বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী, সাহসী নেতৃত্বে বাঙালি জাতি আজ স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছে। ঘাতক চক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তাঁর স্বপ্ন ও আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি। অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় বাংলাদেশ হাইকমিশন আয়োজিত বঙ্গবন্ধু ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসের আলোচনায় বক্তারা এ মন্তব্য করেছেন।

আজ রোববার হাইকমিশনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ওই আলোচনা অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার সুফিউর রহমানসহ অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচকেরা জাতির জনকের কিংবদন্তি নেতৃত্ব ও অবদান নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁরা তাঁর প্রজ্ঞা এবং আপসহীন নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।

বিজ্ঞাপন

সুফিউর রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ আগস্টে নিহত সব শহীদের প্রতি শোকাহত চিত্তে গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। বঙ্গবন্ধুকে যুগোপৎভাবে ইতিহাসের সৃষ্টি এবং স্রষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাঙালি জাতির বাস্তবতা, স্বাতন্ত্র্য এবং আকাঙ্ক্ষার নিরিখে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতীয়তাবোধকে সুসংহত করেছিলেন। তিনি সাম্যভিত্তিক সমাজ ও মর্যাদাশীল দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

শোষকের বিরুদ্ধে শোষিতের সংগ্রামের যে নেতৃত্ব বঙ্গবন্ধু দিয়েছিলেন, তারই আদর্শ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া এবং অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী তরুণ প্রজন্মকে সোনার বাংলা বিনির্মাণে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠানে ‘মুজিব শতবর্ষ MUJIB YEAR 100’ শীর্ষক ওয়েবসাইটটির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। একটি প্রামাণ্য চিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সবাই বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড, বীর প্রতীক লাইব্রেরিতে বঙ্গবন্ধুর দুর্লভ কিছু ছবি পরিদর্শন করেন। উল্লেখ্য, বছরব্যাপী মুজিব বর্ষ পালনের অংশ হিসেবে এতে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক নেতা হিসেবে গড়ে ওঠা, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সব আন্দোলনে নেতৃত্বদান, তৎকালীন বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ও সখ্য ছাড়াও ব্যক্তি মুজিব ও পারিবারিক জীবনের মুজিবকেও প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছে।

এর আগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।

১৫ আগস্ট সকালে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু করা হয়। জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদনের জন্য বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন হাইকমিশনার সুফিউর রহমান এবং উপস্থিত সুধীজন।

বিজ্ঞাপন
দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন