default-image

বাসায় কেউ নেই।
আমি এবং আয়নায় দেখতে আমার মতোই একজন।
আয়না মিথ্যে বলে—আমার মুখের ডান পাশের তিলকে বলে বামে!
টিভির ভলিয়ম বাড়িয়ে অঝোরে কেঁদেছি (মিডিয়া কি মিথ্যে বলে?)৷
আমার কান্নার অনুবাদ করলে নিশ্চিত মার্কিনিরা আঁতকে উঠত! ২৩ ঘণ্টা বালিশের সঙ্গে চোখের তরল যোগাযোগ। আদুরে জামাইর হাতটাও অনাদরে ছুড়েছি অবহেলায়। ‘এত আবেগপ্রবণ হলে চলে নারের’ মতো অহেতুক যুক্তি খণ্ডনের কোনো ইচ্ছা এবং মানসিকতা এখন আমার নেই।

default-image


কীভাবেই বা থাকবে দেশ কিংবা দেশান্তরে থাকা ১৬ কোটি মানুষের একটাই সন্তান জিহাদ! আমাদের জিহাদ যে এক গভীর গর্তে নিমজ্জিত। কী কষ্ট হচ্ছে বাচ্চাটার!
এ যেন জিহাদের নিমজ্জন নয়, নিমজ্জন দেশের নিরাপত্তা–ব্যবস্থার৷ কত অপ্রতুল আমাদের নিরাপত্তা–ব্যবস্থা। সমগ্র জাতিকে আজ তার জীবনটা দিয়ে প্রমাণ করে গেল জিহাদ। শিশু জিহাদকে বাঁচাতে পারিনি আমরা। জিহাদের জন্য এ কোন পৃথিবী তৈরি করছি আমরা? ভয় হয়। নাগেরপাড়ায় বাড়ির দক্ষিণ কোণে জিহাদকে দাফন করার আগে বাঙালি জাতির জেগে ওঠা বিবেকটা যেন আর দাফন না হয়। কষ্ট হয়।
তবু সেচ্ছাসেবী সেই তিন যুবকের সদিচ্ছার তুলি দিয়ে এই কষ্টের ঘা শুকাতে চেষ্টা করি।
সুকান্তের সেই কবিতাটি আওরাই..
‘প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল
এ বিশ্বকে এ-শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি-
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।’
জাহান রিমা
ভ্যালেন্সিয়া কলেজ, ফ্লোরিডা, যুক্তরাষ্ট্র

বিজ্ঞাপন
দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন