করোনা মহামারিতে চীন সরকার তাদের সীমান্ত বন্ধ রেখেছে। এতে চীনে বসবাসরত কর্মরত অনেকেই বিপাকে পড়েছেন। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে যাঁদের ভ্যালিড ওয়ার্ক পারমিট এবং ভিসা আছে তাঁরা চীনে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন। আর ওয়ার্ক পারমিট বা ভিসা শেষ হয়ে গেলে আবার রিনিউ করে নিতে হবে। আজকের লেখাটি তাঁদের জন্য, যাঁরা এখন চীনে আসবেন।

প্রথমেই আপনাকে ফ্লাইট–পূর্ববর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করোনা টেস্ট করে নিতে হবে। যেমন ধরুন আপনার ফ্লাইট ১৫ তারিখ, আপনি ১৩ তারিখ টেস্ট করে নেবেন। এখন বিএসএমএমইউ, আইসিডিডিআরবিসহ আরও কয়েকটি জায়গায় টেস্ট হয়। টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ এলে আপনার ভ্যালিড ভিসা, পাসপোর্ট, টেস্ট রিপোর্ট, টিকিটের কপি, হেলথ ডিক্লারেশন ফরম পূরণ করে দূতাবাসে ই–মেইল করতে হবে। সাধারণত দুই-তিন ঘণ্টার মধ্যে দূতাবাস আপনাকে ফিরতি ই–মেইল দেবে। সেটা আপনি প্রিন্ট করে নেবেন, বিমানবন্দরে কাজে লাগবে। সব ডকুমেন্ট দুই-তিন সেট করে কপি করে নেবেন।

ফ্লাইটের দিন একটু আগেই চলে যাবেন বিমানবন্দরে। প্রথমেই করোনা টেস্ট রিপোর্টটি ভেরিফায়েড করে নেবেন। কর্মকর্তারা আপনাকে একটি লাল রঙের ছোট একটি কাগজ দেবেন। সেটি নিয়ে বোর্ডিং পাস গ্রহণ করবেন। তারপর বহির্গমন ফরম পূরণ করবেন। ইমিগ্রেশনের একটু আগে দুজন পুলিশ কর্মকর্তা থাকবেন, তাঁদের দিয়ে আপনার রিপোর্ট, বোর্ডিং কার্ড, আর ছোট লাল কাগজটি চেক করে নেবেন। তারপর যথারীতি ইমিগ্রেশনে দাঁড়াবেন। শেষ করে আগের মতো ফ্লাইটের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে চলে যাবেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

চীনে নেমে প্রথমেই চীন সরকারের একটি কিউআর কোড থাকবে, সেটি পূরণ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে আপনার চীনের মোবাইল নম্বরটি সচল রাখবেন মোবাইল ডেটাসহ। সেটি সফলভাবে পূরণ করে করোনা টেস্টের জন্য চলে যাবেন। এখানে একটু বিপত্তি আছে। অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায় কোডটা ভালোভাবে পূরণ না করার কারণে স্ক্যান করলে কাজ করে না, সে ক্ষেত্রে আবার করে নিতে হবে। তাদের করোনা টেস্ট আমাদের থেকে একটু আলাদা। এরা কমপক্ষে ১০ সেকেন্ড ধরে দুই নাকের ভেতরে রাখবে এবং সেগুলো আমাদের টেস্টের থেকেও নাকের গভীরে প্রবেশ করায়, সঙ্গে গলা থেকেও নমুনা নেবে এবং রক্তও নেবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের দেশের চেয়ে অনেক বেশি ব্যথা পাওয়ার কথা এখানে। নমুনা দিয়ে লিফটে করে দোতলায় চলে যাবেন, সেখান থেকে ইমিগ্রেশন। মোটামুটি খালিই বলা চলে। শেষ করে ব্যাগ নিয়ে বাসের জন্য সিরিয়াল দেবেন। বাসের জন্য কোনো টাকা দিতে হবে না। বাস একবার পাল্টাতে হবে, সেটা নিয়েও টেনশনের কিছু নেই। সেখান থেকে আপনাকে বিভিন্ন ডিস্ট্রিক্টের বাসে তুলে দেবে থিয়েন হা, ইয় সিউতে। এগুলো গুয়াংঝু শহরের মধ্যে আর নান শা, ঝান চাং শহর থেকে একটু দূরের কোনো ডিস্ট্রিক্টে যাবেন, সেটা আপনি ঠিক করে নিতে পারবেন। আমরা সবাই মিলে নানশাতে গিয়েছিলাম। বাসের আসনগুলো মনে রাখবেন। হোটেলে এসে নিজ কক্ষ ছাড়া আর কোথাও যাওয়া যাবে না! এক–দুই দিন পর করোনার রিপোর্ট আসবে। সেটা নেগেটিভ হলে ভালো, পজিটিভ হলেও চিন্তার কিছু নেই। নেগেটিভ হলেও ১৪ দিন হোটেলে থাকবেন, প্রতিদিন তাপমাত্রা মাপা হবে। আর পজিটিভ হলে হাসপাতালে পাঠানো হবে আপনাকে। সেখানে চিকিৎসায় ভালো হলে ১৪ দিন পরে ছাড়া পাবেন। হোটেল বা হাসপাতাল যেখানেই হোক খাবারের জন্য ওরা ব্যবস্থা করবে। কেউ চাইলে বাইরে থেকে আলামা, মেই থুয়ান অ্যাপ দিয়ে খাবার আনতে পারবেন। ১৪ দিন পর টেস্ট করে একটা রিলিজ লেটার দেবে, সেটা দিয়ে আপনি মুক্ত হয়ে গেলেন। ১৪ দিন সময় খুব কম নয়, আবার খুব বেশিও নয়। সব নিয়ম মেনে চলবেন আর মানসিক–শারীরিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নেবেন। আনন্দময় হোক আপনার আইসোলেশন।

* সহযোগী অধ্যাপক, গুয়াংডং ইউনিভার্সিটি অব ফিন্যান্স অ্যান্ড ইকোনমিকস, গুয়াংজহো, চীন

মন্তব্য পড়ুন 0