বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অমূল্য: খুব জরুরি কিছু? না হলে আপাতত বাদই দাও। পরীক্ষার পরই বসা যাবে। ২৩ তারিখ তো পরীক্ষা শেষ, পরদিন চলো দেখা করি। খ্রিষ্টান মিশনারি স্কুলে। দুজনের বাসা থেকেই সমান দূরত্বে।

অভি: ভালো! ঠিক আছে। ওই দিনই দেখা হোক।
২৩ তারিখ বিকেলের দিকে দেখা করার সময় ঠিক করা হলো। সময়মতো চলে এল অভি।

অমূল্য: পরীক্ষা কেমন হলো?

অভি: ফাইনাল তো দিচ্ছি। কাজেই খারাপ হোক ভালো হোক, অত ভাবছি না।

অমূল্য: হ্যাঁ, কী কথা বলবে...বলো! মনে হচ্ছে, বেশ গুরুগম্ভীর আলোচনা হতে চলেছে।

অভি: হ্যাঁ, ওই রকমই ধরে নাও।

অমূল্য: কী খবর?

অভি: প্রাক্‌–নির্বাচনী পরীক্ষার সময় প্রশ্নপত্র ফাঁসের যে ঘটনা ঘটেছিল, তার জন্য দায়ী ছিলাম আমি!

অমূল্য: মানে?

অভি: হ্যাঁ, ওই দিন তোমার কাছে নোট আনতে গিয়ে রুমের ভেতরে গিয়ে দেখি কেউ নেই। আমি ভাবলাম, তুমি যেখানটায় বসো, ওখানেই তোমার নোট খাতাটা থাকবে। খুব দরকার ছিল বলে এখন নিয়ে ক্লাসের পরেই তোমাকে দিলাম। কিন্তু ওই সময় টেবিলের উপরে দেখলাম, পদার্থ বিজ্ঞানের প্রশ্নপত্র! কিছু না ভেবেই ওটা ওখান থেকে একটা সরিয়ে ফেলি। টাকারও দরকার ছিল। জানতাম, ওটা থেকে বেশ ভালো দামই পাব।

অমূল্য: আমার মাথায় আসছে না কিছুই। টাকা লাগলে আমাদের বলতে, সবাই মিলে ব্যবস্থা করতাম!

অভি: কেন? তুমি আমার সম্পর্কে অনেক কিছুই জানো না এখন! আমাদের মধ্যে ইদানীং দূরত্বের সুবাদে তুমি হয়তো কিছুই টের পাওনি। পাওয়ার কথাও না। আমি নেশা করছিলাম। এটার টাকা নিশ্চয়ই কোথাও থেকে জোগাড় হতো না।

অমূল্য: তারপরে কী হলো?

অভি: স্যার আমাকে দেখেছিলেন! কীভাবে তা আমার জানা নেই? উনি ভালোভাবেই জানতেন, তোমার সঙ্গে আমার সখ্যের বিষয়টা। ওনার চিন্তা ছিল আমাকে শাস্তি দিতে গিয়ে নিজের ছেলের নামও জড়িয়ে পড়তে পারে। বলতে পারো, পুত্রকে এসবের মধ্যে না জড়ানোর জন্যই উনি সব দায় মেনে নিয়েছেন।

অমূল্য: তোমার সঙ্গে বাবার এ ব্যাপারে কথা হয়নি?

অভি: হ্যাঁ, স্যার আমাকে ডেকে নিয়ে সব বলেছেন। আমার জন্য নেশা করার কথা বাবা-মাকে না জানিয়ে আপাতত নেশাগ্রস্তদের পুনর্বাসনকেন্দ্রে ভর্তি করিয়ে দিয়েছেন। এরপর থেকে বিগত কয়েক মাসে আমি অনেকটা পাল্টে গেছি। পরে আমার বাবাকেও সব খুলে বলেছেন। বিষয়টা যত জটিল হতে পারত, তা ওনার কারণে হয়নি। এমন শিক্ষক, বাবা পাওয়া আসলেই দুষ্কর। আর তোমাকেও কিছু জানাতে বারণ করেছিলেন অন্তত পরীক্ষা পর্যন্ত! কারণ সাম্প্রতিক সময়ে তোমার পরীক্ষার ফলাফলে অবনমন! এটা নিয়েও উনি বেশ চিন্তিত ছিলেন।

অমূল্য: এত কিছু ঘটে গেল, কিছুই টের পেলাম না! আমি অনেকবার ভেবেছিলাম, বাবাকে জিজ্ঞেস করব, কিন্তু সাহস হয়নি। মনে মনে ধরে নিয়েছিলাম, মোবারক বা সুবলের মধ্যে কেউ নিয়েছে! যেহেতু এত বছরের মনিব-চাকর সম্পর্ক, তাই বাবা চুপ করে গেছেন। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি ঘটনার মূল উৎস থেকে আমি অনেক দূরে দাঁড়িয়ে।

অভি: মোট কথা, স্যার আমাকে নতুন জীবনের আলো দেখিয়েছেন! আর সেই পথেই হাঁটতে শুরু করেছি। এ ঘটনা আমার জীবনের জন্য অনেক বড় আশীর্বাদ।

অমূল্য: আজকের দিনটা অনেক শুভকামনা বয়ে আনছে। খবর পেলাম, বড়দাদা অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার স্কলারশিপ পেয়েছে। আর এদিকে তোমার খবরটা পেলাম। চলো পোস্ট অফিসের ওদিক থেকে ঘুরে আসি। এর চেয়ে ভালো আর কিছু হতে পারে না যে তুমি হারানো পথ খুঁজে পেয়েছ।

নগরভবন হাসপাতালের জেনারেল কেবিন। সিট নম্বর ৩০৫।

অমূল্য বেডের পাশে বসে আছে। অভির বাইক অ্যাকসিডেন্ট হয়েছে। কাল কাজ থেকে ফেরার পথে। দুপুরে খেয়ে শোবার পর এখনো ঘুম থেকে ওঠেনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই চোখ খুলে অমূল্যকে দেখতে পেয়ে কিছুটা হতবাকই হয়ে গেল!

অভি: তুমি আবার কখন আসলে?

অমূল্য: এই তো আধ ঘণ্টা আগে। এখন কী অবস্থা? ব্যথা কেমন?

অভি: আছে। সারতে সপ্তাহখানেক লাগবে।

অমূল্য: হলো কীভাবে? সাইড দিতে গিয়ে?

অভি: হ্যাঁ, হঠাৎ একটা বাচ্চা ছেলে চলে আসল সামনে। ওকে বাঁচাতে গিয়েই...

অমূল্য: ঠিক আছে! আমি পারলে কাল আবার আসব। মৌমিতা কোথায়?

অভি: ও একটু বাসার দিকে গেছে। রান্নার কাজ সারতে। আজকে, কালকে ছুটি নিয়েছে।

অমূল্য: আচ্ছা, তাহলে ও আসা পর্যন্ত বসি, গল্প করি। মাথার বালিশটা একটু সরিয়ে পেছনে দিলে বেশ হেলান দিয়ে বসতে পারতে।

অভি: না, ঠিক আছে এভাবেই! তুমি কাজ থেকে এখানে?

অমূল্য: মহিনের কাছ থেকে খবর পেলাম তোমার।

সুস্থ হয়ে ওঠো, তারপর বেরিয়ে আসা যাবে কোথাও থেকে।

অভি: আরে না! অত সহজ, ছুটি পেলে আর কি? এমনিতেই বেশ কিছুদিন তো কাজ কামাই হচ্ছে।

অমূল্য: ব্যাপার না! ও কোনোভাবে ম্যানেজ হয়ে যাবে।

অভি: স্যার কেমন আছেন?

অমূল্য: আছেন মোটামুটি। নিয়মিত চেকআপ, ব্যায়াম করে যাচ্ছেন। মাও একই রকম। দুজনে একসঙ্গেই ডাক্তার দেখান সময় করে। মাসি আর মেসো কেমন আছেন?
অভি: চলে যাচ্ছে ওনাদেরও। বাবার তো ফার্মেসিতেই সারা দিন কেটে যায় আর মায়ের টিভি সেটের সামনে ইটিভি বাংলা দেখে।

গল্পে গল্পে বেশ আরও কিছুটা সময় কেটে যাওয়ার পর মৌমিতা রাতের খাবার নিয়ে ফিরে এল। সেই সঙ্গে অমূল্যও আজকের মতো চলে যাচ্ছে নিজ গন্তব্যে। শেষ...

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন