default-image

‘নীল আকাশের মেঘে ভেসে/ কাশফুলের ওই শুভ্র কেশে/ বাতাস জানায় মাতাল বেশে/ পুজো পুজো গন্ধ আসে।/ প্রবাস জীবন বছর শেষে/ কাজের ফাঁকে ওঠে হেসে...।’

স্বদেশের প্রকৃতির মতো শিউলি-কাশফুলে দেবীকে বরণ করতে না পারলেও থেমে থাকে না বিদেশের মাটিতে দুর্গোৎসবের আমেজ।

default-image

নীল আকাশে সাদা মেঘের আনাগোনা ও কোরিয়ার পরতে পরতে থাকা বাহারি রঙের সুসজ্জিত ম্যাপল পাতা অভিবাদন জানায় অসুরবিনাশিনী, দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে। শত ব্যস্ততার মধ্যেও সবাই একত্র হন পরম ভক্তিভরে দেবীকে আরাধনার নিমিত্তে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় পূজা-অর্চনা উদ্‌যাপন ও বৈদিক সংস্কৃতি তুলে ধরার জন্য এ বছর ‘পূজা পরিষদ’ নামে একটি নতুন কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটির জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার ইউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. হাসি রানী বাড়ৈকে সভাপতি ও ইপিএস কর্মী পঙ্কজ দত্তকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়।

default-image

নবগঠিত এই পূজা পরিষদের আয়োজনে প্রথমবারের মতো সিউলের দ্যাগাকসা বৌদ্ধমন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা ও সদস্যদের সার্বিক সহযোগিতায় কোরিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত বাংলাদেশ, ভারত, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী, অধ্যাপক, ইপিএস কর্মী ও ব্যবসায়ীরা সপরিবার এই পূজায় অংশগ্রহণ করেন।

শিশির চক্রবর্তী, ঋষি ভান্ডারি, দীপক কুমার মুখোপাধ্যায় ও মহেশ কৈরালার পৌরোহিত্যে দুর্গাপূজা করা হয়। পূজারি ও সমবেত ভক্তরা ধরিত্রীর মঙ্গল কামনায় পূজা, অঞ্জলি প্রদান ও প্রার্থনা করেন।

অঞ্জলি প্রদান শেষে স্বাগত বক্তব্য দেন পূজা পরিষদের সভাপতি ড. হাসি রানী বাড়ৈ, সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দত্ত, যুগ্ম সম্পাদক মৃদুল সোম ও কার্যনির্বাহী সদস্য সজীব কুণ্ডু।

default-image

দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশ ও ভারতের দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং নেপাল দূতাবাসের প্রথম সচিব উদ্দব নিউপানে উপস্থিত সবার সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতারা সমবেত সবার সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

প্রসাদ তৈরি ও পরিবেশনে সহায়তা করেন পঙ্কজ দত্ত, নয়ন কুমার দে, মৃদুল সোম, তারাপদ শর্মা, পিকে রায়, জয় প্রকাশ সেন, কাজল কর্মকার, অনুপ সরকার, পুষ্পক কুমার ধর, সুমন সাহা ও লোকনাথ চন্দ্র বর্মণ।

দুর্গোৎসবে সমবেত ভক্তদের জন্য আশুতোষ অধিকারীর নির্দেশনা, মনীষা সাহা ও শরৎচন্দ্র বর্মণের সঞ্চালনায় এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেন হাসি রানী ও সুস্মিতা নিশু। এ ছাড়া শিশুশিল্পী সোনিয়া, পারমিতা, মৌসুমী, শ্রুতি ও মৌমিতা নৃত্য পরিবেশন করে। ভজন কীর্তন পরিবেশন করেন বিলাস বিষু, বিবেক ধিমুলে, বাউলশিল্পী আশুতোষ অধিকারী। লালনসংগীত পরিবেশন করেন পৃথ্বী মল্লিক। কবিতা আবৃত্তি করেন সুদেব বিশ্বাস।

default-image

ঢাকের তালে তালে আরতি নৃত্য ছাড়াও সমবেত সবার আনন্দের জন্য শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, সন্ধ্যা আরতি ও ধর্মীয় কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ঢাক ও তবলায় সহায়তা করেন দীপ্র পাল ও শুভ্রনীল। বাঁশিতে ছিলেন হিমু মণ্ডল।

সব মিলিয়ে বলা যায়, দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে প্রত্যেক মানুষ যেন স্বদেশি আমেজে মেতে ছিলেন। এমন উৎসবমুখর পরিবেশ প্রবাসী যান্ত্রিক জীবনে এনে দেয় স্বস্তি ও প্রশান্তি। যা তাঁদের নতুন কর্মোদ্যমের শক্তি জোগায়।

বিজ্ঞাপন
দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন