বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দুই পর্বের এ সাংস্কৃতিক পরিবেশনাটির প্রথম পর্বে বরেণ্য এ দুই কবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলামের সঞ্চালনায় দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত শ্রীপ্রিয়া রঙ্গনাথন এবং ইন্ডিয়ান আর্ট মিউজিয়ামের পরিচালক পদ্মশ্রী ড. কিম ইয়াং-শিক শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান করেন।
পরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পুত্রবধূ কল্যাণী কাজী ‘বিদ্রোহী’ কবিতার পটভূমি সম্পর্কে আলোকপাত করেন এবং বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়ার শিল্পীরা তাঁদের অনবদ্য নৃত্যের মাধ্যমে ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি উপস্থাপন করেন। সেই সাথে, ট্যাগর সোসাইটি অব কোরিয়ার সদস্যরা গীতাঞ্জলি থেকে কোরিয়ান ভাষায় রবীন্দ্রনাথের কবিতা আবৃত্তি করে শোনান। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে কবিগুরু ও কাজী নজরুল ইসলামের ষড়্ঋতুভিত্তিক সংগীত, কবিতা, নৃত্য ও যন্ত্রসংগীত পরিবেশন করা হয়।

default-image

রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে এবং তৎকালীন সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কবিগুরু ও কাজী নজরুল ইসলামের অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরেন। এ বছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপনের পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তীর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে বাংলা সাহিত্যের দুই দিকপাল দুই দেশের অভিন্ন সম্পদ, যা বন্ধুপ্রতিম এই দুই দেশকে এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। তিনি আরও বলেন, কোরিয়ার জনগণের নিকট কবিগুরু সুপরিচিত হলেও কাজী নজরুল ইসলাম ততটা পরিচিত নয় বিধায় দূতাবাসের এ সাংস্কৃতিক আয়োজন ছিল কবিগুরুর পাশাপাশি কাজী নজরুল ইসলামকে কোরিয়ার জনগণের নিকট পরিচিত করে তোলার এক ক্ষুদ্র প্রয়াস।

দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত শ্রীপ্রিয়া রঙ্গনাথন বলেন, কয়েক বছর ধরে সিউলের বাংলাদেশ দূতাবাস ও ভারতীয় দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে রবীন্দ্রজয়ন্তী উদ্‌যাপন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুই দেশের জাতীয় সংগীত রচনার পাশাপাশি দুই দেশের সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধ রচনা করেছেন। কবিগুরুর আদর্শ ও চিন্তাধারা বর্তমান প্রেক্ষাপটেও প্রাসঙ্গিক, যা ভবিষ্যতেও পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে। কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে তিনি বলেন, নজরুলের সাহিত্যকর্ম সুবিধাবঞ্চিত ও নিপীড়িত জনগণের অধিকার আদায়, বিপ্লব, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সাম্য ও স্বাধীনতার বার্তা বহন করে। এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে নজরুলের আদর্শ ও সাহিত্যকর্মের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন। ভারত সরকার কর্তৃক পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত ইন্ডিয়ান আর্ট মিউজিয়ামের পরিচালক পদ্মশ্রী কিম ইয়াং-শিক তাঁর বক্তব্যে বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্র ও নজরুলের অসামান্য অবদানের কথা উল্লেখ করেন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

কাজী নজরুল ইসলামের পুত্রবধূ কল্যাণী কাজী ‘বিদ্রোহী’ রচনার পটভূমি এবং তৎকালীন সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এর প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করে বলেন, এ কবিতা প্রকাশের পরপরই নজরুলের খ্যাতি বাঙালি সমাজে ছড়িয়ে পড়ে, যা তখনকার তরুণসমাজের মধ্যে আবেগ, অনুপ্রেরণা ও উন্মাদনার সঞ্চার করে এবং সামাজিক-রাজনৈতিক চেতনা ও মূল্যবোধকে জাগ্রত করে তোলে। তিনি বলেন, ‘বিদ্রোহী’ এমন একটি কবিতা যার তাৎপর্য ও প্রাসঙ্গিকতা অপরিসীম ও অম্লান।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বটি বাংলার ছয়টি ঋতুকে কেন্দ্র করে রচিত কবিগুরু ও কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত এবং কবিতার ওপর ভিত্তি করে নৃত্য, সংগীত ও যন্ত্রসংগীত পরিবেশন করা হয়। সিউলের বাংলাদেশ দূতাবাস, ট্যাগর সোসাইটি অব কোরিয়া, বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়া এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা এ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী এবং ‘বিদ্রোহী’ কবিতার শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠান পালনের মধ্য দিয়ে কোরিয়ার জনগণ কবিগুরুর পাশাপাশি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম এবং তাঁর সাংস্কৃতিক অবদান সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে উঠবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন