default-image

এক কাপ চা কি শুধুই এক কাপ চা?
ভালোবাসা হলো গিভ অ্যান্ড টেক, অভিযোজন, কম্প্রোমাইজ! ফেইরিটেল ভালোবাসা যা আমরা খুঁজি, তা শুধু ফেইরিটেলেই থাকে। ভালোবাসা হলো স্বার্থের বিনিময়। প্রয়োজনের দাবি। দাবি, আকাঙ্ক্ষা আর প্রাপ্তির মিল না হলে, সে সম্পর্ক টেকে না।

ম্যাচুরিটি লাগে, ধৈর্য লাগে। অনেক হিসাব থাকে—পয়সা, ফ্যামিলি, সংসার, সমাজ, জেনেটিকস, মানসিকতা, দর্শনধারী। কথায় তো আছে, প্রথমে দর্শনধারী, তারপর গুণবিচারি! এত কিছুর হিসাব করি কিন্তু অবচেতনে। তাই না বোঝা ফ্যান্টাসিতে থাকি, আকাশ–বাতাস পাগল করা ভালোবাসার বুলিতে। যখন চাওয়া আর পাওয়া বা গিভ অ্যান্ড টেক দুজনের চাহিদা মোতাবেক হয় না, সম্পর্ক টিকবে না।

কবরীর কাছে অনেকেই আসবে—পয়সা, খ্যাতি, সৌন্দর্য, সামাজিক স্ট্যাটাস ইত্যাদির জন্য। কবরী ইকুয়াল পার্টনারশিপ চেয়েছে—তার পয়সার দরকার ছিল না, তবে তাকে কেউ নিংড়ে নেবে, সেটাও সে মানবে না। পোড়খাওয়া ম্যাচিউর মহিলা, তার সঙ্গে পার্টনারশিপের জন্য তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে পারে, এমন একজন দরকার ছিল। না তার সঙ্গে রেষারেষি পাল্লা নয়, মননে, মেধায়, পয়সায়, সমমনায়! সেই সমমনা মানুষ পাওয়া টাফ। একজনকে বোঝার মানসিকতা, ধৈর্য সবার থাকে না। মানুষ তাকে ব্যবহার করতেই চাইবে, আর তার সমসাময়িক সবাই নিশ্চয়ই তখন বিবাহিত! পাবে কাকে?

পয়সাওয়ালা কেউ হয়তো এমন কাউকে বিয়ে করবে বা করত, তার ইমোশনকে পাত্তা দিত না, হয়তো কাজকে সম্মান করত না। তার প্রয়োজনকে প্রায়োরিটি দিত না। হয়তো চাইবে, সংসার করুক, তার পক্ষে সেটা সম্ভব ছিল না! কবরী সবার ছিল, আমজনতার, নামেই সবাই চেনে। এমন মানুষ শুধু একজনের মনোরঞ্জনের জন্য নয়, সেখানে ইগো, ইনফিরিওরিটি বা সুপিওরিটি কম্পেক্স ইত্যাদির মিশেলে যেকোনো ব্যক্তিই তার জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলতে পারে; হয়তো তুলেছে।

বিজ্ঞাপন

ইকুয়াল পার্টনারশিপ, আমাদের কনসেপ্টে নেই। আমার মনে হয়, সেটাই তার না পাওয়ার দীর্ঘশ্বাসের কারণ। সিম্পল, নিজেকে জানা, কি চাই জানা, সেল্ফরেসপেক্ট করতে জানা মেয়েগুলোকে সামলে তাদের বন্ধু হয়ে তাদের পাশে থাকার মতো গাটস বাঙালিদের আছে কি? বা ছিল কি? বাঙালি পুরুষ মনিব হতে চায়, পার্টনারশিপের ডেফিনেশনে ঘোরতর আপত্তি তাদের। বউ সম্পত্তি। কবরী কারও সম্পত্তি হতে পারে না। ইনডিপেনডেন্ট মহিলা।

এক কাপ চা, শুধু এক কাপ চা–ই নয়, জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটু সময়। এটা আপনি যার তার সঙ্গে কাটাতে পারেন না। এক কাপ চা অনেক অর্থবহ। সেটা সুসময়ে হতে পারে, কষ্টের মুহূর্তে হতে পারে, হালকা বা রোমান্টিক মুহূর্তে হতে পারে; মানে আপনি আপনার জীবনের দুর্বল মুহূর্ত বা আনন্দ শেয়ার করছেন, শেয়ারিং পার্ট অফ লাইফ। এখন যদি আপনার দুঃখ বা সুখ কেউ না বোঝে বা তা তাদের ইগোর সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরি করে, তার মতো দুঃখ আর হয় না! বোঝার মতো মন না হলে চলে না। যেমন ধরুন, ছবি মুক্তি পেয়েছে, ভীষণ ব্যবসাসফল, স্বামী ব্যক্তি নাখোশ, কারণ, আপনি আরও ব্যস্ত হবেন। স্বার্থের দ্বন্দ্ব!

চায়ের কাপ তো কতই খালি হয়, উঠতে বসতে! পারসোনাল মুহূর্তগুলোর দাম, দায় দেওয়ার সামর্থ্য না থাকলে তেমন কারও সঙ্গে চা বা জীবন শেয়ার না করাই ভালো। তেমন কেউ না হলে পারসোনাল মুহূর্তে আমিও এক কাপ চা যার তার সঙ্গে শেয়ার করব না। কারও সঙ্গেই না। ইকুয়াল পার্টনারশিপে সেইম টেবিলে এক কাপ চা, যা একমাত্র পারসোনাল চা, আমার কারও সঙ্গে হতে পারে। কবরীর মতো স্ট্রং মেয়েদের এক কাপ চায়ের তেষ্টা কখনো মিটবে না। মেটার নয়।
জীবনের হিসাব বড়ই অকরুণ!
শারমীন বানু আনাম

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন