বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দোকানে আসার পর অবশ্য মন ভালো হতে শুরু করে। আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কুশল বিনিময় হলো। ক্রেতারা আসতে শুরু করল। কাজের ব্যস্ততায় ভুলে গেলাম ঈদে একাকিত্বে অসহনীয় বেদনা। দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা হলো। দোকান বন্ধ করে রুমে ফিরে এলাম।

রাতে বাড়িতে ফোন করি। মা–বাবার সঙ্গে কথা বলি। তাঁরা জানতে চাইলেন, কেমন কেটেছে আমার ঈদ। আমি আমার বিষণ্নতা লুকিয়ে বললাম, ভালোই কেটেছে, তবে তোমাদের খুব বেশি মিস করেছি। দেশে তখন কেবল ঈদের আয়োজন শুরু। পরদিন সেখানে ঈদ। আমি দূর থেকে অনুভব করছিলাম, কী আনন্দেই না আছে আমার পরিবারের সবাই, অথচ আমি নিঃসঙ্গ পড়ে আছি দূরদেশে।

গত বছরের ঈদুল আজহার সময় আমি দেশে ছিলাম। ফলে পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপনের যে অপূর্ব আনন্দ, তা উপভোগ করতে পেরেছি। আবার কবে এমন আনন্দ ও উৎসবের পরিবেশে দেশে সবার সঙ্গে ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করতে পারব, তা কে জানে!

প্রতি ঈদের আগে মনে ইচ্ছা জাগে, এবার দেশে যাব এবং সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করব, কিন্তু পরে তা আর হয়ে ওঠে না। আমার ভাগ্যটাই এমন যে কাতারে কোনো ঈদ আমি উন্মুক্ত পরিবেশে অবসরে উদ্‌যাপন করতে পারিনি। বরং আমার প্রতিটি ঈদ কেটেছে কর্মক্ষেত্রে।

জীবন ও জীবিকার তাগিদে সব আনন্দ বিসর্জন দিয়ে ঈদের দিনটিও কেটে যায় কর্মক্ষেত্রে। ঈদের দিন কাজের ভেতর ডুবে ভুলে থাকতে চাই দেশে ফেলে আসা ঈদের রঙিন স্মৃতিময় দিনগুলো। নিজেকে সান্ত্বনা দিই, আমার এই শ্রমে আজ হাসি ফুটছে মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যদের মুখে, এমন সৌভাগ্য কজনের কপালে জোটে।

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন