বিজ্ঞাপন

রমজান মাসের শেষ তারিখ চাঁদ দেখার সঙ্গে সঙ্গেই যে ঈদ শুরু হয়ে যায় এবং শাবান মাসের শেষ দিন সন্ধ্যার আকাশে চাঁদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে যে রোজার মাসের সূচনা হয়, সেটা বুঝেছি অনেক পরে, বড় হয়ে। সৃষ্টির শুরুতে অন্ধকারের গভীরেই আলোর জন্ম, আর তাই আরবি পঞ্জিকায় স্বাভাবিকভাবে দিনের আগে রাত আসে।

এ রচনা নিয়ে বন্ধু মাহবুবের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কয়েকটি প্রাসঙ্গিক বিষয় মনে পড়ল। আপনাদের সুবিধার জন্য সেগুলো জায়গায় জায়গায় যোগ করে দিয়েছি। এ জন্য মাহবুব ‘আরেকটি’ ধন্যবাদ পেতেই পারে। ‘আরেকটি’ বলার কারণ, এমন ধন্যবাদ আমার কাছে মাহবুবের সব সময়ই পাওনা থাকে। ঈদের প্রস্তুতি, উৎসব দিনের বেশ আগেই শুরু হয়ে যেত। আজ যত দূর মনে পড়ে, এ তোড়জোড় আরম্ভ হতো রোজার শেষ দিকে—হাতে মেহেদি পরা দিয়ে। আমরা যখন গ্রামের বাড়িতে বড় হচ্ছি, তখন আমাদের কোনো বোন বা চাচাতো বোনও ছিল না। তারা যখন দুনিয়ার আলো দেখেছে, তখন আমরা পড়ালেখার উদ্দেশে বাড়িছাড়া। মেহেদি জিনিসটি সাজগোজের বিষয় এবং একটি মেয়েলি ব্যাপার। স্বভাবতই এতে তাদেরই উৎসাহ বেশি থাকার কথা।

মাঝেমধ্যে ওই সময় যখন বড় ফুফু নাইয়র আসতেন, তখন ফুপাতো বোনদের নিয়ে মেহেদি উৎসব খুব জমত। ফুফু এবং কাজের মেয়েলোকেরা আদর করে, যত্ন করে আমাদের হাতে মেহেদি পরিয়ে দিতেন। আমি একটু অধৈর্য ছিলাম, কতক্ষণ পরপর আঙুল দিয়ে মেহেদিপাতার ‘পেস্ট’ সরিয়ে দেখতাম হাত লাল হচ্ছে কি না। এতে আমার হাতের মেহেদি লেপ্টে যেত। মেহেদির লাল কারুকার্য পরিষ্কার হয়ে হাতে ফুটে উঠত না, তাই হাত ধোয়ার পরে অন্যদের সঙ্গে যখন মিলিয়ে দেখতাম, তখন মন খারাপ লাগত। আমাদের বাড়িতে মেহেদি লাগানো যে শুধু মেয়েদের বা ছোটদের ব্যাপার ছিল তা নয়, আব্বা ও চাচাদেরকেও দেখতাম বাঁ হাতের কড়ে আঙুলের মাথায় এবং ওই হাতের তালুতে পূর্ণচন্দ্রের আকারে মেহেদি পরতেন। আমাদের দুই হাতের তালুতে বেশ বিস্তৃত কারুকাজসহ মেহেদি লাগানো হতো। কখনো কখনো আমরা দুই হাতের তালুতে চ্যাপ্টা করে মেহেদির ‘পেস্ট’ লাগিয়ে দিতাম। সে কাজ আমরা নিজেরাই করতে পারতাম এবং একে বলতাম জোড়মেন্দি।

যা–ই হোক, ফিরে আসি ঈদের দিনের কথায়। সন্ধ্যায় ঈদের চাঁদ দেখার সঙ্গে সঙ্গে রান্নাঘরে নানা জাতের পিঠা ও মিঠাই বানানো শুরু হয়ে যেত। আমরা ঘুমানোর আগেই কিছু খেয়ে নিতাম। তারপর বিছানায় যেতাম ঠিকই, কিন্তু ঈদের খুশিতে আর উত্তেজনায় চোখে ঘুম আসতে চাইত না। ফজরের আজানের আগেই উঠে যেতাম।

একান্নবর্তী পরিবার, আমরা সমবয়সী ভাইয়েরা, পাশের বাড়ি এবং গ্রামের অন্য ছেলেদের সঙ্গে গোসল করতে বাড়ির সামনে পুকুরে চলে যেতাম এবং ‘নূর নবী মক্কার পানি ঈদের গোসল করলাম আমি,’ এই দোয়া জপ করতে করতে ভালো করে গোসল সেরে জামাকাপড় পরে নিতাম। কাপড়গুলো আগেই ধুয়ে, শুকিয়ে, ভাঁজ করে বালিশের নিচে রাখতাম, তিন-চার দিন আগে। তখন বাড়িতে লোহার ইস্ত্রি এসেছে কি না, সঠিক মনে নেই, আসলে ওটা ছুঁয়ে দেখা এখতিয়ারের বাইরেই ছিল। পরিষ্কার জামাকাপড় পরে যখন ঘরে ফিরে আসতাম, তখনো চারদিকে অন্ধকার। এখানে একটি কথা বলে রাখি, ঈদের দিন নতুন জামাকাপড় পরার কথা জানতাম, তবে আমাদের ভাগ্যে তা জুটত না! কদাচিৎ নতুন কাপড় পেলেও এমন ঈদের কথা আমার মনে পড়ছে না, কিন্তু এতে মোটেও মন খারাপ লাগত না। কারণ, বলতে গেলে বাড়ির এবং গ্রামের সব ছেলেমেয়ের অবস্থাই ছিল তথৈবচ। ঈদের গোসলের এই অভিনব দোয়াটি কে শিখিয়েছিল, তা–ও মনে নেই। এর মানে কী? এটা আদৌ কোনো সহি দোয়া কি না ইত্যাদি প্রশ্ন তখন কোনো দিন কারও মনে জাগেনি, তবে এটা যে একটা পবিত্র দোয়া, এ ব্যাপারে আমাদের কারোরই বিশ্বাসে কোনো ঘাটতি ছিল না। আজ একা একা যখন সেই সব ঘটনা এবং স্মৃতিতর্পণ করি, তখন মনে মনে হাসি। সূর্য ওঠার আগপর্যন্ত সবাই জটলা বেঁধে বিছানায় বসে গল্পগুজব করতাম, হাসিঠাট্টায় মেতে থাকতাম।

সেকালের সেলামি

পুবের আকাশে আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ছেলেরা সব দল বেঁধে বাড়ির মুরব্বিদের যে যেখানে পেতাম কদমবুসি করতাম। বাবা, চাচা, মা, চাচিদের পর সব শেষে যেতাম দাদির ঘরে। দাদি বসে থাকতেন পিঠা ও মিষ্টিদ্রব্যের ভান্ডার হাতে নিয়ে।

সালাম করার পর দাদি আদর করে সবার হাতে তুলে দিতেন মিষ্টি–জাতীয় খাবার। খেতে খেতে নেচে নেচে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়তাম। তারপর একে একে গ্রামের এ ঘর–ও ঘর সব বাড়ি ঘুরে বেড়াতাম। মুরব্বিদের কদমবুসি করতাম আর বখরা পেতাম বিভিন্ন জাতের ঘরে বানানো পিঠা। দু–এক ঘর খাওয়ার পরেই পেট ভরে যেত। শেষের দিকে সাধলেও আর খাবার হাতে নিতাম না। সালাম করে খুশি মনেই খালি হাতে চলে আসতাম। খেতে খেতে ক্রমান্বয়ে আমাদের কাছে মিষ্টি–পিঠার প্রান্তিক উপযোগিতা কমতে কমতে যে শূন্যের নিচে নেমে আসত, সেটা বুঝেছি বড় হয়ে অনেক পরে, বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থশাস্ত্রের তত্ত্বকথা পড়তে গিয়ে, তবে কদাচিৎ কেউ একটা–দুটা সিকি–আধুলি হাতে তুলে দিলে মনে হতো যেন সাত রাজার ধন মানিক পেয়ে গেছি!
গ্রাম ঘোরা হলে বাড়িতে ফিরে আসতাম। এসে দেখতাম বাড়ির সামনে কাছারি ঘরের উঠানে লাইন ধরে ফকির–মিসকিনেরা দাঁড়িয়ে আছেন ফেতরা নেওয়ার জন্য। তাঁরা একে একে এগিয়ে আসছেন আর আব্বা বারান্দায় একটি পুরোনো কাঠের চেয়ারে বসে কাউকে সিকি, কাউকে আধুলি, আবার কারও হাতে টাকার নোট গুঁজে দিচ্ছেন। ফকির–মিসকিনেরা চলে গেলে আমি আব্বার আশেপাশ ঘুরঘুর করতাম। ভাবতাম, একটা সিকি–আধুলি তো আমাকেও দিতে পারে, কিন্তু দেয় না কেন? বাবা যে ফেতরা পয়সা আমাকে দিতে পারেন না, সেটা তখন জানলে তাঁর ওপর আমার এমন রাগ-অভিমান হতো না।

default-image

তারপর সবার সঙ্গে নামাজের জন্য ঈদগাহে যেতাম। নামাজ শেষে ঈদগাহের আশেপাশ দেখতে পেতাম সাদা টুপি মাথায় শুধু মানুষ আর মানুষ ছুটছে এলোপাতাড়ি। তার মধ্যে দুটি চিত্র স্পষ্ট আমার নজরে পড়ত। কোরবানির ঈদ হলে এক দল লোক দেখতে পেতাম ঘোরাঘুরি করছেন। তাঁদের গায়ে ময়লা–নোংরা ছেঁড়া কাপড়, মাথায় গামছা বাঁধা, এক হাতে বাঁশের লাঠি (কাঁধে করে চামড়া বয়ে নেওয়ার জন্য) আরেক হাতে ছালায় দড়ি, ছুরিছোরা ইত্যাদি। আর প্রায় সব ঈদেই থাকত আরেক দল, তাঁরা ফেরিওয়ালা। বেলুন, হাওয়ার মিঠাই, বাঁশের বাঁশি, লেবেনচুষ ইত্যাদি বিক্রি করতেন। নিজের পকেটে পয়সা থাকলে কিছু কিনতাম, না থাকলে মন খারাপ করে বাড়ি চলে আসতাম। পয়সার জন্য মানুষের ভিড়ে আব্বাকে খোঁজার বুদ্ধি থাকলেও সাহসটি ছিল না। ওই দুই দলের লোকদের ঈদের ময়দানে তখন একেবারেই বেমানান লাগলেও, অনেক পরে এসে বুঝেছি, তাঁরাও ঈদ–আনন্দের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

আল্লাহ এবং তাঁর রসুল ধর্মীয় অনুশাসনের সঙ্গে ‘তিজারত’কে একীভূত করে দিয়ে ইসলামকে আরও বাস্তবসম্মত ও জীবনঘনিষ্ঠ করে গড়ে তুলেছেন!
রোজার ঈদ হলে নামাজের পরে বাড়িতে বকরি জবাই হতো আর কোরবানির ঈদ হলে সঙ্গে একটা গরুও থাকত। বাড়ির বাইরের ঘরের সামনে একদিকে চলত গোশত কাটাকাটি। আরেক দিকে চলত ঈদগাহ কমিটির বিশাল মিটিং। ঈদগাহের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা ছিল আশপাশের পাঁচ গ্রামের পাঁচ পঞ্চায়েতের যৌথ মোয়ামেলাত। আব্বা ছিলেন এর মোতোয়ালি। তাই মিটিং বসত আমাদেরই বাড়িতে। উপস্থিত থাকতেন পাঁচ গ্রামের সব মাতবর। নামাজের পর ঈদগাহে যে চাঁদা তোলা হতো, তা আমাদের বাড়ির মিটিংয়ে গোনাগুনি হতো। গোনার পর পুরো টাকাই ঈদগাহের ইমাম ও সহকারী ইমামের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হতো। আমি কতক্ষণ গোশত কাটাকাটি দেখতাম, আবার কতক্ষণ মিটিং শুনতাম, ফলে কোনো কাজই ঠিকমতো হয়ে উঠত না।

ইমামদের টাকাটা আধা-আধি অনুপাতে ভাগ হতো, না অন্য রকম, তা বুঝতে পারিনি, আব্বাকে কোনো দিন জিজ্ঞেসও করিনি। ঈদের মিটিংটি বড় বলে পিঠা-সন্দেশ খাওয়ানো সম্ভব হতো না, কিন্তু পান-সুপারি আর গুড়গুড়ি হুঁকোর এস্তেমাল চলত বেহিসাব। জানতে বড় ইচ্ছা করে, হুঁকো, তামাক আর পান-সুপারির চল কি এখনো গ্রামদেশে আছে?

রান্নাবান্নার জন্য স্বাভাবিকভাবেই দুপুরের খাবারে দেরি হতো। তবে মজা করে ইচ্ছামতো পেট ভরে গোশত দিয়ে খাওয়াটা আমি খুবই উপভোগ করতাম! এমন উপাদেয় ও পর্যাপ্ত খাবার বছরে মাত্র দু-তিনবারই আমাদের কপালে জুটত।

বিকেলবেলা পাশের গ্রামে ফুফুর বাড়ি বেড়াতে যাওয়া ছিল ঈদ উদ্‌যাপনেরই একটি অংশ। সেখানে গেলে পেতাম সেমাই এবং মাঝেমধ্যে ‘আখনি পোলাও’ (বিরিয়ানির সিলেটি সংস্করণ)। হই-হুল্লোড় করে সন্ধ্যায় ফিরে আসতাম ঘরে। বাড়িতে কোরবানির ঈদের দুটি বিশেষত্ব ছিল। প্রথমটি হলো, যাঁদের নামে পশু কোরবানি করা হতো, তাঁরা কোরবানির গোশত রান্না হওয়ার আগে অন্য কিছু খেতেন না। দ্বিতীয়টি হলো, আমার দাদি গরম করে করে কোরবানির গোশত প্রায় এক মাস ধরে সংরক্ষণ করে রাখতে পারতেন। সে যুগে রেফ্রিজারেশনের কথা তো গ্রামদেশে কল্পনারও বাইরে ছিল। দাদি আরেকটি কাজ করতেন। ওই গোশত দিয়ে একেক দিন একেক পরিবার করে আমাদের গ্রামের সবাইকে দুপুরবেলা ভাত খাওয়াতেন এবং এ জিয়াফত সিরিজ চলত তিন–চার সপ্তাহ ধরে।

কী রোজা, কী কোরবানির ঈদ, এশার নামাজের পর বাড়িতে শুরু হতো ওই দিনের সব শেষ ও আসল উৎসব! গ্রামের সবাই যাঁর যাঁর ঘরে ঈদের জন্য যা রান্না হতো, তার একটি বড় অংশ নিয়ে আসতেন আমাদের কাছারি ঘরের সামনের উঠানে। কেউ নিয়ে আনতেন পোলাও, গরুর গোশত, কেউ রাঁধতেন খিচুড়ি, কেউবা আনতেন সাদা ভাত আর তার সঙ্গে খাসি অথবা মুরগির গোশতের তরকারি। ছোট–বড়, ছেলেমেয়ে, জোয়ান-বুড়ো সবার মিলনমেলা বসত আমাদের আঙিনায়। ছোট ছোট হারিকেন জ্বালিয়ে আলো-আঁধারির মাঝে আমরা সবাই একসঙ্গে ভাগ করে খাবারগুলো খেতাম।

কোনো কোনো সময় অন্ধকারের মধ্যে খাবারের পাতে যে পোকামাকড় পড়ত না, তা–ও নয়। আর পড়লেই–বা কী, এত কিছু দেখে ও বেছে খাওয়ার কি সময় ছিল আমাদের? খাওয়া শেষ হলে পুকুরে গিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে আসতাম। আজকাল দেশ–বিদেশে নামীদামি হোটেল, মোটেল ও কমিউনিটি সেন্টারে কত শৌখিন পার্টি হয়, খাওয়াদাওয়া হয়, কিন্তু ছোটবেলার সেই আনন্দ কোথাও খুঁজে পাই না!

সারা দিন হইচই করার পর ক্লান্ত হয়ে পড়তাম। তবু শুতে যেতে চাইতাম না। মনে হতো ঘুমাতে গেলেই তো আনন্দ হাতছাড়া হয়ে যাবে। অবশেষে আব্বার বকাবকিতে বিছানায় যেতে হতো। অবসন্ন শরীর নিয়ে বিছানায় শুলেই ঘুমিয়ে পড়তাম। ক্লান্তিতে আরামের লম্বা ঘুম ঘুমাতাম। মাঝেমধ্যে ঘুমের মধ্যে আগামী ঈদের স্বপ্ন দেখতাম।

সকালে ঘুম থেকে উঠলে দিন গুনতে শুরু করতাম কবে আসবে আবার ঈদ! খুশির ঈদ! প্রবাসজীবনে বউ-ছেলেমেয়ে নিয়ে আজও ঈদ করি, আজও আনন্দ পাই, এখনো দিন গুনি আবার কবে আসবে রোজা, কবে আসবে ঈদ, খুশির ঈদ! তবে সে দিনের সঙ্গে আজকের একটা পার্থক্য আছে। আজকের প্রত্যাশার সঙ্গে একটা জিনিস নিশ্চিত জানি, জীবনে যত ঈদই আসুক, ছোটবেলার সেই ঈদ আর আসবে না। সেই অনন্দও আর ফিরে পাব না। শৈশবের সঙ্গে চিরদিনের মতো হারিয়েছি তার আনন্দ-উচ্ছ্বাস। ফিরে পাব না সেই সময়, ফিরে পাব না সেই ঈদ, ফিরে পাব না সেই হাসি-খুশি আর কোলাহল! বলতে পারেন, কেন এমন অনুভূতি হয়? আমার ধারণা, আনন্দ অনুভব ও উপভোগের বেলা মানুষ বড়ই কৃপণ। নতুন প্রাপ্তি যতই হোক না কেন, পুরোনোগুলোকে ভুলতে চায় না, ছাড়তে চায় না আর চাইলে কি পারে?
বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখন যে দিকে গড়াচ্ছে, তাতে মনে হয়, যেদিন ছেলেবেলার মধুর মধুর স্মৃতিকথা বিসর্জন দিতে হবে, সেদিন বুঝি আর বেশি দূরে নয়! কেন বলছি শুনুন। আমার এক পাঠক বন্ধু এ লেখার আগের সংস্করণ পড়ে আমাকে যা লিখেছেন, তার সারসংক্ষেপ হলো এ রকম, ‘জনাব, আপনি যে বাংলাদেশে বড় হয়েছেন, সে বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়। এখন বাংলদেশের মানুষ আর গরিব নয়। এখানে এখন অনেক অনেক লোক আছেন যাঁরা প্রতিদিনই ঈদ করে থাকেন।’

আপনাদের মতো আমিও জানি, এখন দেশে অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পাড়া–প্রতিবেশী নিয়ে ঈদ করতে চান না। তাঁরা ঈদ এলে সপরিবার চলে যান কক্সবাজার, কূয়াকাটা আর যাঁরা আরও ধনী, তাঁরা যান ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর; এমনকি ইউরোপ-আমেরিকাতে গিয়েও তাঁরা ঈদ উদ্‌যাপন করে থাকেন। সবশেষে আপনাদের কাছে আমার একটি প্রশ্ন, যেদিন বাংলাদেশের সব মানুষ প্রতিদিনই ঈদ করবে, সেদিন কি আমার ছেলেবেলার সেই ঈদ, সেই স্মৃতি, সেই আনন্দ থাকবে, নাকি উন্নয়নের হাওয়ায় হারিয়ে যাবে? কথাগুলো লিখতে গিয়ে বুঝতে পারছি, আবেগে চোখ দুটো ভিজে আসছে!

লেখক: অর্থনীতির অধ্যাপক, টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটি; এডিটর, জার্নাল অব ডেভেলপিং এরিয়াজ

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন