default-image

দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময় দক্ষিণ কোরিয়ায় আমার প্রবাসজীবন কেটেছে, কোরিয়া নিয়ে অনেক চোখধাঁধানো, হৃদয়নিংড়ানো স্মৃতি রয়েছে। শত স্মৃতির ভিড়ে একটি স্মৃতি আনন্দিত, উদ্বেলিত, উচ্ছ্বসিত করে, সেটি হচ্ছে তুষারপাতের স্মৃতি, একাকী বা দল বেঁধে কত তুষার পড়ার দৃশ্য উপভোগ করেছি, তার অন্ত নেই। নীরবে–নিভৃতে তুষার পড়ার মনোরম দৃশ্য দেখে অভ্যস্ত; কোরিয়ায় প্রতিবছর তুষারপাত উপভোগ করেছি।

কোরিয়া যেভাবে তুষারের স্মৃতি আছে, সে রকম প্রাণচাঞ্চল্য তুষারপাতের দৃশ্য উপভোগ করছি জার্মানিতে।

কোরিয়া টু জার্মানি তুষার যেন প্রেমসারথি। ইউরোপের শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ জার্মানি বর্তমানে করোনার ছোবলে বিপর্যস্ত শুধু নয়, একই সঙ্গে ১৪ ফেব্রুয়ারি (ভালোবাসা দিবস) পর্যন্ত লকডাউন। স্বাধীন, মুক্তচিন্তার দেশটিতে করোনার কারণে সরকার নানা বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইউরোপের কয়েকটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রেখেছে। বেকারত্ব বৃদ্ধি, করোনার প্রাদুর্ভাব—সবকিছু মিলিয়ে আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সরকার কঠিন এক চ্যালেঞ্জের মুখে।

বিজ্ঞাপন
default-image

জরুরি প্রয়োজনে লোকজনের বের হওয়ার অনুমতি আছে, কিন্তু আতঙ্ক, আশঙ্কা, ভয়, করোনার নতুন মিউটেশন নেটিজেনও ফরেনারদের ভাবিয়ে তুলেছে। এত সব সমস্যা ছাপিয়ে তুষারপাত উপভোগ করছেন সবাই। জার্মানিতে আসার পর থেকে আমি নিজেও লকডাউনের কবলে, অনলাইনে ক্লাস করা, একান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া ছাড়া তেমন কাজ নেই। কিসের অপেক্ষায় যেন দিন গুনছি।

অপেক্ষা, অবশেষে এল সেই দিন, সে মুহূর্ত। নতুন করে তুষার দেখা, তুষারপ্রেমে মেতে উঠেছি জার্মান শিশুদের সঙ্গে। তুষারের স্পর্শ দীর্ঘ দুই মাসের গুমোট মুছে শরীর শিহরিত হয়ে ওঠে আনন্দে। শরীরজুড়ে তুষারের সেই স্পর্শ অনন্ত হৃদয় জাগিয়ে উঠল। তুষারের শুভ্রতা, বাতাস সব যেন বদলে দিল হৃদয়, তুষারের স্পর্শে পূর্ণতার ছোঁয়া পুরো হৃদয়ে, ফিরে এল নবপ্রাণচাঞ্চল্য, তুষার পড়ছে, নীরবে–নিভৃতে, নিঃশব্দে।

default-image

দুদিন ধরে নর্দান জার্মানির ব্রেমেনে অঝোর ধারায় তুষারপাত হয়েছে, এখন কনকনে বরফঠান্ডা বাতাস বইছে। আমি নেটিজেনদের মতো বাসা থেকে বের হয়ে, তুষার নিয়ে খেলেছি, ছবি তুলেছি, ঘুরেছি, নিজেকে একটু রিফ্রেশ করেছি। বলা চলে নর্দান জার্মানিতে গত দুই মাসে আট থেকে নয় দিন ভালোভাবে সূর্য উদয় হয়েছে, অধিকাংশ সময় মেঘলা পরিবেশ, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়েছে। দুদিন ধরে তুষারে অনেক ঘুরেছি, ভিজেছি, উপভোগ করেছি, মনে মনে বলছি, আগামীর পৃথিবী হোক তুষারের মতো শুভ্র, বিমুগ্ধ, স্বচ্ছ, ধবধবে, নির্মল। করোনামুক্ত পৃথিবী হোক, মানুষের পদভারে মুখরিত হোক প্রতিটি শহর, বন্দর। জয়গান হোক পৃথিবীর। তুষার দেখতে অনিন্দ্যসুন্দর। তুষার দেখতেই মন কাড়ে, এটি যেমন সত্য, তেমনি বরফেঢাকা পরিবেশ, ঠান্ডা বাতাস জীবনযাত্রা অনেকটাই লকডাউন করে দেয়। যেমনটা করোনায় করেছে।

বিজ্ঞাপন
দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন