বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ঘোষণা করা হয়েছে, আমরা আনন্দিত যে আমাদের প্রাক্তন ছাত্র এবং ইমেরিটাস অধ্যাপক আবদুলরাজাক গুরনাহ সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার ২০২১ পেয়েছেন। ঔপনিবেশিকতার অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে আবদুলরাজাক গুরনাহর আপসহীন সংগ্রাম এবং সংস্কৃতি ও মহাদেশীয় পরিসরে উদ্বাস্তু মানুষের কণ্ঠস্বরকে সাহসের সঙ্গে তুলে ধরার জন্য তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হলো। তাঁর অনেকগুলো গল্প আমাদের নিজস্ব লাইব্রেরিতে প্রথম খসড়া হয়েছিল। এটি বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ মানুষকে স্পর্শ করেছে।

আবদুলরাজাক গুরনাহ একজন তানজানীয় ঔপন্যাসিক, যিনি ব্রিটেনে বাস করেন। তার মাতৃভাষা সোয়াহিলি, কিন্তু তিনি ইংরেজি ভাষায় লিখে থাকেন। বুকার এবং কমনওয়েলথ রাইটার পুরস্কারের মনোনয়ন তালিকায়ও ছিলেন তিনি। নোবেল পুরস্কার প্রবর্তনের ৮৫ বছর পর প্রথম আফ্রিকান কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে পুরস্কারটি পান ওল সোয়েঙ্কা। এরপর আবদুলরাজাক কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান লেখক হিসেবে নোবেল পুরস্কার পেলেন।

default-image

আবদুলরাজাক গুরনাহ কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮২ সালে পিএইচডি করেন। তাঁর অভিসন্দর্ভ ছিল ‘ক্রাইটেরিয়া ইন দ্য ক্রিটিসিজম অব ওয়েস্ট আফ্রিকান ফিকশন’। এখানেই দীর্ঘদিন তিনি ইংরেজি ও পোস্ট কলোনিয়াল লিটারেচার বিভাগে অধ্যাপনা করেন। সম্প্রতি অবসর গ্রহণ করেছেন।

আবদুলরাজাকের জন্ম ১৯৪৮ সালে পূর্ব আফ্রিকার জানজিবারে, বর্তমান তানজানিয়ায়। ১৯৬৩ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে দেশটি মুক্ত হয়। কিন্তু আরব বংশোদ্ভূতদের বিরুদ্ধে অত্যাচার ও গণহত্যা শুরু হলে বহু মানুষ দেশ ত্যাগ করেন।
অধ্যাপক গুরনাহ ১০টি উপন্যাস ও একটি ছোটগল্পের বই লিখেই নোবেল পুরস্কার জয় করেছেন। ১৯৮৭: মেমোরি অব ডেপারচার, ১৯৮৮ পিলিগ্রিমস ওয়ে, ১৯৯০: ডটি, ১৯৯৪: প্যারাডাইস, ১৯৯৬: অ্যাডয়ামারিং সাইলেন্স, ২০০১: বাই দ্য সি,২০০৫: ডেজারসন, ২০০৬: মাই মাদার লিভড অন দ্য ফার্ম ইন আফ্রিকা (ছোট গল্প), ২০১১: দ্য লাস্ট গিফট, ২০১৭: গ্র্যাভল হার্ট, ২০২০: আফটার লাইভস তাঁর বই।

ইউনিভার্সিটি অব কেন্টের ইন্টারন্যাশনাল পার্টনারশিপস অফিসার ক্যাথরিন থম্পসন বলেন, ‘আমি ২০০৮ থেকে ২০১১ পর্যন্ত কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রিটিশ এবং আমেরিকান সাহিত্য পড়েছি। শেষ বছরে অধ্যাপক গুরনাহর নির্দেশনায়, আমি উত্তর ঔপনিবেশিক বিষয়ে একটি গবেষণাপত্র শেষ করেছি। ভ্রমণ, পরিচয় এবং স্থানচ্যুতির বিষয়গুলো অনুসন্ধান করেছি। একজন শিক্ষক হিসেবে গুরনাহ দয়ালু, ধৈর্যশীল ও উত্সাহী ছিলেন। তখন উত্তর ঔপনিবেশিক সাহিত্যের প্রতি আমার আবেগকে প্রজ্বলিত করেছেন। অধ্যাপক গুরনাহর সহায়তায় এ বছরের মধ্যে আমি একজন সমালোচক লেখক এবং চিন্তাবিদ হিসেবে আরও বিকশিত হয়েছি এবং একটি ডিস্টিংশন পেয়েছি। বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখকের কাছে শেখার সুযোগ পেয়ে আমি নিজেকে অত্যন্ত ভাগ্যবান মনে করি।’

default-image

আধুনিক সাহিত্যের শিক্ষক অধ্যাপক ডেভিড হার্ড বলেন, ‘আবদুলরাজাক গুরনাহ ঔপনিবেশিকতার নৃশংসতা সম্পর্কে শক্তিশালী কলম সৈনিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রধান ড. বশির আবু-মান্নেহ বলেন, আবদুলরাজাক গুরনাহর লেখা আমাদের স্থানচ্যুতি, সহিংসতা এবং সমসাময়িক অবস্থার চিত্র তুলে ধরে। ন্যায়বিচারের জন্য তিনি একটি অনন্যকণ্ঠ।’

সাহিত্যিক ফিওনা জোনস ভীষণ আনন্দিত। তাঁর মতে, ‘আবদুলরাজাক গুরনাহ একজন দুর্দান্ত প্রভাষক ছিলেন। তিনি সবসময় আমাদের চ্যালেঞ্জ করতেন এবং সর্বদা অনুপ্রেরণামূলক ছিলেন। এই পুরস্কারটি তাঁর প্রাপ্য। সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমি এই অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য তাঁকে আমাদের অভিনন্দন জানাতে চাই। তিনি আমাদের সবার জন্য অনুপ্রেরণা—একজন শিক্ষক হিসেবে, কেন্টের প্রাক্তন ছাত্র এবং উত্তর ঔপনিবেশিক সাহিত্যে এমন শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে।’
কেন্টের উপাচার্য অধ্যাপক কারেন কক্স বলেন, ‘আমি এই অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য আবদুলরাজাককে আমাদের গভীর অভিনন্দন জানাতে চাই। তিনি আমাদের সবার জন্য অনন্য অনুপ্রেরণা।

default-image

আবদুলরাজাক গুরনাহ রয়েল সোসাইটি অব লিটারেচারের ফেলো নির্বাচিত হয়েছিলেন। কর্মকালে তাঁর মুখোমুখি হওয়ার পর আমি অনুপ্রাণিত, খুবই অনুপ্রাণিত বোধ করলাম। আমি এখনও তাঁর কাছে অনেক কৃতজ্ঞ কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে আনন্দ মুখরতায় দেখা দিয়েছে অফুরন্ত প্রাণপ্রাচুর্য। সংকীর্ণতা থেকে মুক্তি ও অভিবাসীদের নিয়ে গর্ব করার এবং স্বতঃস্ফূর্ত অভিব্যক্তি প্রকাশের উল্লাসে মেতে উঠেছে সবাই, নিত্য নব উৎসব রচনায়।’

সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী ১১৮তম লেখক আবদুলরাজাক গুরনাহ। তিনি এক কোটি সুইডিশ ক্রোনার পাবেন। ৭৩ বছর বয়সী গুরনাহ ১০টি উপন্যাস লিখেছেন। এর মধ্যে ‘প্যারাডাইস’ অন্যতম। উপন্যাসটি ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসে ২০ শতাব্দীর গোড়ার দিকে তানজানিয়ায় এক কিশোরীর বেড়ে ওঠার গল্প বর্ণনা করা হয়েছে নিপুণভাবে।

নোবেল পুরস্কার প্রবর্তন করেন সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেল। তাঁর ইচ্ছা অনুসারে প্রতিবছর চিকিৎসা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। গবেষণা, উদ্ভাবন ও মানবতার কল্যাণে যাঁরা অবদান রাখেন, তাঁরা পান বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার। গত বছর সাহিত্যে এ পুরস্কার পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কবি লুইস গ্লিক।

লেখক: লন্ডন প্রবাসী সাংবাদিক, কবি ও কথাসাহিত্যিক

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন