default-image

কানাডার ম্যানিটোবা প্রদেশের রাজধানী উইনিপেগে ইতিহাস রচিত হতে চলেছে।

ম্যানিটোবা প্রদেশের রাজধানী উইনিপেগে উত্তর আমেরিকার প্রথম পূর্ণাঙ্গ শহীদ মিনারটির নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এই করোনা মহামারির মাঝে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ হবে। উইনিপেগের ‘কার্কব্রিজ পার্ক’ নামে একটি বিশাল বর্ধিষ্ণু কমিউনিটি পার্ক রয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব ম্যানিটোবার কাছে একটি অভিজাত আবাসিক এলাকার মধ্যে পার্কটি অবস্থিত। এই পার্কের জায়গাটি বিনা মূল্যে প্রদান করেছে উইনিপেগ সিটি গভর্নমেন্ট।

উইনিপেগ সিটি গভর্নমেন্ট, ম্যানিটোবা প্রাদেশিক সরকার, উইনেসকো ও বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা শহীদ মিনার তৈরিতে অর্থায়ন করছেন। শহীদ মিনার নির্মাণে ব্যয় হবে ১ লাখ ৫০ হাজার কানাডিয়ান ডলার (বাংলাদেশি টাকার এক কোটি টাকা)।

বিজ্ঞাপন
default-image

এর মাঝে উইনিপেগ সিটি গভর্নমেন্ট দিয়েছে ৯০ হাজার কানাডিয়ান ডলার, ম্যানিটোবা প্রভিন্সিয়াল গভর্মেন্ট ৪০ হাজার ডলার, বাংলাদেশি কমিউনিটি ২০ হাজার ডলার। এই স্থাপনাটির নাম হবে ‘ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাংগুয়েজ প্লাজা।’

কাঠামোগুলোকে শীতসহিষ্ণু ও পরিবাশবান্ধব রাখার কারণে গ্যাল্ভানাইজড স্টিলে মূল মিনারগুলো নির্মিত হবে। বেদি ও চারপাশের এলাকায় থাকবে কংক্রিট ও পাথরের নান্দনিক মিশ্রণ। সবুজ গুল্ম আচ্ছাদিত থাকবে চত্বর সীমানা। কানাডার আদিবাসী ভাষা-চিহ্নের স্মারক প্রস্তরের গাঁথুনিও থাকবে মূল বেদিতে।

অভিবাসীদের দেশ কানাডা। এই দেশে কমবেশি প্রায় ২০০ ভাষায় কথা বলে মানুষ। অফিশিয়াল ভাষা ইংলিশ এবং ফ্রাঞ্চ হলেও অন্য ভাষাগুলো দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে।

এমনকি কানাডার ফার্স্ট নেশনরা যে ভাষাগুলো ব্যবহার করতেন, তা–ও বিলুপ্তির পথে।

কানাডা সব সময় মাল্টি কালচারকে লালন করে। মূলত মাল্টি কালচারকে টিকিয়ে রাখার জন্য কানাডিয়ান সরকারের এই পদক্ষেপ। অন্যদিকে কানাডার প্রাদেশিক সরকার এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে ঘোষণা দিয়েছে এখন থেকে তারা সরকারিভাবে ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটি পালন করবে।

এই শহীদ মিনারটির নকশা করেছেন কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রকৌশলী মেজবাহুল তারিক। তিনি জানান, এই দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনারটি হবে কানাডার মাঝে একটি আকর্ষণীয় স্থান। এটি হবে মায়ের ভাষাকে টিকিয়ে রাখার জন্য একটি শপথের জায়গা।

বিজ্ঞাপন
default-image

২০১২ সাল থেকে এটি নির্মাণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকারের কাছে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা করা হয়। অনেক বাংলাদেশির অবদান রয়েছে এই শহীদ মিনার নির্মাণে। প্রথম থেকে যাঁরা এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাঁরা হচ্ছেন হেলাল মহিউদ্দিন, খাজা আব্দুল লতিফ, আব্দুল্লাহ কাফি, মাহমুদুন নবী, রওশন জাহান শম্পা, শরীফ ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম, সেলিম মমতাজ, কামরুল মিথুন এবং সঙ্গে কাজ করেছে ‘বাংলাদেশ ভবন’ নির্মাণ কর্তৃপক্ষ।

‘বাংলাদেশ ভবন’ নির্মাণ কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট খাজা আব্দুল লতিফ এটি নির্মাণে অর্থ ও জায়গা বরাদ্দের জন্য উইনিপেগ সিটি গভর্নমেন্ট, ম্যানিটোবা প্রাদেশিক সরকার, বাংলাদেশি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

মন্তব্য পড়ুন 0