default-image

বিয়েতে আমার বড্ড আপত্তি আছে। কারণ, সে পর্ব তো ভন্ডুল করিয়াছি সেই কত বছর আগেই। এখন যদি বিয়ের খেসারত উদিত হইয়া যায়, তবে মাথায় চুল না থাকিবার কারণে লাঠির আঘাত ডাইরেক্ট চামড়ায় গিয়া পড়িবে নিশ্চিত। সুতরাং এমন একজনকে চাহিয়া প্রস্তুত হইয়া রইলাম, যিনি বিয়ের দাবি লইয়া বারান্দায় আসিয়া অনশন না কইরা দূর হইতে শুধু প্রেমিকা হইয়া রইবেন।

আমার জীবনের যদি ‘হিমশিম’ শব্দটি নানি কর্তৃক যাঁতাকলে পিষিয়া তুষতুষ করিয়া ফেলিতে পারিতাম, তবে নিঃসন্দেহে অনেক ধনী প্রেমিকা আমার দরবারে আসিয়া প্রেমিকা হইবার লাগিয়া একটা প্রস্তাব উপস্থাপন করিতেন। কারণ, বিশ্বে এখনো অনেক দয়ামায়াময় প্রেমিকা আমার মতো একখানা প্রেমিকসংকটে দিনগুলি ফুরাইয়া ফেলিতেছেন।

তবে এটা ঠিক আমার যদি প্রেমিকের আসনে উপবিষ্ট না হইয়া প্রেমিকার আসনে নিবেশ বা বসার সুযোগ হইতো, তবে কারও না কারও প্রেমিকা হইয়া যাইতাম। কারণ, আমি হাতে কইরা সার্বক্ষণিক তরতাজা বেলি ফুল লইয়া ঘুরিয়া বেড়াইতাম। আর নীল শাড়ি পরিয়া খোঁপাতে লাল জবা লাগাইয়া ঘুরঘুর করিয়া চলিতাম। পায়ে বাঁধিয়া রাখিতাম পাতলা শব্দের ঘুঙুর, কপালে লাল টিপ দিয়া চোখে কাজল লেপটে লইতাম। যতক্ষণে নাহি পাইতাম প্রেমিক, ততক্ষণ লিপ্ত রইতাম সাজুগুজুর মঞ্চে।

default-image

কল্পনার জগৎ থেকে বাইরে চলিয়া আসিলাম এবং আমার বাস্তব জীবনে পদার্পণ করিলায়। তা হইলে তো আমার একজন প্রেমিকা দরকার। যে প্রেমিকার দেখারও শখ জাগিবে না আমার। তবে তিনি দূর থেকে তাঁর প্রেমিকের মতোই আমাকে নির্ণয় করিবেন এবং উপলব্ধি করিবেন।

বিজ্ঞাপন

এমন একজন প্রেমিকা চাই, যাহার উজাড় করা ভালোবাসা ভাসিয়া চলিবে শুধু আমাকেই ব্যাপিয়া। তিনি জল পান করিতে চাইলে স্বচ্ছ গ্লাসের জলে ভাসিয়া উঠিবে আমারই মুখখানা। জ্বরে আমার শরীর কাঁপিয়া উঠিলে দূর থেকে বসিয়া তিনি লইবেন তাঁহার কপালে জলপট্টি।

আপত্তি নেই, নেই কোনো অসদয়তা। সিগারেট খাইয়া ধোঁয়া ছাড়ুক আমার দিকে, মদ পান করিয়া মাতলামি করুক আমার নামে। তবুও যে আমি তাহার প্রেমিক। আমার তো একজন সেই রকম প্রেমিকার মতো প্রেমিকা চাই।

*লেখক: মাহফুজার রহমান, কেপটাউন, দক্ষিণ আফ্রিকা

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন