এক বিমর্ষ ঈদ! প্রকৃতির নিয়মেই বছর ঘুরে এল আবার ঈদ। প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদ এসেছে কিন্তু আসেনি আনন্দ। করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ থাবায় টালমাটাল পুরো দুনিয়া। এ ভাইরাসের সংক্রমণে বিপর্যস্ত জনজীবন। প্রতিদিনই দেশজুড়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত মানুষের সংখ্যা। লকডাউনের কারণে সব মানুষই প্রায় ঘরবন্দী। কারোই জানা নেই এর শেষ কোথায়।

অবরুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে পৃথিবীর ১৮০ কোটি মুসলমান। করোনা ক্রান্তিকালের এবারের ঈদ আনন্দ, সৌহার্দ্য ও যোগাযোগের জন্য ইতিবাচক নয়। করোনা সব বদলে দিয়েছে। চিরায়ত সমাজব্যবস্থা, ধ্যান-ধারণা, দর্শন সবকিছু। করোনায় অনেকে হারিয়েছে প্রিয়জন, অনেকে এখনো লড়ছে। মানুষের প্রাণ বাঁচাতে কারফিউ, লকডাউন দেওয়া হয়েছে ঈদের দিনেও। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে তাই সামাজিক দূরত্ব মেনে চলায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করতে হবে বলে ঈদ করতে হচ্ছে ভার্চ্যুয়ালি। সবার সঙ্গে স্বশরীরে দেখা করে নয়, মোবাইলে ভিডিও কলে কথা বলে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করছি। ঈদের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে উপভোগ করতে না পারাটাও হতাশাকে বাড়িয়ে তুলছে। পরিবারের কাছে থাকলে হয়তো চারদিকে চলা আতঙ্কটা কম অনুভব হতো। কিন্তু নিজেকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি পরিবার আত্মীয় স্বজনেরাও যেন সুস্থ থাকে সেই চিন্তা থেকে অনেকেই গ্রামের বাড়ি যাইনি, আমরা যারা দেশের বাইরে থাকি আমরা ঈদ আনন্দ উৎসব করতে অনেকেই দেশে যাইনি। এমন রংহীন, আনন্দহীন বন্দিত্বের ঈদ দেখে ঘুমহীন শিউরে উঠি। এ যেন অন্য রকম এক আনন্দহীন ঈদ।

এরপরও আশাবাদী একদিন এই মৃত্যুর মিছিল থেমে যাবে, ঘরে বন্দিত্বের শিকল থেকে মুক্ত হবে মানুষ, আবার নিরন্তর ছুটবে কাজে, ব্যস্ত হবে নগরী। সেই দিন আবার জমে উঠবে আনন্দের মেলা। আর একটু কষ্ট, একটু অপেক্ষা, একটু ধৈর্য—এইতো সুড়ঙ্গের ওপারে আলো। সেই দিন আবার দেখা হবে। সবাইকে ঈদ মোবারক।

*লেখক: পিএইচডি অধ্যয়নরত, সর্বন বিশ্ববিদ্যালয়, ফ্রান্স। tahidakhanom07@gmail.com

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন