default-image

কানাডার অভিবাসন পরামর্শকদের (ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট বা আরসিআইসি) বিষয়ে কিছু তথ্য কারও কারও কাজে লাগতে পারে। তাই এখানে কয়েকটি পয়েন্ট দিলাম।

ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট বা আইনজীবী ছাড়াই আপনি কানাডা ইমিগ্রেশনের আবেদন করতে পারেন। যদি আপনার পর্যাপ্ত জ্ঞান ও সময় হাতে থাকে, ইমিগ্রেশন প্রফেশনাল কোনোভাবেই আপনার আবেদন ত্বরান্বিত করতে পারেন না। আপনার কাজ ‘হয়ে যাবে’—এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার এখতিয়ারও তাঁদের নেই। দিলে তা বেআইনি।

ইমিগ্রেশন প্রফেশনাল আপনাকে ফি না নিয়ে কাজ করে দিলে তাঁর সঙ্গে কোনো লিখিত চুক্তি না করলেও চলে। কিন্তু তিনি যদি আপনার কাছ থেকে এক টাকাও ফি নেন, তাহলে লিখিত চুক্তি করতে তিনি বাধ্য। চুক্তি ইলেকট্রনিক্যালিও হতে পারে।

এ ধরনের চুক্তিতে কনসালট্যান্টকেই সই করতে হয়; তাঁর কোনো রিপ্রেজেনটেটিভ নয়। তাঁর নামের পাশে মেম্বারশিপ নম্বর থাকাও বাধ্যতামূলক। মেম্বারশিপ নম্বর শুরু হয় ইংরেজি বর্ণ ‘আর’ দিয়ে। এই নম্বরটি গুগলে দিয়ে সার্চ করলেই আপনি বুঝে যাবেন, এ আসল না নকল।

চুক্তিতে অনেক কঠিন শর্ত লুকিয়ে থাকে। তাই চুক্তির সবকিছু মনোযোগ দিয়ে না পড়ে ‘রাজি আছি’ বলবেন না। কেননা, আপনি কোনো কারণে কানাডার আইসিসিআরসির কাছে কনসালট্যান্টের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করলে তাঁরা চুক্তির বাইরে গিয়ে আপনার জন্য কিছু করতে পারবে না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই ঘটনাই ঘটে। আমি ইংরেজি বুঝিনি বলেও কাজ হয় না।

আইসিসিআরসি হলো কানাডার একটি সংস্থা, যা কানাডার রেজিস্টার্ড ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্টদের আচরণবিধি প্রণয়ন ও তাদের নিয়ন্ত্রণ করে। এটি একটি রেগুলেটরি বডি। এই বডিই কনসালট্যান্টদের লাইসেন্স দেয় বা ফিরিয়ে নেয়।

কিছু কিছু কনসালট্যান্ট আপনাকে ফ্রি ইনিশিয়াল পরামর্শ দিচ্ছেন দাবি করে তড়িঘড়ি আপনার সঙ্গে ফুল ইমিগ্রেশন আবেদনের চুক্তি করে কয়েক হাজার ডলার নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। অনেক সময় চুক্তিতে লেখা থাকে টাকা অফেরতযোগ্য। এ ধরনের অবস্থায় নিজেকে রক্ষার দায়িত্ব আপনারই।

এর চেয়ে বরং লিখিত চুক্তির মাধ্যমে ২০০ থেকে ৩০০ ডলার খরচ করে হলেও একটা সত্যিকারের ইনিশিয়াল অ্যাসেসমেন্ট করিয়ে নিয়ে আপনার প্রাথমিক যোগ্যতা বা এলিজিবিটি পরখ করে নেওয়াই উত্তম। উপযুক্ত বা এলিজিবল সাব্যস্ত হলে ফুল ইমিগ্রেশনের আবেদনে গেলেন, না হয় গেলেন না। এভাবে নিজেকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারেন।

রেজিস্টার্ড ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্টরা আপনার আবেদন কানাডার ইমিগ্রেশন অফিসে (আইআরসিসি) জমা দেওয়ার আগে উপস্থাপিত সব তথ্য সঠিক আছে বলে আপনার কাছ থেকে একটা লিখিত সম্মতি আদায় করে নেন। এ ধরনের সম্মতিতে স্বাক্ষর করার আগে শতভাগ নিশ্চিত হবেন যে আবেদনে আপনার সম্পর্কে যেসব তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে, তা সঠিক।

ভুল হলে তার পুরো দায়িত্ব কিন্তু আপনার, ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্টের নয়। ইমিগ্রেশনের ভাষায় এটাকে বলে ‘misrepresentation’. এ অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে আপনার আবেদন বাতিল তো হবেই, বরং আপনাকে কয়েক বছরের জন্য কানাডা প্রবেশে নিষিদ্ধও করা হতে পারে। এমন ঘটনা অনেক।

গুগল রিভিউ দেখে অনেকে কনসালট্যান্ট সিলেক্ট করেন। কিন্তু সব রিভিউ যে সত্যিকারের ক্লায়েন্টরা দিচ্ছেন, তা নাও হতে পারে। এ ব্যাপারে বিশেষভাবে সতর্ক থাকবেন। সবচেয়ে কার্যকর কারও মৌখিক রেফারেন্স। এ ছাড়া কনসালট্যান্ট সম্পর্কে আগে থেকেই আপনার ইতিবাচক ধারণা থাকলে তাও কাজে লাগাতে পারেন। ইন্টারনেটের তথ্য শতভাগ কোনোভাবেই বিশ্বাস করবেন না।

কানাডা সরকার নানাভাবে চেষ্টা করছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কানাডা আগমনে ইচ্ছুকদের কনসালট্যান্সি প্রতারণা থেকে মুক্ত রাখতে। একজন রেজিস্টার্ড কানাডীয় ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট ও সুনাগরিক হিসেবে আমিও ব্যক্তিগতভাবে তা চাই। তাই এ ধরনের কোনো প্রশ্ন থাকলে আমার সঙ্গে নিঃসংকোচে যোগাযোগ করতে পারেন। সাধ্যমতো সহায়তা দেব।

এম এল গনি: RCIC, R530501, ই–মেইল: <info@MLGimmigration.com>

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন