বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এক বছর আগে স্ট্রোক করে এক রুগী এসেছিলেন। ডান পাশ অবশ হয়ে গিয়েছিল শরীরের। একা থাকতেন তিনি। হাসপাতাল থেকে নার্সিংহোমে যাবেন। এমন ব্যস্ত দিনে রোগীটি রোদেলাকে বলেছিলেন, তার একজন মেয়ে আছে। বহু বছর আগে রাগ করে বাড়ি ছেড়েছিল। তাকে কি একটু জানানো যায়, তিনি তাকে খুব মিস করছেন। লিজ নামের রুগীর চোখে এমন এক আকুতি ছিল, উপেক্ষা করতে পারেনি রোদেলা।

default-image

সোশ্যাল ওয়ার্কারকে ডেকে বলেছিল, কোনোভাবে যদি খুঁজে আনা যায় মেয়েকে। তার সাত দিন পর ছিল কন্যা দিবস। রোগী নার্সিংহোমে যাবেন। তার আগে আগে কী মনে করে হাসপাতালের গিফট শপ থেকে হলুদ একগুচ্ছ বুনো গোলাপ রোদেলা কিনল। তারপর লিজকে দিতে গেল। ফুল দিয়ে কন্যা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে বাইরে আসতেই সোশ্যাল ওয়ার্কার হাসতে হাসতে এগিয়ে এল, রোগিনী লিজের মেয়ের খোঁজ পাওয়া গেছে। সে রোদেলার সঙ্গে কথা বলতে চায়, লিজের আপডেট নিতে চায়।
রোদেলা কথা বলতেই লিজের মেয়ে জানালো, টেক্সটের পাট চুকিয়ে চলে আসবে মায়ের কাছে সে। যতটুকু সময় লাগে, তত দিন তার মা নার্সিংহোমে থাকবেন। তারপর কান্নাভেজা কণ্ঠে জানাল, অসংখ্য ধন্যবাদ।

আজ আবার এসেছে সে দিবস। তাই লিজ তার মেয়ে আর নাতিসহ এসেছেন রোদেলাকে শুভেচ্ছা জানাতে। তারা একসঙ্গে থাকেন এখন। পুরোটা বাড়ি নাকি হলুদ বুনো গোলাপে সাজানো। লিজ অনেক ভালো আছেন। অল্প দূরত্ব হাঁটতেও পারেন। জীবনের সর্বসুখে তার নীল চোখ ঝকমক করছে।

রোদেলা একগুচ্ছ গোলাপ হাতে পার্কিং লটের দিকে হেঁটে চলেছে। এমন অসম্ভব সুন্দর দিন ওর জীবনে খুব কম এসেছে।

পৃথিবীর সব কন্যা তাদের মায়ের জীবন এত সুন্দর করে দিন।

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন