default-image

বহু ভাষায় নিরীক্ষামূলক নাটক ইন সানড্রি ল্যাংগুয়েজেস। কানাডার টরন্টোয় আকি স্টুডিওর মঞ্চে পরপর চারটি প্রদর্শনী হয়ে গেল নাটকটির। টরন্টো ল্যাবরেটরি থিয়েটারের এই নাটকটিতে প্রথমবারের মতো বাংলা ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের একজন অভিনেতা রিয়াজ মাহমুদ জুয়েলেরও মূলধারার কানাডিয়ান থিয়েটারে পেশাদার অভিনেতা হিসেবে অভিষেক হয়েছে নাটকটিতে অভিনয়ের মাধ্যমে।

টরন্টো ল্যাবরেটরি থিয়েটারের আর্টিস্টিক ডিরেক্টর আর্ট বাবামশাই নির্দেশিত ইন সানড্রি ল্যাংগুয়েজ নাটকটিতে স্কেচ কমেডির আদলে ও পোয়েটিক অ্যাবস্ট্রাক্ট ফর্মের ভেতর দিয়ে গল্পবয়ান করা হয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষা ও মানুষের গল্প, অভিবাসন, বদলে যাওয়া দেশ, দেশান্তর, ফিরে দেখা, শিকড়ের টান, বর্ণবাদ, নতুন ভূমির উপলব্ধি, জানা না-জানা, নতুন করে বাঁচা—এ রকম বহুমাত্রিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই নাটক।

default-image

প্রিভিউসহ মোট চারটি প্রদর্শনীর প্রতিটি প্রদর্শনীতেই হল ভর্তি দর্শক উপভোগ করেছেন নাটকটি। নাটকটির বিষয়বস্তু হিসেবে উঠে এসেছে বহু ভাষা ও সংস্কৃতির দেশ কানাডায় অভিবাসী হয়ে আসা মানুষের প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা। গল্প হিসেবে অভিনেতাদের জীবনের সত্যিকারের অভিজ্ঞতাগুলোই দর্শকের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।

default-image

কোনো প্রকার বাহুল্য নেই, এমনি মঞ্চে অত্যন্ত পরিচিত ঘটনাপ্রবাহ প্রত্যক্ষ করেছেন দর্শক। আর দর্শকের সামনে সাবলীল ঢঙে গল্পগুলো বাংলা, গ্রিক, অ্যারাবিক, স্প্যানিশ, ফরাসি ও হিব্রু ভাষায় উপস্থাপন করেছেন অভিনয়শিল্পীরা। অভিনয়শিল্পীদের সবাই কোনো না কোনো সময় বিভিন্ন দেশ থেকে কানাডায় এসেছেন। কিন্তু নাটকটিতে অত্যন্ত দক্ষতায় সেই মাইগ্রেটেড ও ভিন্ন ভাষার অভিনেতাদের অভিনয় প্রতিভার প্রয়োগ করা হয়েছে। অভিনয়শিল্পীরা প্রত্যেকে একে অপরের মধ্যকার নিজস্ব বোঝাপড়াকে চমৎকারভাবে মঞ্চে অনূদিত করেছেন। শারীরিক ভাষা ও ডিজিটাল মিডিয়ার সংযোজন অপূর্ব ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করেছে পুরো নাটকে। ফলে রিয়েলিস্টিক থেকে কাব্যময়তা ও মেটাফরিক অনুভবের মধ্য দিয়ে দর্শক পুরো নাটকের সঙ্গে একাত্ম থেকেছেন।

প্রদর্শনীতে হল ভর্তি দর্শকদের মধ্যে বাংলাদেশ কমিউনিটির বিপুলসংখ্যক দর্শক উপস্থিত হয়েছিলেন নাটকটি উপভোগ করতে। এদিন নাটকের প্রদর্শনীর পর ছিল বাংলা কবিতা ও নৃত্যের যুগলবন্ধনে একটি বিশেষ পরিবেশনা। টরন্টোর বাংলাদেশ কমিউনিটির প্রখ্যাত আবৃত্তিকার মেরী রাশেদীন ও নৃত্যশিল্পী অরণা হায়দার এতে অংশ নেন। টরন্টোয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির উদ্যোগ নিয়ে প্রাসঙ্গিক বক্তব্য দেন আইনজীবী চয়নিকা দত্ত।

default-image

২৫ ও ২৬ জুলাই ইন সানড্রি ল্যাংগুয়েজেস নাটকটির আরও দুটি প্রদর্শনী হবে স্টুডিও এন, নর্থ ইয়র্কে। সেখানেও বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন নাটকটির অন্যতম অভিনেতা রিয়াজ মাহমুদ জুয়েল। অন্য অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন আহমেদ সালেহ মোনেকা, লাভিনিয়া সেলিনাজ, মারিয়া করদোনি, আরফিনা লামি, ইউরি রুজিয়েভ, মারিও ও আর্ট বি।

এ ছাড়া ২০২০ সালে ইন সানড্রি ল্যাংগুয়েজেস নাটকটি পুরো কানাডায় ন্যাশনাল ট্যুর করবে। ওন্টারিও আর্টস কাউন্সিল, টরন্টো আর্ট কাউন্সিল ও কানাডা কাউন্সিল ফর আর্টসের সহযোগিতায় এবং ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে আগামী বছরের ন্যাশনাল ট্যুর সম্পন্ন হবে। এতে করে বহু ভাষা ও সংস্কৃতির বিশাল দেশ কানাডার অন্যান্য স্থানের দর্শকদেরও নাটকটি দেখার সুযোগ ঘটবে।

টরন্টো ল্যাবরেটরি থিয়েটারের প্রযোজনায় নির্মিত নাটক ইন সানড্রি ল্যাংগুয়েজের প্রদর্শনীকে সফল করে তুলতে ও মূলধারার থিয়েটারের সঙ্গে বাংলাদেশ কমিউনিটির দর্শকদের সম্পৃক্ত করবার জন্য সহযোগী প্রযোজক হিসেবে ছিলেন তাসলিমা শিমু।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন