বিজ্ঞাপন

শুরুতে সেদিন কর্মক্ষেত্রের আলোকময় ভালো খবরটা যখন এসেছিল, প্রায় একই সঙ্গে চলমান মহামারির অশুভ আঁধারটাও তখন দ্রুত গতিতে ধেয়ে পৌঁছায়। আলোর আনন্দটা ছাপিয়ে তাই আঁধারের ভীতিকর কষ্টটাই বেশি ভর করেছিল। কিন্তু বর্তমান বিশ্বে বিদ্যমান মানবজীবনের কষ্টকর অধ্যায়ে নিজের কষ্টটা খুব বেশি আতঙ্কের নয়। তবু অজানা আশঙ্কার যে ঝড় বয়ে যাচ্ছিল, এতে ছোট ছোট সন্তানদের জন্য বড়ই দুঃসময়, এতে সন্দেহ নেই।

অজানা আশঙ্কার এ ঝড়ে পরিবারে তখন কিছুটা লন্ডভন্ড অবস্থা। এ এক নতুন অভিজ্ঞতা। পরিবারে কর্মজীবী এই গবেষক বাবা-মায়ের ছোট ছোট তিন সন্তান। বাবার জন্য এ অসময়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ের চোখে বেশ কান্না ছিল, তার কথায়-পাপা আই অ্যাম ওরিয়েড অ্যাবাউট ইউ। বাবার উচ্চতায় প্রায় ছুঁই ছুঁই ১১ বছরের এ ছোট্ট মেয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনায় রোজাও রেখেছিল। ছোট দুজন সারা বাড়িময় দৌড়াদৌড়িতে ব্যস্ত, আর বাস্তবতা বোঝার বয়স হয়নি, তবে মায়াটা আছে। প্রথম বোঝা গেল, বাবার জন্য এই মায়ার অনুভূতিটা খুব অন্য রকম। অভয় দিতে বলি, মাগো, আঁধারটা কেটে যাবে। কষ্টের এ কালো অন্ধকার জীবনের একটি অংশ, কষ্ট আছে বলেই যখন আনন্দ আসে সেটাকে তখন উপভোগ করা যায়।

আদর-যত্ন দিয়ে সন্তানদের বড় করার আনন্দটাই শুধু উপভোগ করেছি এত দিন। কিন্তু এই বাবা-মায়ের জন্য ছোট সন্তানদের যে প্রচণ্ড মায়া আছে, তা অজানা ছিল। ক্লান্তিকর আঁধারটায় বাবার জন্য ছোট্ট সন্তানের কান্নাভেজা চোখে মায়ার অনুভূতিটা খুব স্পষ্ট টের পেয়েছি। এ মায়াটাতে আনন্দ পেয়ে অভয় দিতে তাই নিজের কান্নাটা লুকাতে হয়েছিল। দায়িত্ববোধের জায়গায় জীবনের অনেক কাজ শেষ হয়নি এটা এখন স্পষ্ট, এ জন্য আঁধার কাটিয়ে আলো ফোটার আশায় আমার বিশ্বাসটা খুব বেশি। আলো-আঁধারির খেলাটা ধীরে ধীরে শেষ হলো। আজ মনে হলো সুন্দর আলোটা ফুটেছে, সন্তানদের মুখে হাসিই এর বড় প্রমাণ।

জীবনের নতুন এ অভিজ্ঞতায় বয়ে যাওয়া অল্প অশুভ ঝড়ে ঘরের চার দেয়ালে নিজেকে গুটিয়ে রেখে সময় কেটেছে। অহেতুক ঝামেলা এড়াতে কর্মক্ষেত্র ছাড়া বিষয়টি কাউকে অবহিত করতে মন চাইনি। কিন্তু মনের মিল আর অন্তরের ভালোবাসায় পরিপূর্ণ কাছের বন্ধুরা আর আত্মীয়রা কীভাবে যেন জেনে যায়। এতে পাশে দাঁড়ানো পারিবারিক এই বন্ধু আর আত্মীয়দের মাঝে আছেন ড. আনোয়ার ভাই/পরিবার, ড. ফারুক ভাই/পরিবার, ড. রহিম ভাই/পরিবার, মঞ্জুর মামার পরিবার, ড. আলতাব ভাই/পরিবার ও ড. সাইফুল্লাহ ভাই। প্রতিনিয়ত খোঁজখবর নিয়ে অন্তরের ভালোবাসা দিয়ে আশার আলোর কথা বলে সাহস জুগিয়েছেন প্রিয় ড. মাহবুব ভাই, ড. রুহুল ভাই, আজিম, আনোয়ার চাচা, ইতি, আরিফ, আত্মীয় আর অনেক বন্ধু। দেশ-বিদেশে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে থাকা শুভাকাঙ্ক্ষীদের শুভকামনায় সুন্দর আলোর সময়টা ফিরে এসেছে। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ। অসংখ্য ধন্যবাদ অগণিত সব প্রিয় মানুষগুলোকে-বন্ধু, আত্মীয়, আর সব শুভাকাঙ্ক্ষীকে।

*লেখক: পিএইচডি, রিসার্চ সায়েন্টিস্ট (জৈব রসায়ন), টরন্টো, কানাডা

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন