বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আয়োজকেরা জানান, ২০১৯ সাল থেকেই এই আন্তর্জাতিক ম্যারাথনের আয়োজন শুরু হয়। তবে বাস্তবায়নটা থমকে যায় কোভিড-১৯ মহামারির কারণে। ২০২০ সালে ক্যালগিরি ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা সরাসরি না হয়ে ভার্চ্যুয়ালি হয়। এ বছরও ক্যালগিরি ম্যারাথন দৌড় দুটো ফরম্যাটে হয়েছে ভার্চ্যুয়ালি আর সরাসরি। তবে শুরু থেকেই একটা শঙ্কা ছিল আদৌ সরাসরি অনুষ্ঠিত হবে কি না। কিন্তু বাংলাদেশি তিন বন্ধু তাঁদের প্রশিক্ষণ বাংলাদেশ ও কানাডাতে সমানতালে চালিয়ে যাচ্ছিলেন। স্বপ্ন ছিল একটাই—ক্যালগিরি ম্যারাথনে বাংলাদেশের মানচিত্র বুকে নিয়ে দৌড়ে চলা।
প্রভিন্সিয়াল সরকারে কর্মরত স্বাস্থ্যবিজ্ঞানী খোকন চন্দ্র সিকদার বলেন, ‘কানাডার মাটিতে আমরা তিন বন্ধু বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক ম্যারাথনে অংশ নিয়ে একদিকে যেমন প্রিয় মাতৃভূমির প্রতি সম্মান জানাচ্ছি, অন্যদিকে দেশের মানুষদের অ্যাকটিভ লিভিংয়ে অভ্যস্ত হতে প্রেরণা জাগাতে চাচ্ছি।

বাংলাদেশের জেলায় জেলায় এমনকি উপজেলা শহরগুলোতে দৌড়, সাইক্লিংসহ বিভিন্ন অ্যাকটিভ জীবনযাপনের ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত। এতে করে প্রায় সব বয়সী মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস আবার ফিরে আসবে। অল্পতেই অসুস্থ হওয়া, ঘন ঘন ডাক্তারের সান্নিধ্যে আসার প্রয়োজনীয়তা কমে আসবে, যুবসমাজের মধ্যে ইভ টিজিংসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা কমে আসবে।’

‘২০২১–এর ক্যালগিরি ম্যারাথন’ দৌড় প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা বুকে ধারণ করে দৌড়ের স্বপ্ন নিয়ে প্রশান্ত রায় হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে সুদূর ঢাকা থেকে ক্যালগিরি যান। ৪২ দশমিক ২ কিলোমিটার শেষে ফিনিশ লাইনে এসে প্রশান্ত রায়ের অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি শুধু একটি কথাই বললেন, ‘স্বপ্নপূরণ সম্ভব হয়েছে শুধু বন্ধু খোকন সিকদারের একান্ত ইচ্ছায়।’

default-image

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্যালগিরি ম্যারাথন দৌড় ২০২১ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তুলে ধরতে পেরে প্রবল উচ্ছ্বসিত নবাংশু শেখর দাস বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগিরিতে পিএইচডি গবেষণারত। নবাংশুর কাছে দৌড়টা হচ্ছে মানসিক চাপ দূর করার এক বড় হাতিয়ার। তাই ল্যাবের কাজের ফাঁকে সুযোগ পেলেই এক চক্কর দৌড় দিয়ে আসেন।

নবাংশু শেখর দাস বলেন, ম্যারাথনে দৌড়ের চিন্তা ও উৎসাহ আসে সিকদারের ২০১৮ সালের উইন্টারে পরিচয়ের পর থেকেই। আর লাল–সবুজের পতাকা ওড়ানোর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ধাপগুলো চূড়ান্ত হয় প্রশান্ত রায়ের অংশগ্রহণের মাধ্যমে। তিনি বলেন, ‘প্রবাসজীবনে গত চার বছরের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে মনে করি পরিবার–পরিজন ছেড়ে এক নতুন সামাজিক ও একাডেমিক পরিবেশে অনেক সময়ই মানসিক অবসাদ চলে আসে। আর এর থেকে পরিত্রাণ পেতে অ্যাকটিভ লিভিংটা খুবই জরুরি।’

ম্যারাথনের ফিনিশ লাইন অতিক্রম করার পর নবাংশু বলেন, ‘বাংলাদেশের লাল–সবুজের পতাকা বুকে নিতে ফিনিশ লাইনে দাঁড়ানো ছিল আমার জীবনে অন্যতম শ্রেষ্ঠ অনুভূতি’। আগামীতে আরও ভিন্ন ভিন্ন ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ওড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করে নবাংশু আরও বলেন, ‘আমাদের এই বাংলাদেশি তিন বন্ধুর ফুল ম্যারাথনে অংশগ্রহণ ক্যালগিরি তথা বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি করবে বলে আশা করি।’

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন