লিপি আপাকে আসলে আমি চিনতে পেরেছি। উনি আমার স্ত্রীর মামাতো বোন। বয়সে আমার স্ত্রী থেকে দু-এক বছরের বড় হবেন। উনি ঢাকায় একটি কলেজে শিক্ষকতা করেন। এ মুহূর্তে ইচ্ছে করেই আমি তাঁকে না চেনার ভান করছি। সুন্দরী মেয়েদের মধ্যে একটা ধারণা কাজ করে, যে পুরুষ তাঁকে একবার দেখবে, তাঁকে সে সারা জীবন মনে রাখবে। এটা তাদের সৌন্দর্যের অহংকার। আমি মূলত এ মুহূর্তে লিপি আপাকে না চেনার ভান করে সেই অহংকারে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

আমার খাওয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত লিপি আপা চুপ করে বসে রইলেন। কোনো কথা বললেন না। তবে খেয়াল করলাম, উনি আমাকে না জানিয়ে কৌশলে আমার পুরো খাওয়ার দৃশ্য এবং ইঁদুরের বাচ্চার সঙ্গে আমার কথা বলার দৃশ্য ভিডিও করলেন। আমি বুঝতে পারছি, উনি কেন এমন করছেন। আসলে আমার শ্বশুরের দিকের আত্মীয়স্বজনের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে আমার বউ এবং এই লিপি আপা। তাঁরা দুজন দুজনকে যথেষ্ট পরিমাণে ঈর্ষা করেন। এটা আসলে মেয়েলি ঈর্ষা। আমার ধারণা, এই ভিডিও উনি ফেসবুক-ইউটিউব ছেড়ে দিয়ে আমার বউকে নাজেহাল করবেন। আমি বিষয়টা বুঝতে পারলেও ভিডিও করতে উনাকে বাধা দিলাম না। কারণ, আমার বউ যেহেতু আমাকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছে, তাই প্রতিশোধ হিসেবে আমিও তার শত্রুর হতে কিছু অস্ত্র তুলে দিচ্ছি। ইংরেজিতে একটা কথা আছে, টিট ফর ট্যাট।

আমার খাওয়া শেষ হতেই লিপি আপা প্রশ্ন করলেন,

-ইমু, তোমার তো খাওয়া শেষ। এখন বলো আমি কে?

-শোনেন, আমি এখন একটা জটিল সমস্যার মধ্যে আছি। তাই এই মুহূর্তে অন্য কিছু নিয়ে ভাবতে চাচ্ছি না। আগে এই সমস্যার সমাধান হোক, তারপর আপনি কে সেটা মনে করে ঠিকই বের করে ফেলব, চিন্তার কিছু নাই। বরং আপনি পারলে আমার সমস্যা সমাধানে একটু সাহায্য করুন।

-ঠিক আছে, বলো কী তোমার সমস্যা।

-জানেন, আমার স্ত্রী একটু আগে আমাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে।

-কেন!

-কারণ, তার জন্মদিনে আমি তাকে যে গিফট দিয়েছি, সেটা তার পছন্দ হয়নি। অথচ গিফটটা খুবই জোস ছিল। পৃথিবীর যেকোনো মেয়ে এই গিফট পেলে খুশিতে আত্মহারা হয়ে যেত।

-কী গিফট দিয়েছিলে?

-এই যে খাঁচার ভেতরে দেখছেন, এটাই ছিল তার গিফট।

-কী! নতুন বউরে তুমি ইন্দুর গিফট দিয়েছ! আর বলছ যেকোনো মেয়েই এই গিফট পেলে খুশি হতো।

-অবশ্যই খুশি হতো। কত কিউট একটা গিফট। জানেন, এর মধ্যে একটি স্ত্রী ইঁদুর আর একটি পুরুষ ইঁদুর।

-তাই নাকি! তা তুমি কী করে সিওর হলে একটা পুরুষ আর একটা স্ত্রী।

-আমি ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছি। জানেন, এই বাচ্চা দুটোকে নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন। আমি চাই এই বাচ্চা দুটো বড় হয়ে বংশ বৃদ্ধি করুক। আর আমার ঘর ইঁদুরে ইঁদুরে ভরিয়ে দিক। একবার ভাবুন, আমার ঘরভর্তি ইঁদুর। ওরা এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করছে আর চিক চিক করে কথা বলছে। চিক চিক সুরে পুরোটা ঘরে একটা রোমান্টিক পরিবেশ ছড়িয়ে দিয়েছে। আর সেই রোমান্টিক পরিবেশে আমি আর আমার স্ত্রী শুয়ে আছি। মাঝে মাঝে ইঁদুরগুলো লাফিয়ে লাফিয়ে আমাদের গায়ে পড়ছে। আর আমার স্ত্রী সেই আবেগে গান গাইছে, 'এত সুখ সইব বলো কী করে, যেন সারা জগতের সুখ আঁচলে দিয়েছ তুমি ভরে...।' বিষয়টা কত রোমান্টিক না?

লিপি আপা কিছুক্ষণ আমার দিকে ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে থেকে বললেন,

-মা-ই-গ-ড! ইমু তোমার তো মাথায় সমস্যা আছে।

-জি, আমার স্ত্রীরও তাই ধারণা। সে কারণেই সে আমাকে বাসা থেকে বের করে দিয়ে সমস্যায় ফেলে দিয়েছে।

-তাহলে তোমার বউ তোমাকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছে, এটাই তোমার সমস্যা?

-না এটা সমস্যা না। আসলে বাসা থেকে আসার সময় মানিব্যাগটা আনতে পারিনি।

-তার মানে, তোমাকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছে, সেটা কোনো সমস্যা না। তোমার সমস্যা হলো তোমার কাছে টাকা নাই।

-না, টাকা না থাকাটা সমস্যা না। আর আমি এটা নিয়ে ভাবছিও না। আমি আসলে ভাবছি, বিল না দিলে এরা আমাকে আবার মাইর-টাইপ দেবে কি না।

-ও, তাহলে তুমি মাইর খাওয়া নিয়ে টেনশনে আছ?

-না, মাইর খাওয়া নিয়ে আমার কোনো টেনশন নাই। মাইর দিলে মাইর খাব। আমি ভাবছি, হাফপ্যান্ট বা টি–শার্ট না আবার খুলে রেখে দেয়।

-ওকে, এবার বুঝলাম। তাহলে তোমার মূল সমস্যা হলো তুমি ভয় পাচ্ছ, এরা হয়তো তোমার পোশাক খুলে রেখে দেবে। তাই তো?

-না, আমি এটা নিয়েও ভাবছি না। আর এটা কোনো সমস্যাও না। খুলে নিলে খুলে নেবে।

-ভাই রে, তোমার কাছে আমি ক্ষমা চাই। তুমি আমার মাথা খারাপ করো না। তোমার মূল সমস্যাটা কী আমাকে বলবে।

-আসলে আমি আন্ডারওয়্যার পরিনি। এরা যদি এখন প্যান্ট খুলে রেখে রাস্তায় নামায় দেয়। তাহলে...

-ছি, এগুলো কী আজেবাজে কথা বলছ। আন্ডারওয়্যার ছাড়া কেউ বাসার বাইরে আসে! আর এটা তুমি আমাকে বিশ্বাস করতে বলছ?

- আপনার বিশ্বাস হচ্ছে না? দাঁড়ান, আপনাকে খুলে দেখাই।

বলেই বসা থেকে দাঁড়িয়ে গেলাম। তারপর হাফপ্যান্ট খোলার জন্য প্যান্টের বোতামে হাত দিলাম। সঙ্গে সঙ্গে লিপি আপা চোখ বন্ধ করলেন,

-না না, তোমার খুলে দেখাতে হবে না। আমি বিশ্বাস করেছি। সত্যি বিশ্বাস করেছি।

-বিশ্বাস করার জন্য ধন্যবাদ। তবে আপনি চাইলে দেখতে পারেন। আমার কোনো সমস্যা নাই।

আমার কথা শুনে লিপি আপা অবাক হয়ে ভুরু কুঁচকে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন।

-এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন?

-ভাই, তোমাকে আমি যতই দেখছি, ততই অবাক হচ্ছি। ওকে, তোমার খাবারের বিল আমি দিয়ে দেব। তোমার এ নিয়ে কোনো টেনশন করতে হবে না।

-আপনি দেবেন? তাহলে কি আমি আরও কিছু খেতে পারি?

-আচ্ছা, খাও।

আমি আরও দুটো আইটেম অর্ডার দিলাম। একটু পরে ওয়েটার আমাকে এক কাপ চা আর এক বাটি আইসক্রিম দিয়ে গেল। আমি আইসক্রিমের পাত্রে চা ঢেলে দিলাম। তারপর চামুচ দিয়ে আইসক্রিমের সাথে ভালোভাবে চা মিশিয়ে খেতে লাগলাম। দেখলাম, লিপি আপা এবং ওয়েটার দুজনে অবাক হয়ে আমার খাওয়া দেখছে। আমি ওয়েটারকে আবারও চোখ টিপ মারলাম। তারপর গলার স্বর চিকন করে মেয়েদের মতো লজ্জা পাওয়ার ভঙ্গিতে বললাম,

-এই দুষ্টু, তোমাকে না বলেছি এভাবে তাকাবে না। তুমি তাকালে আমার জানি কেমন কেমন লাগে।

ওয়েটার আমার কথা শেষ না হতেই দৌড় দিয়ে পালাল। কারণ, সে এখন সিওর তার সতীত্ব হুমকির সম্মুখীন। খেয়াল করলাম, লিপি আপা এখন বিস্ফোরিত চোখে অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। মনে হলো লিপি আপার চোখের মণি যেকোনো সময় বের হয়ে আসবে। লিপি আপা অবাক হয়ে প্রশ্ন করলেন,

-এটা কী হলো! তুমি ওয়েটারকে এটা কী বললে!

-না, তেমন কিছু না। এই একটু মজা করলাম।

-তাই? আচ্ছা, তুমি এভাবে চা-আইসক্রিম মিশিয়ে খাচ্ছ কেন?

-এটা আমার আরেকটি বিশেষ আবিষ্কার। ঘটনা হলো আমি বেশি গরমও খেতে পারি না, আবার ঠান্ডাও খেতে পারি না। তাই এই পদ্ধতি আবিষ্কার করেছি। খুবই মজা। খাবেন নাকি এক চামুচ?

বলেই চামুচে করে এক চামুচ তুলে লিপি আপার দিকে এগিয়ে ধরলাম।

-খবরদার, তোমার এই সব উদ্ভট আবিষ্কার আমার মাথায় ঢোকাবে না। আমি খাব না। ইমু তোমাকে একটা ভালো পরামর্শ দিই। তুমি একজন ভালো সাইকিয়াট্রিক দেখাও।

-আপনি কি আসলেই সিওর আমার মাথায় সমস্যা আছে?

-আমি এক শত ভাগ নিশ্চিত, তোমার মাথায় সমস্যা আছে।

খেয়াল করলাম, লিপি আপা কথা বলছেন আর আমার কাণ্ডকারখানা আবারও ভিডিও করছেন। প্রথমবার উনি যখন আমার ভিডিও করছিলেন, তখন আমার ভালোই লাগছিল। কারণ, তখন আমি আমার স্ত্রীর ওপর রেগেছিলাম। রাগের কারণে আমিও চাইছিলাম আমার স্ত্রীর শত্রুর হাতে কিছু অস্ত্র তুলে দিতে। কিন্তু এখন খিদে মিটে যাওয়ার কারণে বউয়ের ওপর আর রাগ নেই। এখন বউয়ের জন্য কেমন জানি একটু একটু মায়া লাগছে। আর বউ এর শত্রু মানে তো আমারও শত্রু। তাই এখন উনার ভিডিও করা দেখে আমি ভেতর ভেতর রেগে যাচ্ছি। লিপি আপা প্রশ্ন করলেন,

-তোমার কি খাওয়া শেষ? নাকি আরও কিছু খাবে?

-না, আর কিছু খাব না।

-তাহলে এবার বলো তুমি কি আমাকে চিনতে পারছ?

-কেন পারব না? আমি তো প্রথম দেখাতেই আপনাকে চিনতে পেরেছি। আসলে এতক্ষণ আপনার সাথে একটু মজা করছিলাম।

আমার কথা শুনে লিপি আপার চোখ-মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। তিনি আদুরে গলায় বললেন,

-তাই। বলো তো আমি কে?

-আপনি সিনেমায় কাজ করেন, তাই না? আমার যতটুকু মনে পড়ে, আপনি শাকিব খানের একটি সিনেমায় ফকিন্নির অভিনয় করেছিলেন। কী, ঠিক বলেছি না?

-থাক ভাই, তোমাকে আর কষ্ট করে আমাকে চিনতে হবে না। তার চেয়ে চলো, তোমাকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে আসি।

-বাসায় যেয়ে লাভ নাই। আমাকে ঢুকতে দেবে না।

-তাহলে তুমি এখন কোথায় যাবে?

-ভাবছি গুলিস্তান যাব।

-গুলিস্তান কেন?

-ওখানে গিয়ে মানুষের পকেট মারব। কারণ, খাওয়াদাওয়ার জন্য টাকা তো লাগবে। তবে সমস্যা হচ্ছে, আমার পকেট মারার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নাই। আমি সিওর ধরা পড়ব এবং গণধোলাই খাব।

লিপি আপা অবাক হয়ে আমার কথা শুনলেন। তারপর ব্যাগ থেকে টাকা বের করে দিলেন।

-তোমার পকেট মারতে হবে না। এই টাকাগুলো রাখো।

-না, আমি ভিক্ষে নেব না। শোনেন, এমনিতেই আপনি আমার অনেক উপকার করেছেন। আর লাগবে না। শুধু শেষ একটা উপকার করেন। আমি কি আপনার ফোনটি একটু ব্যবহার করতে পারি? একটা ফোন করব।

-অবশ্যই। নাও।

বলে উনার ফোনটি এগিয়ে দিলেন।

-লক খুলে দেন।

-আমার ফোন আনলক। আমি কোনো পাসওয়ার্ড ব্যবহার করি না।

-আপনি বসেন। আমি একটু কথা বলে আসি।

ফোনটি নিয়ে রেস্টুরেন্টের বাইরে চলে এলাম। মনের অজান্তেই মুখে একটি বাঁকা হাসি ফুটে উঠল। সময় নষ্ট না করে দ্রুত ফুটপাত ধরে হাঁটা শুরু করলাম। লিপি আপা আমাকে ভিডিও করেছেন না জানিয়ে। তার শাস্তি হিসেবে ফোনটি নিয়ে সটকে পড়লাম।

প্রায় বিশ মিনিট পর একটা ফোন এল। রিসিভ করলাম। লিপি আপা ফোন করেছেন। সম্ভবত কারও কাছ থেকে ফোন চেয়ে নিয়ে ফোন করেছেন।

-ইমু, তুমি কোথায়? আমি তো তোমাকে আশপাশে কোথাও দেখছি না।

- দেখবেন কী করে। আমি তো এখন অনেক দূরে। গুলিস্তান যাচ্ছি। পকেট মারতে হবে না?

-মানে কী! আমার ফোন তো তোমার কাছে।

-শোনেন, এই দুনিয়ার কোনো কিছুই আমার বা আপনার নয়। এসবই মায়া। কিছুই আমাদের সাথে যাবে না। আমরা একা এসেছি, একাই যাব।

 -ওই ব্যাটা, তোর পাগলামি রাখ। তোর পাগলামি তুই তোর বউয়ের সাথে করিস, আমার সাথে না। ভালোয় ভালোয় ফোন দিয়া যা, নাইলে কিন্তু তোর খবর আছে।

-তাই নাকি? আমার খবর? তা কোন চ্যানেলে সেই খবর দেখাবে, যদি বলতেন তাহলে আমিও একটু দেখতাম।

-ভাই রে, আমার ফোনটা দিয়ে যাও, প্লিজ। আচ্ছা, তোমার আসতে হবে না। আমিই আসছি। তুমি কোথায় আছ বলো।

লিপি আপার প্রশ্নের উত্তরে আমি সুর করে গেয়ে উঠলাম,

-নীল আকাশের নিচে আমি রাস্তায় চলেছি একা...।

-হারামজাদা তোরে যদি হাতের কাছে পাই, তোর পাগলামি আমি তোর... (অপ্রকাশযোগ্য) ঢুকায়ে দেব।

-নাউজুবিল্লাহ, আপনার মুখ তো খুবই খারাপ!

বলেই ফোন কেটে দিলাম। উনি আবার ফোন দিলেন। আমি বিরক্ত হয়ে ফোনের পাওয়ার অফ করে দিলাম।

হাঁটতে হাঁটতে নিউমার্কেটের সামনে চলে এলাম। ভাবলাম, বউরে একটা ফোন দিই। বউ ফোন রিসিভ করে হ্যালো বলতেই,

-হ্যালো, হবু তালাকি বউ কেমন আছ?

-এই বদমাশ, লিপি আপার ফোন তোমার কাছে কেন? উনি ফোন করে বললেন, তুমি নাকি উনার ফোন নিয়ে পালিয়েছ?

-আমি এখন নিউমার্কেটে। ভাবছি ফুটপাতে বসে ইঁদুরছানা দিয়ে মানুষের ভাগ্য পরীক্ষা করব। মানুষ যেমন টিয়াপাখি দিয়ে করে, সেই রকম। আর আজ রাতে ফুটপাতে ঘুমাব। নতুন একটা অভিজ্ঞতা হবে কী বলো? জীবনে সব অভিজ্ঞতারই দরকার আছে, তাই না?

-আমি তোমাকে প্রশ্ন করেছি, লিপি আপার ফোন নিয়ে পালাইছ কেন?

-প্রথমে ভেবেছিলাম, গুলিস্তান যাব। ওখানে গিয়ে পকেট মারব। কিন্তু আমার এই শরীরে গণধোলাই সহ্য হবে বলে মনে হয় না। তাই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছি। আচ্ছা, একটা মতামত দাও, পকেট কাটা নিরাপদ নাকি ইঁদুর দিয়ে ভাগ্য পরীক্ষা করা নিরাপদ?

-ওই পাগলের বাচ্চা পাগল। আমি তোরে প্রশ্ন করি কী, তুই উত্তর দেস কী? তুই লিপি আপার ফোন নিছিস কেন?

-উত্তর দিচ্ছি, গালি দিতে হবে না। তোমার সম্মান বাঁচাতে ফোন নিয়ে ফুটেছি। কারণ, উনি তোমার সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে চেয়েছিলেন। আমার প্রিয়তমা স্ত্রীর সম্মান নিয়ে কেউ গেম খেলবে, সেটা তো আমি হতে দেব না। হু হা হা হা হু হা হা।

-খবরদার, ভিলেনের মতো হাসবি না। আর শোন, আমি তোর কথার আগামাথা কিছুই বুঝিনি। তুই এগুলো কি বলতেছিস?

-শোনো, তুমি কিন্তু আমাকে বারবার তুই বলে সম্বোধন করছ। এটা অন্যায়। আর তা ছাড়া তুমি আমাকে এত প্রশ্ন করছ কেন? তুমি তো আমাকে তালাকই দেবা। যাকে তালাক দেবা, তার সাথে এত কথা বলা তোমার ঠিক হচ্ছে না। কারণ, এতে আমার প্রতি তোমার মায়া বেড়ে যাবে। তখন কিন্তু আমাকে তালাক দিতে তোমার কষ্ট হবে। আমি চাই না তোমার কষ্ট হোক। কারণ, আমি তোমাকে ভালোবাসি। সুতরাং ফোন রাখো।

-খবরদার, ফোন রাখবে না। আমার কথা এখনো শেষ হয়নি।

-কিচ্ছু করার নাই। কারণ, এটা আমার ব্যবসার সময়। তোমার সাথে কথা বলে সময় নষ্ট করা যাবে না। একজন কাস্টমার পেয়েছি। এখন ইঁদুর দিয়ে তার ভাগ্যপরীক্ষা করব। খুবই সস্তা। মাত্র পাঁচ টাকা। নতুন ব্যবসা। দোওয়া কইরো।

- তুমি কি সিরিয়াস!

-অবশ্যই সিরিয়াস। আমি সব সময় সিরিয়াস।

-শোনো, পাগলামি অনেক হয়েছে। তাড়াতাড়ি বাসায় আসো। কেক কাটব।

-বাসায় তো আমি আর যাব না। তুমি আমাকে বের করে দিয়েছ। যে বাসায় আমার এই দুই বাচ্চা থাকতে পারবে না, সে বাসায় আমি নাই। আমি এখন স্বাধীন। ভেবে দেখলাম, এই জীবনই ভালো। বৈবাহিক জীবন আসলেই অনেক জটিল। সুখে থাকো।

বলেই লাইন কেটে দিলাম। বউ সঙ্গে সঙ্গেই আবার ফোন করল। ফোন ধরলাম না। এরপর বউ অনবরত ফোন দেওয়া শুরু করল। না, এই মেয়ে বড়ই বিরক্ত করছে। এখন পয়সা কামাই করার সময়। এ সময় সম্ভাব্য তালাক হতে যাওয়া বউয়ের সাথে কথা বলে সময় নষ্ট করার কোনো মানে হয় না। তাই বাধ্য হয়ে ফোনই বন্ধ করে দিলাম।

বি. দ্রষ্টব্য:

গিফট মানেই যে সোনা-রুপা, ডায়মন্ড, আইফোন হতে হবে, তার তো কোনো মানে নেই? ভালোবেসে যা দেওয়া হয়, তাই তো গিফট, তাই না? কিন্তু আফসোস বউ বুঝল না।

বি. দ্রষ্টব্যের বি. দ্রষ্টব্য:

বিয়ের আগে ছেলেদের পাগলামি মেয়েরা খুব এনজয় করে, কিন্তু বিয়ের পর আর করে না। কেন??? এই ইঁদুরছানা যদি বিয়ের আগে দিতাম, হয়তো বলত হাউ কিউট। আর এখন ঘর থেকে বহিষ্কার। আফসোস।

বিজ্ঞাপন
দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন