নতুন পাঞ্জাবি পরেছি। নামাজ পড়েছি। মা–বাবা, বড় ভাইসহ গুরুজনদের সালাম করেছি। পেয়েছি সালামি। আহা, কী ভালো লাগা। যা এখন শুধু স্মৃতির ডায়েরিতে জমা আছে। জীবিকার টানে পড়ে আছি প্রবাসে। হারিয়ে ফেলেছি সেই সোনালি মনোমুগ্ধকর সময়গুলো। কত দিন দেখি না মায়ের মুখ। মুঠোফোনে বৃদ্ধ বাবার কণ্ঠ যখন শুনি, তখন ভেতরটা এলোমেলো হয়ে যায়। যে বাবার কাছ থেকে যা চাইতাম, সেটা দুই দিন পড়ে হলেও পেয়ে যেতাম।

প্রবাসজীবনে মানুষ আর কতটা সুখে থাকতে পারে! প্রিয়জন, প্রিয় মানুষগুলো থেকে দূরে থেকে বছরের পর বছর পার করে দেওয়া, শুধু একটু ভালো থাকার জন্য। যাহোক আমার ঈদ মানেই হলো পরিবারের প্রত্যেক মানুষের হাসিমাখা মুখ। তারা ভালো থাকলে আমার ভালো লাগে।

সেই সঙ্গে আমি চাইব পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণের ঈদ হোক অতি আনন্দের। সবার মনে ঈদকে ঘিরে ভালো লাগা, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি হোক। বুকে বুক মিলিয়ে বেঁচে থাকুক পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষ।

প্রবাসী ভাই ও বোনদের জন্য রইল অফুরান শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। আমি জানি এবং বোঝার চেষ্টা করি, একজন প্রবাসী ভাই কতটা ত্যাগের বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করেন। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে যাচ্ছেন প্রবাসে। আমিও তাঁদের মধ্যে একজন। আমাদের সবার অসহায়ত্ব দূর হোক।

প্রিয় বাংলাদেশটা ভালো থাকুক। প্রবাসে ঘুম থেকে উঠে পত্রিকা পড়ি। দেখি প্রাণের বাংলাদেশকে। যখন চোখে পড়ে সাফল্যের খবর, তখন মনটা ভীষণ খুশি হয়ে যায়। আর যখন দেখি খুন, সন্ত্রাস, ধর্ষণ, তখন ঠিক তার উল্টোটা হয়। ভেতরে একটা চাপা কষ্ট অনুভব করি। দূরদেশ থেকে এটাই চাইব, প্রিয় দেশটা ভালো থাকুক। ঈদের আনন্দ ছুঁয়ে যাক প্রতিটি প্রাণে।

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন