default-image

‘ভুলব না’ অঙ্গীকারে নেদারল্যান্ডসের বাংলাদেশ দূতাবাস গণহত্যা দিবস পালন করেছে। দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য দূতাবাস কর্মকর্তা-কর্মচারী, তাঁদের পরিবারের সদস্য ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। দ্য হেগে দূতাবাস মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত গণহত্যায় আত্মদানকারী শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। পরে ‘জেনোসাইড ইন বাংলাদেশ অ্যান্ড দ্য কিলিং ফিল্ড’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্রটি প্রদর্শন করা হয়। প্রামাণ্যচিত্রটি দর্শনার্থীদের একাত্তরের সেই ভয়াল দিনগুলোয় ফিরিয়ে নিয়ে যায়, যখন হাজার হাজার নিরীহ ও নিরস্ত্র বাংলাদেশিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

আলোচনা অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসেবে ছিলেন বিকাশ বড়ুয়া চৌধুরী। তিনি পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর নৃশংসতা ও গণহত্যাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ইহুদিদের ওপর সংঘটিত গণহত্যা, রুয়ান্ডা ও কম্বোডিয়ায় সংঘটিত গণহত্যার বর্বরতা থেকে কোনো অংশেই কম নয় বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন গণহত্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে সবাইকে স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তির বিষয়ে সজাগ থাকার এবং একাত্তরের গণহত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের সম্মুখীন করার জন্য যার যার অবস্থান থেকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

default-image

আওয়ামী লীগের নেদারল্যান্ডস শাখার নেতা এমদাদ হোসেন মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র ‘ব্লকেড’-এর নির্মাতা ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ আরিফ ইউসুফ আলোচনায় অংশ নিয়ে জানান, বাঙালির গৌরব মুক্তিযুদ্ধকে বিশ্বমঞ্চে যথাযথভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যে তিনি আরও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করতে ইচ্ছুক।

দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ মুহম্মদ বেলাল তাঁর বক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদ এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি দ্য হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে), পারমানেন্ট কোর্ট অব আরবিট্রেশন (পিসিএ) ইত্যাদি সংস্থার সঙ্গে সবাইকে নিবিড় যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেন, যাতে ভবিষ্যতে বিশ্বের কোথাও এ ধরনের গণহত্যা সংঘটিত হতে না পারে।

default-image

রাষ্ট্রদূত সবাইকে গণহত্যার প্রমাণাদি, ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের বিবরণ যথাযথ সংরক্ষণের পাশাপাশি তা বিশ্বদরবারে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি সৃজনশীল উদ্যোগ বিশেষ করে ‘ব্লকেড’-এর মতো প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের অনুরোধ জানান। এর মাধ্যমে জনগণ বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার ভয়াবহতা সম্পর্কে অবহিত হতে পারবে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, নেদারল্যান্ডসের বাংলাদেশ দূতাবাস শান্তি ও ন্যায়বিচারের শহর হিসেবে পরিচিত দ্য হেগের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আদালতের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে অনুকরণের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই ১৯৭১ সালে সংঘটিত বাংলাদেশের গণহত্যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি লাভ করবে।

আলোচনা শেষে নিহত শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। বিজ্ঞপ্তি

বিজ্ঞাপন
দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন