বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কোভিড-১৯ প্রেক্ষাপটে দিবসটি উদযাপনের লক্ষ্যে রেস্টুরেন্টগুলো এদিন তাদের সেরা ডিশটি তৈরি করে বিভিন্ন হাসপাতাল, মসজিদ, গির্জা এবং দাতব্য প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্কুলের শিশু ও কোভিড মোকাবিলায় নিবেদিতপ্রাণ স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে বিতরণ করে দেন। এ লক্ষ্যে দেশসেরা শেফ ও নন্দিত রাঁধুনিদের তৈরি বেশ কিছু রেসিপি তুলে ধরা হয়েছে ব্রিটিশ কারি ডের নিজস্ব ওয়েবসাইটে (www.britishcurryday.org)। যেখানে ঢুঁ মারলেই যে কেউ জানতে পারবেন রেসিপিসহ সবকিছু সম্পর্কে।

এ বছর ব্রিটিশ কারি ডের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে ‘ব্যাক দ্য ভাজি’। এর মধ্য দিয়ে মূলত স্মরণ করা হয়েছে সেই সত্য যে জনপ্রিয় তথাকথিত ইন্ডিয়ান ডিশগুলো (যেমন, অনিয়ন ভাজি এবং চিকেন টিক্কা মাসালা) প্রকৃতপক্ষে তৈরি হয়েছিল ব্রিটেনের বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টকর্মী এবং শেফদের হাতেই। ব্রিটিশ রানির আনুকূল্যে ব্রিটিশ কুলিনারি শিল্পের মর্যাদা ও মাহাত্ম্য তুলে ধরতে এখন থেকে প্রতিবছর ৩ ডিসেম্বর ব্রিটিশ কারি ডে হিসেবে পালিত হবে। এর ফলে হাজার হাজার পাউন্ডের তহবিলও গঠন করা সম্ভব, যা কাজে লাগবে স্থানীয়, জাতীয় কিংবা আন্তর্জাতিক যেকোনো সংকটে।

default-image

তিল তিল করে এ শিল্প গড়ে তুলেছেন প্রায় অর্ধশতক আগে বাংলাদেশ থেকে সে দেশে যাওয়া আমাদের পূর্বপুরুষেরাই। তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন নিজেদের আর্থিক উন্নয়নের স্বপ্ন নিয়ে। একপর্যায়ে তাঁরা দুই দেশের স্বাদবিজ্ঞান ও রন্ধনকৌশলের অনন্য ফিউশন ঘটানোর মধ্য দিয়ে ভিত্তি রচনা করেন এ শিল্পের। এ বিষয়ে স্পাইস বিজনেস ম্যাগাজিনের প্রকাশক ও সম্পাদক এনাম আলি এমবিই বলেন, দুঃখজনকভাবে প্রথম প্রজন্মের কারি-গুরুদের অনেকেই আমাদের ছেড়ে গেছেন।

তা ছাড়া, মহামারির পরিপ্রেক্ষিতে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন আরও অনেকেই। ব্রিটিশ সরকারের আমন্ত্রণে দূর জন্মভূমি ছেড়ে একদিন তাঁরা এসে পা রেখেছিলেন এই অচিন দেশে। পরে অদম্য মনোবল আর অমানুষিক পরিশ্রমের সুবাদেই তাঁরা আজকের এই সুবিশাল শিল্পকাঠামো গড়ে তুলতে সমর্থ হন। বাংলাদেশের জন্য তাঁদের অবদান অপরিসীম। প্রথম প্রজন্মের সেসব মানুষের জীবনে সুখ-বিলাসিতা ছিল না, সবই তাঁরা ত্যাগ করেছেন পরিবারের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য। তাঁদের সেই ত্যাগেরই ফসল এসব কারি-গুরুর উদ্ভাবিত ‘চিকেন টিক্কা মাসালা’ আজ ব্রিটেনের জাতীয় ডিশ।

  • লেখক: সিইও, কুল এক্সপোজার

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন