বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এটা ছিল কিছু চিন্তাধারা ও ভালোমন্দের ওপর চোখের পলকে একটু ঝলক। আমার সেদিনের সে ঝলক ছিল অনেকের কাছে স্বপ্নের দৃশ্য, যা নতুন প্রজন্মের জন্য মিশন, ভিশন ও পলিসি।

আজ আর সেই ঝলক বা টাচ নেই, আজ তা বাস্তবে রূপ নিতে চলছে। আজ সেই কার্ডের মাধ্যমে বেচাকেনার ওপর পরিষ্কার একটি ছবি তুলে ধরব, যা শুধু স্বপ্ন নয়, বাস্তব জীবনের এক জ্বলন্ত উদাহরণ।

সুইডেনের শতভাগ কেনাকাটায় প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে এবং সুইডেন প্রযুক্তির দিক দিয়ে বিশ্বের ফ্রন্ট পেজে রয়েছে। ভিসা, মাস্টারকার্ড, আমেরিকান এক্সপ্রেস ও সুইচ অ্যাপসের ব্যবহারে এক অগ্রগামী জাতি হিসেবে বিশ্বে পরিচিত হতে চলেছে।
টেলিফোন, টেলিভিশনের ব্যবহারে কোনো এক সময় কেব্‌ল ছাড়া কথা বলা বা ছবি দেখা সম্ভব ছিল না।

default-image

আজ কেব্‌ল ছাড়াই আমরা টেলিফোন ও টেলিভিশন ব্যবহার করছি। প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির কারণে সবকিছুর পরিবর্তন শুরু হয়েছে। শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় শুধু অংশগ্রহণ নয়, টিকে থাকার জন্য অনেকে উঠে–পড়ে লেগেছে।
দেশে অরাজকতার মূল কারণ কী, তা যদি শনাক্ত করা না হয়, তবে কোনো দিনও সম্ভব হবে না দুর্নীতিমুক্ত পরিবার, সমাজ বা একটি দেশ গড়ে তোলা। যুগ যুগ ধরে ধর্ম, পুলিশ প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন—এসব সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান পৃথিবীর কোথাও কখনো অন্যায়কে দূর করতে পারেনি।

বরং পরিবার, সমাজ ও দেশে দুর্নীতি, অবিচার–অত্যাচারের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করেছে। বর্তমান পৃথিবীর সব সমস্যার যেমন চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণ, দুর্নীতি, ঘুষ, বাজেটে ফাঁকি, চিকিৎসায় ফাঁকি, কেনাকাটায় ফাঁকি, খাদ্যে ভেজাল—সবকিছুর মূলে কাগজের টাকা বিনিময় জড়িত।

সততার অবনতি বা অবক্ষয় রোধে সৃষ্টি হয় সিস্টেমের। মানব জাতিকে শাসন, শোষণ বা ভাষণে নয়, সিস্টেমের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। সিস্টেম বা পদ্ধতির পরিবর্তন করলে হাজার ইচ্ছা থাকলেও উপায় থাকবে না দুর্নীতি বা অন্যায় করার।

কেনাবেচা, আদান–প্রদান বা বিনিময় যখন নথিভুক্ত উপায়ে হবে, তখন হিসাবে গরমিল হলে বা দুর্নীতির মধ্যে অর্থ পাচারের চেষ্টা করলে সহজ উপায়ে তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

সুইডেনে আমি প্রতিদিন কোথায়, কখন, কাকে, কীভাবে কত টাকা দিয়েছি বা কী কিনেছি, সবকিছুর মনিটরিং হচ্ছে। নিচের স্ক্রিন শট ছবিটি আমার দৈনন্দিন অর্থনৈতিক ট্রানজেকশনের একটি উদাহরণ, যা আমি আমার ক্রেডিট কার্ডে কেনাবেচা করেছি। যদিও সুইডিশ ভাষা, তবুও সবার অবগতির জন্য স্ক্রিনশট ছবিটি লেখার সঙ্গে যুক্ত করলাম।

কাগজের টাকার মাধ্যমে কোনোরকম কেনাবেচা নেই এখানে, যা ঘটছে, তার সবকিছুই ডকুমেন্টেড হয়ে রয়েছে। বর্তমান যুগে সহজ উপায়ে নানা ধরনের যন্ত্রপাতির সাহায্যে কেনাকাটা বা মনিটরিং করার ব্যবস্থা রয়েছে। আমার প্রশ্ন জাতির কাছে, আসলেই কি আমরা পরিবর্তন চাই?

আমরা কি সবাই মিলেমিশে সুন্দরভাবে বসবাস করতে চাই নাকি যেমন আছি, তেমন থাকতে চাই? যারা সৎ পথে চলতে রাজি, তাঁরা বলবেন, ‘হ্যাঁ, আমরা পরিবর্তন চাই।’

বাংলাদেশ যেহেতু স্যাটেলাইট আকাশে পাঠিয়েছে, তাই প্রত্যাশা থাকতেই পারে, সেই প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো হবে। শুধু বাংলাদেশ নয়, আশপাশের দেশও কাগজের টাকা ধরে রাখতে চায়। এর কারণ একটাই, তা হলো দুর্নীতির সঙ্গে সংযুক্ত থাকা।

একই সঙ্গে লোকদেখানোর জন্য গঠন করা হয়েছে দুর্নীতি বিভাগ, যা ‘কাইন্ড অব গুড ফর নাথিং’। উদ্দেশ্য যদি সত্যিই দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া হয়, তাহলে কাগজের টাকাযুক্ত পদ্ধতির ব্যবহার ছেড়ে ক্রেডিট কার্ডে কেনাবেচা করতে কষ্ট কোথায়?

দেশের বাজেট প্রক্রিয়ায় বিশাল আকারে দুর্নীতি, যা দিন দিন বেড়ে চলছে। এসব সমস্যা থেকে রেহাই পেতে সিস্টেমের আবির্ভাব ঘটানো ছাড়া আছে কি অন্য কোনো সমাধান? আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে পুরো পৃথিবী কাগজের টাকার লেনদেন বন্ধ করে দেবে। তখন কালো টাকা কীভাবে সাদা হবে, তা আমি জানি না। তবে ধরা খেতে হবে, এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত। সরকারের উচিত হবে, দেশে কাগজের টাকা ধাপে ধাপে বন্ধ করা এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো। বাংলাদেশে এ ধরনের ব্যবস্থা হলে দরগায় মন দিতে হবে না, মিথ্যা ফকির সাজা লাগবে না, অন্তর থাকবে সুন্দর ও সাধনা বিফলে যাবে না।

যেহেতু বর্তমানে দেশে অঢেল পরিমাণ দুর্নীতি চলছে, তাই পুরো জাতির মনুষ্যত্বের অবক্ষয় ঘটে চলেছে। এর থেকে রেহাই পেতে হলে ডিজিটাল বাংলাদেশ নামে নয়, তা কামে দেখাতে হবে। জানি, প্রিয় দেশবাসীর অনেকেই আমার এ ধারণাকে অপছন্দ করবে। তবে এই অপছন্দই হবে নতুন প্রজন্মের জন্য বেঁচে থাকার এক স্বপ্ন। আমি বিশ্বাস করি, জন্মের সাধ মেটাতে ও মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকতে সততার বিকল্প নেই।
সবাইকে মরতে হবেই, শুধু কবে তা আজও অজানা।

ঘৃণা নয় প্রীতি, দুর্নীতি নয় নীতি, অন্ধকার নয় আলো; তাই তো পৃথিবী তোমারে বাসি ভালো। ভুবন কাঁদিবে আমি চলে গেলে, মধুর স্মৃতি হয়ে থাকবে আমার কর্মের ফল, যে কর্মের ফলে থাকবে না ঘৃণা, থাকবে শুধু সবার প্রাণঢালা ভালোবাসা—এটাই হোক সেই অজানা দিনগুলোকে সুন্দর করে সাজিয়ে–গুছিয়ে রেখে যাওয়ার নতুন স্বপ্ন ও সাধনা।

লেখক: রহমান মৃধা, সুইডেন। [email protected]

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন